মঙ্গলবার, অক্টোবর ৩১, ২০০৬

আমার দেশ

ইদানীং শিউরে ওঠাও ভুলে গেছি।
ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখার চেষ্টা করছি আসলে আমাদের দেশটায় কি হচ্ছে, কোন কূলকিনারা পাচ্ছি না। এরকম সহিংস্রতার মূলে আসলে কি আছে? যারা এভাবে ভাংচুর চালাচ্ছে, পিটিয়ে মানুষ মেরে ফেলছে- তাদের মানসিক গঠনটা দেখতে ইচ্ছে করছে। পত্রিকায় ছাপানো ছবিতে তাদের হাসিমুখ দেখে গা কেঁপে ওঠে, ওরকম আনন্দিত চেহারা নিয়ে কেমন করে মানুষ আরেকটা মানুষকে মেরে ফেলে?
মানুষের অসহিষ্ণুতা চলে গেছে চরম মাত্রায়। প্রাচীনকালের পৃথিবীতে নাকি গোত্রে গোত্রে মারামারি হতো, বড় নৃশংস সেইসব গল্প।
এখন গোত্র নেই, আমরা নিজেদের ভাগ করে ফেলেছি রাজনৈতিক দলে। দেশের রাস্তায় এখন যেসব দু'পেয়ে প্রাণীরা ঘুরে বেড়ায়, তারা নির্ঘাৎ কোন মানুষ নয়। তারা অতি অবশ্যই বিএনপি, আওয়ামি লীগ, জামাত বা জাতীয়-পার্টির ল্যাবে তৈরি করা বিশেষ প্রজাতির কোন প্রাণী। যাদের জিনেটিক কোডে খোদাই করে দেয়া হয়েছে অন্য দলের প্রাণী-হত্যার নির্দেশ!

ভীষন দুঃসময় কাটাচ্ছে এখন আমার প্রিয় জন্মভূমি। আমরা এখন তার সন্তানদের মনুষ্যত্ববোধের মাগফেরাত কামনা করার জন্যে হাত তুলে মোনাজাত করতে পারি।

শুক্রবার, অক্টোবর ২৭, ২০০৬

কঙ্কাবতী আখ্যান অথবা আমি ইহাকে যেমন করিয়া পাইলাম-


তোমার কথা শুনতে ভালো লাগে, বন্ধুরা বলে,
শোনায় তোমার কথা আমায় প্রায়।
তাই শুনলাম তোমার কথা গান শোনার ছলে,
শুনলাম- তোমাকে তাই।

অনেক কথা কত কথা কথকতার সুরে-
ভরে গেলো ভেতরটা আমার-
ইচ্ছে হলো বলতে কথা সুরের তালে তালে...
আমার ইচ্ছে হলো বাজাতে গীটার...।
মন আমার, মন আমার, মন আমার।

...... ভার্সিটিতে ভর্তির ছয় মাস পরে ক্লাস করতে গেছি। গিয়ে দেখি কাউকেই চিনি না। মহা সমস্যা। মুখ গোমড়া করে বসে আছি- কী যে করবো ভেবে পাই না কিছুই। হঠাত দেখি সজীব। বহুদিন আগে একবার কথা হয়েছিলো। ওর সঙ্গেই ঘুরলাম খানিক্ষণ, চিনলাম রুমাকে। আমি প্রাকটিক্যাল গ্রুপ-ট্রুপ কিছুই জানি না। অবশেষে জানলাম- গ্রুপ-সি।
প্রাকটিক্যাল ক্লাসে গিয়ে নাম এনট্রি করাতে খবর হয়ে গেলো। নওরীন ম্যাডামের কাছে জবাবদিহি করতে করতে জান শেষ। এতদিন কোথায় ছিলাম , ( আহা, যেনবা বনলতা! ), কেন আসিনি! বললাম হাবিজাবি অনেক কিছু। উনাকে তো আর বলা যায় না যে প্লান করেছিলাম এক বছর ঘুম দিবো শুধু- কিছুই করবো না!
শেষ পর্যন্ত মোটামুটি ঝামেলা শেষ হলো। কিন্তু আমার ব্যাচমেটদের কারো কোন খবর নেই। পরপর দু’ক্লাশ কেটে গেলো ্লাইড ক্যালিপার্স আর স্ক্রুগজ নিয়ে গুতোগুতি করতে করতে।
বুঝলাম এভাবে চলবে না। সজীব আর রুমা বুদ্ধি দিলো- কোন একটা ব্যাচের সাথে মিলে শুরু করে দিতে। তা-ই ভালো মনে হলো।
ছেলেমেয়ের আলাদা গ্রুপ ওখানে। তাই গেলাম একটা ছেলেদের গ্রুপে, বললাম, কিন্তু ওদের চারজন পুরো হয়ে গেছে। আরেকটা গ্রুপে গিয়ে দেখি ওখানেও কোন কোটা খালি নেই। কি যে করি! আমার বিভ্রান্ত চেহারা দেখে ভাস্করের ভীষন মায়া হলো। বললো,“ তুমি এক কাজ করো, ঐ যে মেয়েটাকে দেখছো- ওর পার্টনার অসুস্থ তিনদিন ধরে, তুমি বরং ওকে গিয়ে বলো।’
আমি তাকালাম। হ্যা, সত্যিই। আমিও গত দু’দিন দেখেছি ভীষন মিষ্টি ঐ মেয়েটা একা একা খুব গম্ভির মুডে
প্রাকটিক্যাল করছে। কারো সঙ্গে কোন কথা নেই- শুধু মাঝে মাঝে নওরীণ ম্যাডামকে গিয়ে কি জানি জিজ্ঞেস করে আসছে।
এত গম্ভির একটা মেয়েকে গিয়ে কিছু বলবো- কেন জানি সাহসে কুলালো না। আমি ছেলেটার দিকে তাকাতেই সে একটা হাসি দিলো, যার অর্থ মোটামুটি এরকম, “ তুমি যাও, ভয়ের কিছু নেই।’

