শনিবার, মার্চ ৩১, ২০০৭

আরেকটিবার-



না না, নষ্টালজিয়ায় পায় নি, আজ আবার অষ্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ ম্যাচ। নিজে নিজেই তাই পুরোনো খেলা দেখছি বসে বসে। কোন উদ্দেশ্য নেই, মনের গভীরে লুকানো কোন বাসনাও নেই, জাস্ট স্মৃতিচারণ আর কি! :-))

শুক্রবার, মার্চ ৩০, ২০০৭

বুদ্ধিমানের জবানবন্দী-


সাপ্তাহিক ২০০০ এর এবারের ইস্যুটাতে ডা: এম এ হাসানের সাক্ষাৎকার পড়লাম মাত্রই। এম এ হাসানকে চিনেন না? চেনার কথাও না অবশ্য- উনি বোকা সোকা মানুষ, ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ান, সেই কর্মের পরিচিতি হিসাবে আবার রাশভারী একটা পদবীও দখল করে নিয়েছেন- সেটা কি? সেটা হলো- আহবায়ক, ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি। এবারে কি কিছুটা বুঝা গেলো? আরেকটু বুঝিয়ে বলি তাহলে, ৭১ এ পাকি সেনা ও রাজাকাররা এ দেশে নির্বিচারে যে গণহত্যা চালিয়েছিলো, উনি সেটার বিচার চান। সেই বিচারের জন্যে প্রমাণ খুঁজতে গিয়ে উনি সারা দেশে সেই হত্যালীলার চিহ্ণ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। তিনি জানালেন, সারা দেশে বধ্যভূমি রয়েছে পাঁচ হাজারের মতন, শনাক্ত করা গেছে ৯২০ টি। ৯৯ সাল থেকে শুরু করেছিলেন, কাজ এখনো চলছে, তবে সেটাও মৃতপ্রায়।
না, উৎসাহের অভাব ঘটেনি, আর্থিক টানাটানিই মুল কারণ। কোন সরকার কখনো তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে নি, কেউ কোন আর্থিক সাহায্যও করেন নি।

করবে কেন? আমাদের কি আর কাজ নেই? এম এ হাসান না হয় পাগল কিসিমের মানুষ, আমরা তো নই! এত বছরের পুরোনো ইতিহাস ঘাটায় আমাদের তাই উৎসাহ নেই। কানের পাশ থেকে যখন ঘাতকদের পরবর্তী প্রজন্ম খলখলিয়ে হাসি দিয়ে বলে, প্রমাণ কই, প্রমাণ? বুকের ক্ষতটারেতো আর বাইরে টেনে এনে দেখানো যায় না, আমরাও তাই অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে মরি। কিন্তু প্রমাণ পাই না।

থাক, দরকারই বা কি? এই তো বেশ ভালো আছি। বেঁচে আছি, প্রতিদিন রুটি-গোশত খাচ্ছি। ডা: এম এ হাসান, আপনিও প্লিজ এইবারে অফ যান। দয়া করে পুরোনো জিনিস নিয়ে আর টানাটানি করবেন না। সিংগাপুর এয়ারপোর্টে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্খার লোকেরা আপনার টিকেট ছিড়ে ফেলেছিলো? বেশ করেছে। আমাদের সরকারী গোয়েন্দা বাহিনী আপনার ফোন ট্যাপ করে, সারাক্ষণ অনুসরন করে আপনার গাড়ি, নানারকম হুমকি ধামকি দেয়। দেয়াই তো উচিৎ। কি দরকার এসবের বলুন তো?

যথেষ্ঠ করেছেন। আর কিছুদিন অপেক্ষা করুন। আপনাকে আমরা নিশ্চয়ই একদিন মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করবো। ৯২০ টি বধ্যভূমির হাহাকার বুকে নিয়ে আপনি যখন ঘুমিয়ে থাকবেন, আমরা তখন সভা সেমিনারে গিয়ে স্মৃতিচারণ করবো, ডা: এম এ হাসান, আহা, বড় ভালো লোক ছিলেন, আর ভীষন বোকা, আমাদের শহীদ পিতাদের কবর খুঁজতে চেয়েছিলেন।
আহা, বেচারা!