আমি গেলাম। বললাম। মেয়েটা রাজী হলো। খুব মনোযোগ দিয়ে
প্রাকটিক্যাল করা শুরু করলাম। অজানা রোধ নির্ণয় করতে হবে। আমি জকি নাড়াচ্ছি তারের এ মাথা থেকে ও মাথায়, ও রিডিং নিচ্ছে। মিটারের কাটা শূন্যতে আনতে হবে। ও “ডানে, আরেকটু ডানে, না না, বামে , আবার ডানে’..... এরকম বলছে.., আমি জকি সেট করছি .....। হঠাত কি হলো, মেয়েটা খিলখিল করে হেসে দিলো। আমি তো অবাক! “ কি হলো? ’’
ও হেসে বললো, “ ধুত্তোরি, মনে হচ্ছে তুমি যেন রিকশাওয়ালা, আর আমি তোমাকে ডানে-বামে ডিরেকশান দিচ্ছি!!’’

এ-ই হলো কংকাবতী। আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। এই অসাধারন মানুষটাকে আমি এমন করিয়াই পাইলাম।


মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৪, ২০০৬

সিনেমা সিনেমা


কোনরকম লুকোছাপা না করলে বলতে হয়, আমি নির্ঘাত ইটালিয়ান মুভির প্রেমে পড়ে গেছি!
আমাদের এখানকার ভিডিও ক্লাবে আলাদা একটা সেকশান আছে ওয়ার্ল্ড মুভিজ নামে। ওখানে খুঁজে টুজে দারুন সব সিনেমা পেয়ে গেছি। আমার বিশেষ করে ভাল লেগেছে ইটালিয়ানগুলো। আরো নানা দেশের আছে, ইরানি মুভি গুলো এখনো শুরু করিনি দেখা, তবে দেখবো নিশ্চয়।
পরে লিখব না হয়, যেগুলো ভাল লেগেছে, সেগুলো নিয়ে। এবং খুব শিঘ্রীই।

মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৭, ২০০৬

কাবুলিওয়ালা


কথিত আছে, মাছের পেটে ঢুকিয়া ইউনুস নবী ইসমে আজম জপিয়াছিলেন।
ড. ইউনুস কি জপিতেছেন কে জানে, কিন্তু আমাদিগের এই বঙ্গদেশীয় পেটে যে তাহাকে ভীষন বদহজম হইতেছে, অবিরত ভুটুরভাটুর শব্দে ইহা বেশ বুঝিতে পারিতেছি। এক্ষনে এই উভমূখী নির্গমণ ঠেকাইতে হাতের নিকটে ফ্ল্যাজিল ( ৫০০ এমজি) খুঁজিয়া না পাইয়া নোবেল নামক ট্যাবলেট গিলিয়াও শেষ রক্ষা হইতেছে না।
ট্যাগোর আংকেল মিনুকে রাখিয়া গিয়াছিলেন, তাহাকে পালিয়া পুষিয়া আমরা করিমন বেওয়া বানাইয়াছি। ভাঙ্গা ঘরের দাওয়ার পার্শ্বে লক্ষণ রেখা আঁকিয়া, উহাকে দারিদ্রসীমা নাম দিয়াছি, অতঃপর চতুষ্পদী ছাগলের পিঠে চাপাইয়া করিমন বেওয়াকে সেই সীমানা পার করিবার চেষ্টা করিয়াছি।
এইবার ছাগলে হোঁচট খাইলে, কেন উহাকে গরু কিংবা মরুদেশীয় দুম্বার পিঠে চাপানো হইলো না এই নিয়া কামান দাগি। ডিশুম ডিশুম!

সুধীজনেরা, অদ্য বাদ-জোহর এই ব-দ্বীপের মধ্যিখানে একখান বিশাল খন্দক কাটিবার আয়োজন করা হইয়াছে। উহাতে গলা পর্যন্ত ডুবাইয়া আজিকার কাবুলিওয়ালাকে মাটিচাপা দিয়া রাখা হইবে। আর আমাদিগের হাতে পাথরের পরিবর্তে দেয়া হইবে পাকা কদবেল।

এক্ষণে, সেই কদবেল ছুড়িয়া তাহাকে হত্যা করিব নাকি কদবেল ভাঙ্গিয়া আরাম করিয়া নুন দিয়া মরিচ দিয়া মাখাইয়া খাইব, ইহাই দেখিবার বিষয়!

সোমবার, অক্টোবর ১৬, ২০০৬

যুদ্ধের দেবতা-


ভিডিও ক্লাবের মেম্বার হয়ে গিয়ে গত ক'মাসে বেশ কিছু ভাল মুভি দেখা হয়ে গেল। এর মধ্যে কয়েকটা সত্যিই খুব ভাল লেগেছে।
এরকম একটা মুভি হলো লর্ড অব ওয়ার। নিকোলাজ কেজ-এর। আমার খুব পছন্দের একজন নায়ক।
আমার একটা অভ্যাস হলো, ছবি দেখার সময় আমি মোটামুটি একটা লিংক ফলো করে যাই। প্রথম যে ছবিটা দেখলাম, পরেরটা হয়তো একই নায়ক অথবা পরিচালকেরই ছবি হয়। অথবা নায়িকার। কোন নির্দিষ্ট কারন নেই অবশ্য, নিজের কাছেই মজা লাগে এরকম করে দেখতে।

এই ছবিটা পুরোপুরি রাজনৈতিক। অস্ত্রব্যবসা নিয়ে, অথবা বলা যায় যুদ্ধ নিয়ে যে ব্যবসা হয় দুনিয়া জুড়ে, তাই নিয়ে এই সিনেমা। একজন সাধারন মানুষ কেমন করে অস্ত্রব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে, তারপর সেখান থেকে আস্তে আস্তে হয়ে যায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী, খুব সুন্দর করে দেখানো হয়েছে এখানে। এই অংশটুকু অবশ্য খানিকটা ফাস্ট ফরোয়ার্ডের মত মনে হয়েছে আমার। আরেকটু রয়েসয়ে দেখালে ভাল হতো মনে হয়েছে।
ব্যাকগ্রাউন্ডে কেজের নিজের গলায় জীবনী বলার মত করে দেখানো হয়েছে সিনেমা। এই ব্যবসার কথা নিজের পরিবারের কাছে লুকিয়ে রাখতে গিয়ে নানা জটিলতা, এই কারণেই নিজের ভাইকেও হারাতে হয়।
মাঝখানে একটা জায়গায় এসে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক শুনে চমকে যাই। এ.আর.রাহমানের কোন একটা মিউজিক শুনেছি এরকম, কোন ছবির মনে নেই, বোম্বে, নাকি রোজা? একটা বিষন্ন সুর। একদম হুবহু, নাকি একই মিউজিক? কে জানে!

একদম শেষে এসে কিছু দুর্দান্ত বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। প্রায় সারাজীবন ধরে তাড়িয়ে বেড়ানো ইন্টারপোলের একজন পুলিশ অবশেষে নিকোলাসের নাগাল পায়, গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে তাকে। ইন্টাররোগেশান সেলে বসে যখন সে দেখে- তবু অবিচল নিকোলাস কেজ, ভীষন অবাক হয়। শান্ত স্বরে কেজ তাকে জানায়, এরপরে কি হতে যাচ্ছে। এই সেল-এর দরজার একটা নক হবে, মার্কিন সরকারের একজন সিনিয়ার অফিসার পুলিশ অফিসারকে বাইরে ডেকে তার এই অসাধারণ কীর্তির জন্যে তাকে অভিনন্দন জানাবে, তারপর বলবে, কেজকে ছেড়ে দিতে।
খানিকপরে এই কথা একদম অক্ষরে অক্ষরে সত্য করে যখন সত্যিই কেজ বের হয়ে আসে, পুলিশ অফিসারের ঐ অবাক চোখগুলো সহজে ভুলবো না।
একদম শেষে প্রায় নিরাসক্ত গলায় নিকোলাজ কেজ জানায়, বিশ্বের রাজনীতি আসলে এমনই।পৃথিবীর প্রধান পাঁচটি অস্ত্রবিক্রেতা দেশ হলো আমেরিকা, চীন, রাশিয়া, ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স। এবং বড্ড হাস্যকরভাবে এই পাঁচজনই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য!
কি প্রচন্ড কৌতুকবোধে আমার মুখটা তখন অসহায়ভাবে বেঁকেচুরে যায়!