সোমবার, মার্চ ২৬, ২০০৭

স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো

স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো
নির্মলেন্দু গুণ
----------------------------------------

একটি কবিতা লেখা হবে তার জন্য অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে
লক্ষ লক্ষ উন্মত্ত অধীর ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতা বসে আছে
ভোর থেকে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে: " কখন আসবে কবি?'

এই শিশু পার্ক সেদিন ছিল না,
এই বৃক্ষে ফুলে শোভিত উদ্যান সেদিন ছিল না,
এই তন্দ্রাচ্ছন্ন বিবর্ণ বিকেল সেদিন ছিল না৷
তা হলে কেমন ছিল সেদিনের সেই বিকেল বেলাটি?
তা হলে কেমন ছিল শিশু পার্কে, বেঞ্চে, বৃক্ষে, ফুলের বাগানে
ঢেকে দেয়া এই ঢাকার হদৃয় মাঠখানি?

জানি, সেদিনের সব স্মৃতি ,মুছে দিতে হয়েছে উদ্যত
কালো হাত৷ তাই দেখি কবিহীন এই বিমুখ প্রান্তরে আজ
কবির বিরুদ্ধে কবি,
মাঠের বিরুদ্ধে মাঠ,
বিকেলের বিরুদ্ধে বিকেল,
উদ্যানের বিরুদ্ধে উদ্যান,
মার্চের বিরুদ্ধে মার্চ ...

হে অনাগত শিশু, হে আগামী দিনের কবি,
শিশু পার্কের রঙিন দোলনায় দোল খেতে খেতে তুমি
একদিন সব জানতে পারবে; আমি তোমাদের কথা ভেবে
লিখে রেখে যাচ্ছি সেই শ্রেষ্ঠ বিকেলের গল্প৷
সেই উদ্যানের রূপ ছিল ভিন্নতর৷
না পার্ক না ফুলের বাগান, -- এসবের কিছুই ছিল না,
শুধু একখন্ড অখন্ড আকাশ যেরকম, সেরকম দিগন্ত প্লাবিত
ধু ধু মাঠ ছিল দূর্বাদলে ঢাকা, সবুজে সবুজময়৷
আমাদের স্বাধীনতা প্রিয় প্রাণের সবুজ এসে মিশেছিল
এই ধু ধু মাঠের সবুজে৷

কপালে কব্জিতে লালসালু বেঁধে
এই মাঠে ছুটে এসেছিল কারখানা থেকে লোহার শ্রমিক,
লাঙল জোয়াল কাঁধে এসেছিল ঝাঁক বেঁধে উলঙ্গ কৃষক,
পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে এসেছিল প্রদীপ্ত যুবক৷
হাতের মুঠোয় মৃত্যু, চোখে স্বপ্ন নিয়ে এসেছিল মধ্যবিত্ত,
নিম্ন মধ্যবিত্ত, করুণ কেরানী, নারী, বৃদ্ধ, বেশ্যা, ভবঘুরে
আর তোমাদের মত শিশু পাতা-কুড়ানীরা দল বেঁধে৷
একটি কবিতা পড়া হবে, তার জন্যে কী ব্যাকুল
প্রতীক্ষা মানুষের: "কখন আসবে কবি?' "কখন আসবে কবি?'

শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,
রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অত:পর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন৷
তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল,
হদৃয়ে লাগিল দোলা, জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার
সকল দুয়ার খোলা৷ কে রোধে তাঁহার বজ্রকন্ঠ বাণী?
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর-কবিতাখানি:
"এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম৷"

সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের৷

( চাষাভুষার কাব্য, ১৯৮১ )