শুক্রবার, অক্টোবর ১৩, ২০০৬

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১২, ২০০৬

ফটুকবাজি-২


বিমূর্ত এই রাত্রি যেন মৌনতার সুতোয় বোনা
একটি রঙ্গিন চাদর-

মাশীদাপু-অরূপদাঃ দুই ফটুকবাজকে উৎসর্গ।

ফটুকবাজি-১



মন আমার দেহ ঘড়ি সন্ধান করি,
বানাইয়াছে কোন মেস্তরি ।

-----------------
এটা সাদিক ভাইয়ের জন্যে।

ক্লোজআপের গল্প-


এই দূর দেশ থেকে কংকাবতীরে ফোন করি। আলাপ শুরু হলে ঘড়িতে কয়টা বাজে সেই খেয়াল আর থাকে না, কার্ড শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতেই থাকে, চলতেই থাকে।
কিন্তু কংকার খেয়াল থাকে, সব দিনে নয় অবশ্য- বিশেষ করে সেই দিনগুলোয়, যেদিন টিভিতে ক্লোজ আপ ওয়ান থাকে! সেদিন আগে থেকেই এসএমএস আসে, আজ কিন্তু সাড়ে নটা থেকে ক্লোজ আপ ওয়ান, শেষ হলে ফোন করবি, তার আগে না।
মনের ভুলে আমি যদি নয়টায় ফোন করেই ফেলি, সাড়ে নটায় শুরু হয়ে যায় ম্যাডামের উশখুশানি, এই, ফোন রাখ! ক্লোজ আপ ওয়ান দেখব!

বুঝো ঠেলা!
এখন এই ক্লোজ আপ ওয়ান ব্যাটার ওপর আমার মেজাজ খারাপ না হবার কোন কারণ আছে? কত্ত বড় সাহস, আমার সাথে কম্পিট করে!

কদিন আগে জাম্প টিভি সাইটে সস্তার প্যাকেজে এনটিভির নিউজ দেখার জন্যে সাবস্ক্রাইব করলাম। কংকা শুনে টুনে বললো, একদিন ক্লোজআপ ওয়ানটা দেখ। আমি গাল ফুলিয়ে বললাম, না! অসম্ভব!
তবু পীড়াপীড়িতে অনিচ্ছাসত্বেও দেখলাম একদিন।
দেখে বেশ ভালই লাগলো। দেবাশীষকে মহা বোরিং মনে হলো, চৈতীর উচ্চারণ শুনে খানিকটা ভড়কেছি, আর আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কান্ডকারখানা দেখে পেট ফাটিয়ে হেসেছি!
কিন্তু এই সব বাদ দিলে সব মিলিয়ে খুব চমৎকার একটা প্রোগ্রাম। ব্যবসা-বুদ্ধি, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীর পণ্যের বিজ্ঞাপণ- এইসব ভারি দেয়ালের ভেতরে উঁকি মেরে দেখি, আর কিছু না হোক, খুব চমৎকার কিছু গান শোনা হচ্ছে এদের কল্যাণে। শুনলাম দেশেও নাকি একটা সুন্দর পরিবর্তন আসছে, তরুণরা বাংলা গান শুনছে। মোবাইলের রিংটোনে ধুম মাচা লে-র পরিবর্তে শোনা যাচ্ছে- ও রে নীল দরিয়া...।
ইম্প্রেসিভ!

অনেকদিন পর শুনলাম খুব প্রিয় একটা গান, আমার দুই চোখে দুই নদী, তুমি দু'হাত ভরে পানি নিও, তৃষ্ণা লাগে যদি!
এই লেখাটা লিখছি আর গুন গুন করছি।

-------------
ভাল খবর।
আমার খুব প্রিয় ইউটিউবে সার্চ দিতেই দেখি ওখানে একগাদা ক্লোজআপ ওয়ানের ভিডিও তুলে রাখা! একেবারে তুলকালাম ব্যাপার স্যাপার!
গুনগুনটাই মনে হচ্ছে অচিরেই গলা ফাটিয়ে চিৎকার হয়ে যাবে! :-)
দোয়া রাইখেন সবাই!
আমি আপাতত ক্লোজআপ ওয়ান দেখতে গেলাম।

ইউনিকোডের খবর-


আজ বেশ চমৎকার একটা ব্যাপার হয়েছে, সামহোয়্যার ইন ব্লগ আজ থেকে ইউনিকোডে পোষ্ট করার সিস্টেম করে দিয়েছে।
হাসিন ভাই আজই ঘোষনা দিলেন।
আমি সহ আরো অনেকেই একদম শুরু থেকে হাউকাউ করেছিলাম ইউনিকোড করবার জন্যে, যাক, অবশেষে তবু ব্যাপারটা হলো।
এ ব্যাপারে আরেকটা ভাল খবর, অনলাইনে বেশ কয়েকটা ইউনিকোড এডিটর পাওয়া যাচ্ছে এখন, তার মধ্যে দুটার লিংক এখানে তুলে রাখলাম, কখনো নিজের ল্যাপিও সাথে না থাকলে বেশ কাজে আসবে আশা করি।

এডিটর।
লিংক ১। সুমন মাহবুবের এডিটর
লিংক২। হাসিন ভাইয়ের এডিটর

সোমবার, অক্টোবর ০৯, ২০০৬

তালিয়া

বাংলাদেশ কিসে চ্যাম্পিয়ন বলুনতো? ফুটবলে না, ক্রিকেটে না, বাস্কেটবল বা ভলিবল দুরে থাক, এমনকি হা-ডু-ডু তেও না৷ বিগত পাঁচ বছর ধরে আমরা এমন একটা বিষয়ে চ্যাম্পিয়ান হয়ে আসছি, যেটার কথা আমাদের শিশুরা কখনো তাদের সাধারণ জ্ঞান বইয়ে খুঁজে পাবে না৷ অ্যাল্,ছি ছি, শিশুদের এর মধ্যে টানা উচিত নয়, এটা একেবারে অ্যাডাল্ট ওনলি ব্যাপার৷