শনিবার, মার্চ ২৪, ২০০৭

শুক্রবার, মার্চ ২৩, ২০০৭

সাহানার গানঃ নতুন করে পাবো বলে-


এতদিন যে বসে ছিলেম পথ চেয়ে আর কাল গুনে, দেখা পেলেম ফাল্গুনে...।
গত কদিন ধরে একটানা শুনে যাচ্ছি সাহানার গান। বাইরে যতক্ষন আছি, সারাক্ষনই কানে বাজছে । বাসায় ফিরেও শুনেই চলেছি।
পুরো এলবামটাই ভাল লাগার মতন। গানগুলো বেছে নেয়া হয়েছে অনেক যত্ন করে। রবীন্দ্রনাথের অল্প কিছু গানই ঘুরে ফিরে শুনতে পাওয়া যায়। যারা রবীন্দ্র সঙ্গীতের বিশেষ ভক্ত, তাঁরা বাদে বাকিদের জন্যে কিছু অপ্রচলিত গানও গেয়েছেন সাহানা।
এমনিতে অর্ণব-সাহানা জুটি আমার খুব পছন্দের। সাহানার লেখা অর্ণবের সব কয়টা গান খুব প্রিয় আমার। দু'জনে মিলে ইতিমধ্যেই বাংলা গানকে অনেক দিয়েছেন, নতুন করে পাবো বলে- নামের এই এলবামটা নিঃসন্দেহে তার সাথে খুব ভাল একটি সংযোজন।
সাহানার গলা অদ্ভুত ভাল। খানিকটা ছেলেমানুষী ভাব রয়ে গেছে, এবং একটুখানি বিষন্ন যেন, খুব মনোযোগে শুনতে থাকলে বুকের ভেতরে কোথাও যেন হুট করে ফাঁকা লাগা শুরু করে। কিছু গানের বিশেষ কিছু জায়গা বারবার শুনতে ইচ্ছে করে। মোর ভাবনারে কি হাওয়ায় মাতালো..., এখানে মাতালো বলে যে টানটা দেয়, আমি বারবার পিছিয়ে গিয়ে শুনি। তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে... এ গানটাও অদ্ভূত ভাল গেয়েছে সাহানা। আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে- এ গানটার শুরুতে বেশ খানিক্ষণ মিউজিক বেজে চলে, এ কাজটাও অনেক সুন্দর। একেই কি কম্পোজিশান বলে? তাহলে অর্ণব আসলেই গ্রেট।

এমনিতে যারা রবীন্দ্র সঙ্গীত শোনে না, বিশেষ করে নতুনরা, তাঁরা খুব পছন্দ করবে গানগুলো। সাহানার কারণে বেশ কিছু শ্রোতা রবিবাবু পেয়ে যাবেন বলে মনে হচ্ছে। আমি সুর বা লয়ের কোথাও কোন পরিবর্তন পাই নি, কম্পোজিশান খুবই ভালো, প্রজাপতি স্পষ্ট করে জানিয়েছে নোটেশান নাকি বদলায় নি, এটা যে কি জিনিস, তাও ভাল করে বুঝি না, তবে ওর কথা শুনে বুঝতে পেরেছি, রবীন্দ্র সঙ্গীতের ব্যাপারে বিশুদ্ধতাবাদীরা সাহানাকে নিয়ে আপত্তি করবেন না হয়তো।

একনাগাড়ে শুনতে শুনতে একটা মজার ব্যাপার খেয়াল করলাম, লম্বা বাক্যগুলোয় সাহানা মাঝে মাঝে দম টেনে নেন। অথবা যেখানে খুব বেশি টান দিতে হয়, সেখানে, একটু খেয়াল করলেই তাঁর নিঃশ্বাস টানার শব্দ শোনা যায়। সাধারণত অনেকদিন চর্চ্চা না থাকলে ভালো গায়কদেরও এই সমস্যাটা হয়। সাহানা নিশ্চয় চর্চ্চা ছাড়াই এই এলবাম বের করেন নি, তার মানে, ওঁর গলার বৈশিষ্টই এই। মজা হচ্ছে- এ ব্যাপারাটা খুব খারাপ লাগে না কিন্তু, বরং বেশ মিষ্টি লাগে শুনতে।

একটা সাহানা, একটা লোপামুদ্রা- এমন করে সাজিয়েও শুনলাম টানা দু'দিন। ভালো গানের কথা এলেই আমি লোপামুদ্রাকে টেনে আনি বলে আমার বউ মাঝে মাঝেই ক্ষেপে যায়। কিন্তু সামলাতে পারি না।
কোন তুলনায় যাওয়াই ঠিক নয়। তবু মনে হলো- সাহানার গানে লোপামুদ্রার মতন স্বচ্ছতা নেই। লোপার গান শুনলেই পরিষ্কার বা ঝরঝরে যে অনুভূতি জাগে মনে, সেরকমটা হয় না সাহানার গান শুনলে। তবে যেটা হয়- খানিক্ষণ একলা বসে থাকতে ইচ্ছে করে সব কাজ বন্ধ করে দিয়ে। দরজা আটকে অনেক আগের ভুলে যাওয়া কোন দুঃখের স্মৃতি মনে করে মন খারাপের মাঝে ডুবে যেতে ইচ্ছে করে। কি দারুণ করেই না গেয়েছেন সাহানা- তুমি কোন পথে যে এলে, আমি দেখি নাই তোমারে- শুনতে শুনতে পৃথিবীরে আসলেই মায়াবী নদীর পারের দেশ বলে মনে হয়, সে নদীর পাশের নির্জনতায় যে মানবী অপেক্ষা করে আছে আমার জন্যে, তাকে কাছে না পাওয়ার বেদনা তখন খুব বড় হয়ে বেজে ওঠে মনের ভেতর।
এবং বলতে দ্বিধা নেই, এই অনুভুতিটাকেও আমার ভীষন ভাল লেগে যায়। ভাল লাগে সাহানার গান।

সোমবার, মার্চ ১৯, ২০০৭

হালুম হুলুম ক্রিকেট খেলুম-


আমার সৌভাগ্যই বলতে হবে, শেষবার বাংলাদেশের খেলা লাইভ দেখেছিলাম কার্ডিফের সেই ম্যাচটা, যেটায় অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিয়েছিলো তারা। আর তারপরে আবার দেখলাম গতকালের ম্যাচ
সুতরাং এরপর থেকে বাংলাদেশের খেলা দেখা মানেই একটা করে সুখস্মৃতি বাড়বার সম্ভাবনা, এরকম কোন আশাপ্রদ ভাবনা মনে উঁকি দিলে নিজেকে দোষাই কেমন করে?

ক্রমশঃ জয় পাওয়ায় অভ্যস্ত হচ্ছে আমাদের দেশ। এরকম জয়ে খুব বেশিদিন আর টিএসসিতে মিছিল করবো বলে মনে হয় না। একসময় আমরা নিশ্চয়ই বাংলাদেশ হেরে গেলে রেগে যাওয়ার মত আভিজাত্যে পৌঁছে যাবো। অনেকদিন পর পর দুয়েকটা হারে বাশার বা তাঁর পরবর্তীদের পদত্যাগ চাইবার মত বিলাসিতার দিনও আমাদের খুব বেশি দূরে নেই, এই আনন্দভাবনায় আমার আজকের সারাটা দিন কেটে গেল।


কালকের খেলাটা অন্য জয়গুলোর চেয়ে অনেকাংশেই আলাদা। শুরু থেকে একদম শেষ পর্যন্ত আর কখনো একক আধিপত্য বিস্তার করে জিতেছে বাংলাদেশ- ঠিক এরকমটা দেখি নি। একবারের জন্যেও তাঁদের ভীত মনে হয় নি। পেশাদার ক্রিকেটের সুন্দর উদাহরণ দেখিয়েছে তারা বোলিং ব্যাটিং ও ফিল্ডিং-এ।
তামিমের খেলা আগে দেখি নি। ভীষন জেদী ছেলেটা। মুনাফ পাটেলের সাথে বিরামহীন তর্ক বা জহির খানের বাউন্সারের জবাবে ডাউন দ্য উইকেটে নেমে এসে চার মারার সাহস দেখে মুগ্ধ হয়েছি। বয়সে আরো পরিণত হবে, ঠিক এরকম একটা প্রশ্রয়ে অহেতুক অস্থিরতায় আউট হয়ে যাবার অপরাধও ক্ষমা করে দিয়েছি।
সাকিবের খেলাও খুব ভাল লাগলো। বুদ্ধিমানের মতন শট বাছাই করেছে ও। পাইলট নেই বলে যে দুঃখটা ছিলো মনে, মুশফিক সেটার উপর পর্যাপ্ত মলম লাগিয়ে দিতে পেরেছে। সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপের শুরুটা- সুন্দর একটা সকালে কড়া করে এক কাপ চা খেয়ে ফুরফুরে মেজাজে গান গেয়ে ওঠার মতন আনন্দময় হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা মানজারুল ইসলাম রানাকে হারাবার কষ্ট বুকে চেপে খেলতে নেমেছিলেন। সেই শোকটাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করবার জন্যে এমন জয়ের আসলেই কোন তুলনা নেই।