কষ্ট করে মাথা চুলকে আর নতুন কোন খেলার নাম বের করতে হবে না৷ এখানে কোনো রহস্য রোমাঞ্চ সিরিজের গোয়েন্দা গল্প লেখা হচ্ছেনা, তাই বলেই দেওয়া যাক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির ইন্ডেক্সে বাংলাদেশ এক নম্বরে! কানে কানে আরও বলি, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট অনুযায়ী দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান হবার ক্ষেত্রে যাদের সবচে বেশি অবদান -- তাদের নাম হচ্ছে পুলিশ৷ আইনের রক্ষক যাদেরকে বলে৷ বেশ বুঝতে পারছি, আর কোথাও চ্যাম্পিয়ন না হতে পারার যাতনা যেন আমাদের সইতে না হয়, পুলিশ বাহিনী সে জন্যে দিনরাত বিস্তর খেটে রীতিমত প্রাণপাত করে দিচ্ছে ৷

আহা, এ হেন প্রচেষ্টার জন্যে তাদের সাধুবাদ জানাতেই হয়৷

বাচ্চালোগ, তালিয়া বাজাও!

------------------------------------------------------------------

গত সোমবার দুপুরে গুলশানের শ্যুটিং রেঞ্জে প্রাকটিস করছিলেন আমাদের জাতীয় শ্যুটার আসিফ হোসেন খান৷

এমনিতে শ্যুটি ংব্যাপারটা আমাদের গরীব দেশের মানুষদের খুব একটা প্রিয় খেলা নয়৷ কিন্তু আসিফ নিজে খুব জনপ্রিয়৷ বিশ্বমানের প্রতিযোগিতাগুলোর হিটেই বাদ পড়ে যাওয়াটা আমাদের কাছে ডাল-ভাতের মত ব্যাপার৷ এমনকি সাফ গেমসের মত ঘরের পাশের টুর্নামেন্টেও আমরা খেলোয়াড় পাঠিয়েই সন্তুষ্ট থাকি৷ কোন পদক আশা করি না কখনো, খেলে টেলে গায়ে খানিকটা ধূলো মেখে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসুক, এরকমই আমাদের চাওয়া৷

প্রায় নিয়মে পরিনত হয়ে যাওয় রুটিনটায় বাদ সাধলেন এই আসিফ৷ ২০০২ এর কমনওয়েলথ আর ২০০৪ এর সাফ গেমসে তিনি দু'দুটো সোনা বাগিয়ে নিয়ে এলেন৷ রীতিমতন তুলকালাম ব্যাপার৷ গরীবের ঘরে হাতির পা! দেশের মানুষ নিজেদের গায়ে চিমটি কেটে দেখল, ভুল করে দেশের ক্রীড়াংগনে কোথেকে একটা তারা এসে জুটেছে, যার কল্যাণে এ ধরনের গেমসে আমরা আর কিছুতে না হোক, শ্যুটিংএ একটা সোনা জেতার স্বপ্ন রাতের বদহজম না হওয়া ছাড়াও দেখতে পারি৷

তো যা বলছিলাম, সোমবার দুপুরে তিনি আরো কয়েকজন শ্যুটারের সাথে প্রাকটিস করছিলেন৷ সেখানকার মিলনায়তনেই চলছিল এশিয় মহিলা উদ্যোক্তাদের ঈদ মেলা৷ মেলায় আসা অতিথিরা গাড়ি পার্ক করছিলেন রেঞ্জের সামনেই৷ কিন্তু একটা গাড়ি পার্কিংএর জায়গা বাদ দিয়ে এসে পার্ক করল ঠিক গেটের সামনে৷

একেবারে যেন অ্যাকশান সিনেমার ক্লাইম্যাক্স! পাঠক কি ভাবছেন? এটা নিশ্চয় কোন মন্ত্রীর গাড়ি৷ না, হলো না৷ তাহলে? কোনো সচিব, কিংবা আমলা? অথবা, নিদেনপক্ষে গোয়েন্দা কিংবা পুলিশ বাহিনীর প্রধানের গাড়ি?

তাও হলো না৷ ওটা ছিল পুলিশের ডিআইজির স্ত্রীর গাড়ি৷

হু হু বাবা,বাঘে ছুঁলে আঠার, পুলিশে ছুঁলে ছত্রিশ ঘা, আর পুলিশের বউ ছুঁলে? ক্যালকুলেটর লাগবে মশাই, দু হাতের আঙুলে হবে না!

আবারো, যা বলছিলাম৷ গাড়ি ওখানে রাখায় রেঞ্জের দারোয়ান বললেন গাড়ি সরিয়ে নিতে৷ কিন্তু পুলিশের-স্ত্রীর-গাড়ির-ড্রাইভার! তার একটা প্রেস্টিজ আছে না? ড্রাইভার জানালেন, এই গাড়ির-মালিকের-স্বাআমীর-পদবী হলো ডিআইজি৷ সুতরা গাড়ি সরবে না৷

লেগে গেলো কথা কাটাকাটি৷ ড্রাইভার সাহেব হাত চালিয়ে বসলেন৷ সুতরা ংকথা কাটাকাটি অচিরেই বদলে গেল হাতাহাতিতে৷ পাশ দিয়েই নাকি টহলরত পুলিশের দল হাওয়া খেয়ে বেড়াচ্ছিলেন৷ গন্ডগোল দেখে তারাও এসে হাত লাগালেন৷ খালি হাতে কি আর তাদের মানায়? সেই হাতে লাঠিও ছিল৷

এদিকে গোলমাল শুনে রেঞ্জের ভেতর থেকে শ্যুটাররা দেখতে এলেন কি হলো৷ আসিফও ছিলেন সেই দলে৷ পুলিশের সাথে মারামারি দেখে তারা সেটা থামানোর চেষ্টা করলেন৷ কিন্তু পুলিশ তখন দারুন ফর্মে৷ তারা সামনে যাদের পাচ্ছে তাদেরই পেটাচ্ছে৷ শ্যুটারদেরও মেরে বসলো৷ মাটিতে ফেলে মার৷ কয়েকজন দৌড়ে দোতলায় গিয়েও নিস্তার পেলেন না, সেখান পর্যন্ত ধাওয়া করে গিয়ে মেরে আসা হলো সবাইকে৷

যাবার সময় আসিফ সহ আরো পাঁচজনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হলো৷ সেখানে গিয়ে আরেকদফা মার৷ হাতে, পায়ে, পায়ের তলায় লাঠি দিয়ে অমানুষিক মার৷ লাঠি ভেঙ্গে গেলে হকিষ্টিক দিয়ে শুরু হলো৷

এর মাঝে আসিফ কয়েকবার নিজের নাম ও পরিচয় বললেন৷ তার উত্তরে তাকে বলা হলো, "রাখ তোর শ্যুটার!'

বাহ বাহ, একদম চ্যাম্পিয়ানের মত কথা! ওনারা বছর বছর দেশকে চ্যাম্পিয়ান বানাচ্ছেন, তাদের কাছে আসিফ কোন ছার!

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আসিফ মোটামুটি চলত্শক্তিহীন৷ বাম হাতে কোন শক্তি পাচ্ছেন না৷ ডান হাতও তথৈবচ৷ আর কোনোদিন রাইফেল হাতে নিতে পারবেন কিনা বলা যাচ্ছে না৷ যদিও এর মাঝেই তিনি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে অভিমান নিয়ে ঘোষনা দিয়েছেন, তিনি শ্যুটি ংছেড়েই দেবেন৷
-------------------------------------------------------------------

পত্রিকার পাতা খুললেই শুধু পুলিশি কীর্তির খবর পাই৷ কদিন আগে প্রাক্তন স্বরাষ্ট মন্ত্রীকে রাস্তায় ফেলে পিটিয়েছিল তারা, সে ছবি পত্রিকায় দেখে শিউরে উঠতে হয়৷ তারো কিছুদিন আগে চট্টগ্রামে পিটিয়েছিল সাংবাদিক৷ কয়েকদিন আগে দেখলাম হরতালরত বিরোধীদলীয় নারী কর্মীদের পরনের জামা ছিড়ে ফেলতেও তাদের একটুও হাত কাঁপেনি৷

নাহ, এসবে কোন সমস্যা নেই আমাদের৷ বিরোধীদলীয় নারীকর্মী, ফটো সাংবাদিক কিংবা প্রাক্তন স্বরাষ্টমন্ত্রী, এঁরা কেউই আমাদের খুব একটা উপকারে আসবেন না৷ কাজে আসবেন না আসিফও৷ একটা দুটো সোনা দিয়ে কিই বা হবে আমাদের? ডিআইজির বউএর কানের দুলেও তার চেয়ে বেশি পরিমান সোনা থাকে৷

সুতরাং পিটিয়ে সবার হাতপা ভেঙ্গে দিন, দেশ ছাড়া করুন, কোন অসুবিধা নেই৷

শুধু ভাবি, পুলিশের দায়িত্বে থাকা বর্তমান স্বরাষ্টমন্ত্রী কি একবারো ভেবে দেখেছেন, প্রতি পাঁচবছর পর সবার পেছনেই "প্রাক্তন' শব্দটি যোগ হবার একটা প্রবল সম্ভাবনা থাকে? তিনি নিজে যখন 'প্রাক্তন' হবেন তখন এই ফ্রাংকেনস্টাইনের হাত থেকে তিনি নিজেকে বাঁচাতে পারবেন তো?