দেশের পত্রিকাগুলোয় বারবার করে ম্যাচ রিপোর্ট পড়ছিলাম বসে বসে, তবু যেন মন ভরছিলো না। ভারতের উন্নাসিকতার একটা জবাব দেয়া গেছে ভেবে আসলেই ভাল লাগছিলো। এখানকার হেরাল্ড সান পত্রিকায় তেমন বড় করে আসে নি খবরটা। আনন্দবাজারের রিপোর্ট নতুন কোন চমক দেয় নি অবশ্য। তীব্র সমালোচনা করেছে দ্রাবিড়ের দলের- অবশ্য এটাই স্বাভাবিক ছিলো। খুব রাগ হয়েছে দেখে যখন মাশরাফি ওদের নিজস্ব উদ্ভট বানানে একবার হয়েছে মাশারাফে, আরেকবার মোশারাফি! রাজ্জাককে রজ্জাক লিখতে দেখে অবাক হই নি, তবে সত্যিই কষ্ট পেয়েছি মানজারুল ইসলাম রানাকে অবলীলায় " মঞ্জুরাল হুসেন রানা'' লিখতে দেখে!
আচ্ছা, ওরা কি ভুল করেও দু'একবার শুদ্ধ বানান লিখতে পারে না? সুযোগ পেলে জিজ্ঞেস করতাম।
খুঁজতে খুঁজতে আরেকটা দুঃখজনক খবর পেলাম। ঝাড়খন্ডে মহেন্দ্র সিং ধোনীর নির্মীয়মান বাড়িটির দেয়াল
বেশ কজন উগ্র সমর্থক ভেংগে ফেলেছে! শুধু ধোনীর দোষ কোথায় বুঝে পেলাম না। ক্রিকেটীয় আবেগ আসলেই বড় সাংঘাতিক জিনিস!

যাক, অবশেষে ভারত-বধ কাব্য রচিত হলো। সামনে আছে শ্রীলংকা আর বারমুডা। শিরদাঁড়া কেঁপে ওঠার মতন জোরাল "হালুম'' আগামী দুটো ম্যাচেও শুনতে পাবো- এই প্রত্যাশাই রাখি।
গুড লাক বাংলাদেশ।

শুক্রবার, মার্চ ১৬, ২০০৭

সামহোয়্যারইনব্লগ ও গুরুচন্ডালি এবং দুই বাংলার মানুষ নিয়ে কিছু কথা-

ইদানীং সময়াভাবে ভুগছি। ক্লাশ আর কাজ নিয়ে ব্যস্ত সারাদিন। সবকিছুর পরে খানিক বিশ্রামটাই অনেক বেশি লোভনীয় হয়ে পড়ে।
সেসবের ফাঁকে ফাঁকেও দুটা জায়গায় নিয়ম করে ঠিকই হাজিরা দিই। সামহোয়্যারইনব্লগগুরুচন্ডালি
সামহোয়্যারের পরিবেশ সবসময়েই মরুভুমির টেম্পারেচারের মতন। খুব ঘন ঘন উঠে আর নামে। গুরুচন্ডালি সেই হিসেবে অনেক বেশি স্টেবল। এক সুরে চলে যায় বেশ কিছুদিন।