বাচ্চালোগ, তালিয়া থামাও৷ এর চেয়ে বরং বসে বসে নামতা পড়ো, পাঁচ-এক্কে-পাঁচ৷

*****************

প্রথম প্রকাশঃ কুটকচা৯ - গুরুচন্ডালি


শুক্রবার, অক্টোবর ০৬, ২০০৬

অভাগা রবীন্দ্রনাথ-


আজ কেলাশে বসিয়া দুরন্ত গতিতে লেকচার তুলিতেছি।
এই শিক্ষক মহাশয় বড়ই দ্রুত কথা বলেন। তাহার কথার সহিত তাল মিলাইয়া লিখিতে লিখিতে মনের মধ্যে হঠাৎ একখান ভাবের উদয় হইল। মাথা খানিকটা চুলকাইয়া ভাবিলাম, আহা, রবীন্দ্রনাথ বেচারা কি অভাগাই না ছিলেন!
সেই দেড় শতক বর্ষ পূর্বে দোয়াতে কলম ডুবাইয়া তিনি কাব্য রচনা করিতেন। অতীব সময়ক্ষেপক ব্যাপার। কিন্তু ঐরূপ গতি নিয়াই তিনি যেই পরিমাণ সাহিত্য সৃষ্টি করিয়া গিয়াছেন, আজ ভাবিতেছি, কোনক্রমে একখান বলপেন হাতে পাইলে তাহার কি সুবিধাই না হইত! আমাদিগের লেকচার তুলিবার গতিতে না হোক, তাহার অর্ধেক গতিতে যদি তিনি লিখিয়া যাইতেন, তবে নিশ্চিত জীবদ্দশায় প্রায় দ্বিগুন পরিমাণ সাহিত্য তিনি রচনা করিতে পারিতেন।

বলপেন আবিষ্কারকদের নির্বুদ্ধিতায় বাংলা সাহিত্যের কি পোচোন্ডো ক্ষতি সাধিত হইয়া গেল, ইহা ভাবিয়া আজ আমার বুক ফাটিয়া অশ্রু নির্গত হইতেছে।
আহা, বেচারা রবীন্দ্রনাথ!




বুধবার, অক্টোবর ০৪, ২০০৬

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ওয়েবসাইটগুলো-

মোটামুটি দৌড়ের উপর আছি। সেমেস্টারের মাঝামাঝি। হাতে হারিকেন পেছনে বাঁশ টাইপ অবস্থা!
বেশ কিছু কাজ একসাথে শুরু করে এখন কোনটাই করা হচ্ছে না। সব ঝুলে আছে। কিন্তু দেশে যাবার আগে অবশ্যই শেষ করে যেতে হবে সব। ভাবছি প্রতিদিন ঘড়ি ধরে বসব এসব নিয়ে, আধা ঘন্টা করে হলেও।

সেরকমই একটা কাজে কদিন ধরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনলাইনে যতগুলো সাইট আছে, ঘুরে ফিরে দেখছি তাদের।
প্রাথমিক মূল্যায়ন হলো, ওখানে বেশিরভাগই বেসিক তথ্যগুলো রাখা আছে, ডিটেইলস নেই তেমন। অল্পবিস্তর ছবি আছে।
ইংরেজিতে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, সেসব বেশিরভাগই সামারাইজড করা। “মুরগী বাচ্চা পাড়িল’ টাইপ। মাঝের ডিম পাড়ার খবর নেই।
নিজের সুবিধার জন্যে এখানে সাইটগুলোর একটা লিষ্ট করে রাখছি।

১।প্রথম লিনক হিসেবে দিতেই হবে উইকিপিডিয়ার সাইটটার। পরিমাণের দিক দিয়ে অনেক তথ্য রয়েছে এখানে। পুরোটা পড়ে দেখা হয় নি, তবে, উইকির প্রতি আস্থা রয়েছে আমার।
২।ফরচুনসিটিতে হোষ্ট করা সাইটটিতে তথ্য কম রয়েছে, সাইটের ডিজাইন ভালো হয়নি যদিও, তবে এখানে প্রচুর পরিমাণে ছবি দেয়া আছে।
৩।তালিকার তৃতীয় সাইটকে মরুদ্যান বলে আখ্যা দেয়া যায়। সবচে গোছানো এবং সুন্দর। নাম হলো বাংলাদেশ ডট নেট। বানিয়েছে কে বলুনতো? অরূপ কামাল। মানে আমাদের অরূপদা!
৪।সাবকন্টিনেন্ট নামের সাইটে আমাদের যুদ্ধের কথা এসেছে ইন্দো-পাক যুদ্ধ হিসেবে। তবু, নানা কারণে এই সাইটে ঢুঁ মারা যেতে পারে।
৫।বেশ ভালো একটা সামারি দেয়া আছে বাংলাপিডিয়াতেও। তবে, মনে রাখতে হবে, এটা সামারি।
৬।জেন্ডারসাইডের সাইটে ৭১ এর জেনোসাইডের খবর পাওয়া যাবে জেন্ডারের বেসিসে। মন্দের ভালো বলা যায় এটাকে।
৭।ভার্চুয়াল বাংলাদেশে বেশ কিছু আর্টিক্যাল দেয়া আছে।একধারসে পড়া শুরু করেছি, যদিও এখনো শেষ করতে পারিনি।
৮। বেশ দৃষ্টিনন্দন হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সাইট। বিতর্কের খাতিরে অবশ্য ব্লগের সবাই এটার খবর আগেই জেনে গেছেন।
৯। গুগলের মতোই আমার আরেকটা প্রিয় সাইট হলো আনসার ডট কম। মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও দেখি ওদের কাছে ভালোই উত্তর পাওয়া গেল!
১০। বিডি৭১ এর লেখাগুলো বেশ ইন্টারেস্টিং। আরো খানিকটা পড়ে মতামত দিতে হবে।
১১। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত বেশ ভালো কিছু তথ্য পাওয়া যাবে ভারতীয় এয়ারফোর্সের এই সাইটে। বাংলাদেশি বলে মাঝেমাঝেই অবশ্য ঢোক গিলেছি। কেন? সেটা পড়লেই জানতে পারবেন।
১২। অল্প কিছু ছবি দেয়া আছে বাংলা২০০০এ। শুভ আর পিয়ালভাই-র কল্যাণে অবশ্য এসব দেখা হয়ে গেছে আগেই।
১৩। ছোট্ট একটা ডকুমেন্ট এটা। বাংলাদেশ মেরিনারের সাইটে পাওয়া। একটা নাটশেল।

তবে এখন পর্যন্ত নেটে মুক্তিযুদ্ধকে তুলে আনায় বেশ বড় একটা অবদান রেখেছে এনওয়াইবাংলা ওয়েবসাইট। দারুন সব ডকুমেন্ট ওখানে।

আবশ্যিকভাবে আরো দুটো লিংক এখানে না রাখলেই নয়। শুভ এবং পিয়ালভাই
সাথে রেখে দিচ্ছি রেজওয়ান ভাইয়ের দেয়া লিংকগুলোও।

১) আলোচনা ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ডঃ আব্দুল মোমেনের পারসোনাল ডাইরি।
২) মুক্তধারা
৩) বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয়ের সাইট।
৪) বিবিসির সাইটে কিঞ্চিত তথ্য।
৫) আমেরিকার ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট আর্কাইভ ।
৬) একটি পাকিস্তানি ভার্সন
৭) জিও সিটিজ- থালসেনা সাইট
৮) কথন-হলোকাস্ট
৯) বুদ্ধিজীবি হত্যা
১০) পাকিস্তানি গনহত্যার পরিসংখ্যান
১১) ইউএস লাইব্রেরি অফ কনগ্রেস -বিকৃত তথ্য

ব্লগারদের অনুরোধ করবো,নতুন কোন সাইট বা ডকুমেন্টের খোঁজ যদি পান, একটু কষ্ট করে মন্তব্যের ঘরে রেখে যাবেন।


আউলা মাথা, বাউলা পোষ্ট-

তখন হলে থাকি। দুইটা টিউশানি করি। কপাল মন্দ, দুইজনই ছাত্র, ছাত্রী নাই।
আমার রুমমেট নতুন টিউশানিতে যায় কয়দিন হইলো। যাবার সময় দেখি পারফিউম মারে, শার্টে, গলায়, ঘাড়ে। আমাগো চোখ টনটন করে। আবার পড়ানো শেষে রুমে ফিরা গুন গুন গান গায়, কুছ কুছ হোতা হ্যায়...। আমাগো বুকে জ্বালাপোড়া!

একদিন দেখি বালিশে হেলান দিয়া সিগারেট টানে। সাথে গুন গুন তো আছেই।
আমরা জিগাই, কি রে? নতুন টিউশানি কেমন? ছাত্রী ভালো?
কয়, আর কইস না।বড় জ্বালায় আছি।
আমরা বলি, কি হইছে?
ও বলে, মাইয়া জানি কেমুন কেমুন। পড়া পারে না। আমি ঐদিন চেইতা গিয়া কই, একটা চড় দিবো তোমারে, বুঝছো?

আমরা তো হা! কি সাংঘাতিক। জিগাই, তারপর?
ও একটা সুখটান দেয়, তারপরে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে কয়, মেয়ে আমারে বলে, দিয়ে ফেলেন স্যার। কেউ দেখবেনা, আম্মুও ঘুমাচ্ছে!

মঙ্গলবার, অক্টোবর ০৩, ২০০৬

রাং দে বাসান্তি !

আব ভি জিসকা খুন না খোলা, খুন নেহি ও পানি হ্যায়;
জো দেশকে কাম না আয়ে, ও বেকার জওয়ানি হ্যায়।

বাংলায় কি হবে?
নাহ, নতুন অনুবাদের প্রয়োজন নেই, হেলাল হাফিজ অনেক আগেই লিখেছেন,

এখন যৌবন যার, মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়,
এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়!


হুমম।

সারফারোশি কি তামান্না আব হামারে দিল মে হ্যায়,
দেখতাহু জোর কিতনা বাজুএ কাতিল মে হ্যায়!


ধন্যবাদ, প্রজাপতি