ইদানীং এমন হয়েছে দেশের খবর জানার জন্যেও পত্রিকা থেকে বেশি ভরসা করি সামহোয়্যারের উপর। খুব দ্রুতই খবর চলে আসে ওখানে। কারওয়ান বাজারে আগুনের সময়ে সেটা খুব বেশি বোঝা যাচ্ছিল। পত্রিকার গোছানো ভাবটা সেইসব খবরে নেই বলে একদম আসল খবরটা পাওয়া যায় সরাসরি দেখেছে এমন কারো কাছ থেকে। সেই সাথে জানা যায় দেশি-বিদেশি বাংলাদেশিদের প্রতিক্রিয়া।
সামহোয়্যারে অবশ্য বিস্তর আজেবাজে পোষ্ট হয়, সাথে গালাগালি বা অন্যান্য অস্বস্তিকর বিষয় তো রয়েছেই। কিন্তু কয়েকদিন ঘোরাফেরা করলেই আসলে একটা ধারণা হয়ে যায় কোন লেখাগুলো মন দিয়ে পড়তে হবে, আর কোনগুলোকে পাশ কাটিয়ে যেতে হবে। এই অভ্যাসটা গড়ে নিলেই আর সমস্যা হয় না। বেশ একটা এনজয়েবল জায়গা হয়ে ওঠে সামহয়্যারইনব্লগ।

গুরুচন্ডালির সাথে পরিচয় অনেকদিনের । সেখানকার মানুষদের সাথেও। আমার অনেক আনন্দ-বেদনার সংগী তাঁরা অনেকদিন ধরে। বাংলা পড়া বা বাংলায় লেখা ও আড্ডা দেবার যে তীব্র আকুতি ছিল প্রবাস জীবনের শুরুর দিকে, একাধারে মজলিশ ও পরে পুরোপুরিভাবে গুরুচন্ডালিতেই মেটাতাম সেটা।

মজা হয়েছে এই যে, এই দুটো জায়গায় পাশাপাশি দুই দেশের মানুষদের প্রাধান্য থাকায় পারস্পরিক সম্পর্ক ও ধারণা নিয়ে খুব ভাল একটা আইডিয়া পাওয়া যায়। এদিকের মানুষদের নানারকম অভিযোগ পশ্চিমবাংলা নিয়ে, আবার ওখানের বাঙালীদেরও অনেক অভিযোগ আমাদের নিয়ে। মাঝে মাঝে অবশ্য সেসব সহনশীলতার মাত্রা ছেড়ে যায়, কিন্তু সেসবও আসলে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের বাইরে নয়।
গুরু-তে নিয়মিত যাওয়ায় আমাদের অনেক অভিযোগের জবাব আপনা থেকেই পেয়ে গেছি। আবার ওখানে বাংলাদেশ নিয়ে অনেক ভুল ধারণা টের পেয়ে সেসব ভাঙার চেষ্টা করেছি নিয়মিত। ওপাশের ধারণা রমনায় মন্দির ভাঙা নিয়ে আমাদের এখানে কোন প্রতিবাদ হয় না, আর এপাশের ধারণা গুজরাটে মানুষ মরলে সেখানে কোন প্রতিক্রিয়া নেই। কিন্তু দু'টাই যে চরম ভুল, সেটা জানে ক'জন?

এই দু'জায়গায় নিয়মিত যাবার কারণে, আমার মানসিক অবস্থার ওপরেও বেশ ভাল প্রভাব ফেলছে ওরা। কখনো হয়তো কারো লেখা পড়ে ভাল লাগলো খুব, সারাটা দিন আনন্দে কেটে যায় তখন। কারো লেখা পড়ে অনেকটা সময়ে বিষাদে কাটিয়েছি, অথবা তীব্র রাগে অস্থির হয়ে আছি, এভাবেও কেটেছে দিন।

প্রবাসের এই নিঃসঙ্গ জীবনে এরকম দু' দু'টো জলজ্যান্ত সঙ্গী পাওয়াটা সৌভাগ্যই বলতে হবে! ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে দু'পাশে তাকাবার জন্যে এদের কোন তুলনা নেই।

দুঃখ শুধু এই যে, আমার মনে হয়, বার্লিনের মত শক্ত এবং বাস্তবিক কোন দেয়ালের অস্তিত্ব না থাকলেও দুই বাংলার মানুষের মনের ভেতর এখন তারচেয়েও অনেক কঠিন দেয়াল উঠে গেছে।

আমাদের মনের ভেতরকার সেই দেয়াল ভাঙাটা খুব জরুরি বলে মনে হয় আমার। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগটা বাড়ানো খুব জরুরি আসলে। সেই কাজটা করা যেতে পারে এই দু'জায়গায় মত বিনিময়ের মাধ্যমে।
প্রাথমিক অনেক জড়তা থাকবে জানি, কিন্তু সেসব কেটে যেতে সময় লাগবে না মোটেও। দু'টো ওয়েবসাইট, কোথাও যেতে কোন পাসপোর্ট বা ভিসা লাগে না, শুধু নেট খুলে খানিকটা সময় ব্যয়ের সদিচ্ছা থাকলেই হলো। কথা শুরু হতে পারে যে কোন বিষয়েই। নিজেদের মধ্যেকার অভিযোগগুলো দিয়েই শুরু করি না হয়! পরে আস্তে ধীরে আমাদের কানসাটের দুঃখের ভাগী হবেন ওরা, আর ওদের নন্দীগ্রামের কথা ভেবে বুক মুচড়ে উঠবে আমাদের।

ঠিক কেমন করে সম্ভব জানি না, স্বপ্ন দেখতে ভালোই লাগে শক্ত হাতুড়ির ঘা পড়ছে সেই দেয়ালে, আস্তে আস্তে চিড় ধরছে সেখানে এবং ক্রমশঃ সেটা ভেঙে যাচ্ছে...।

আমরা, গুরুচন্ডালি ও সামহোয়্যারের মানুষেরাই হাতুড়ির প্রথম ঘা-টা দিতে পারি। সুযোগটা যেমন করেই হোক আমাদের সামনে চলে এসেছে আসলে। সেটা অবহেলায় হারানোটা উচিৎ হবে কি?

আমার-আপনার নন্দীগ্রাম

ভারতের নন্দীগ্রামে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে ইন্দোদা একটা পোষ্ট করেছেন গুরুচন্ডালিতে
লেখাটি আমার ব্লগে তুলে দেয়াটা আবশ্যক মনে হোল।

--------------------------

কাল সারাটা দিন হাসপাতালে নানান ঝুট-ঝামেলায় কেটেছে৷ যেমন আর পাঁচটা কাজের দিন যায়, তার থেকে একটু বেশীই৷ সাঁঝের ঝোঁকে সোফাতে একটু গা এলালেই নয় যখন, ডক্টর"স রুমে ঢুকতেই কলকল করে বন্ধু ও সহকর্মীরা জানাল -আবার বাংলা বন্ধ৷ শুক্রবার৷
কে ডাকল?
কে আবার, দিদি ছাড়া?
কেন হে?
নাকি নন্দীগ্রামে কিসব ঝামেলা-ঝঞ্ঝাট হয়েছে৷
আ-ব্বার বন্ধ, শুক্কুরবারদিন যে আমার চব্বিশ ঘন্টা ডিউটি! কিছু বাছা বাছা খিস্তি ঠোঁটে আসছে, এক-আধটা বলেওছি, সুরঞ্জনাদি বলল-নারে, অনেক লোক মারা গেছে৷
তখনো ভাবছি-নিশ্চয়ই কৃষিজমি বাঁচাও কমিটির সঙ্গে সিপিএম ক্যাডারদের খুচরো ক্যালাকেলি৷ তো, ধরো অনিকেশদাকে৷ অনিকেশদা (নাম পাল্টে দেওয়া হল) আমাদের কনসালট্যান্ট কার্ডিওলজিস্ট ও মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র; মাই ডিয়ার লোক৷

অনিকেশদা জানাল, না, সিপিএম নয়, ক্যাডার নয়, বিশাল পুলিশবাহিনী ঠান্ডা মাথায় গুলি চালিয়ে মানুষ মেরেছে৷ মেয়েরাও মারা গেছে৷ বুদ্ধবাবু (উত্তেজিত গলায়) মেদিনীপুরকে শেষ না করে থামবে না৷
হতাশ ও ক্রুদ্ধ; অভিমানী৷
এই অনিকেশদাই নন্দীগ্রামের প্রথম ঘটনার পরে বলেছিল- এর নাম মেদনিপুর(না, মেদিনীপুর বলে নি, এব ংগলায় ভূমিপুত্রসুলভ অ্যাক্সেন্ট ছিল), ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়ার আগে ওখানটা স্বাধীন হয়েছে৷

তারপর তো বেশীরাতে বাড়ি ফিরে এসে দেখলাম টিভিতে৷ বন্যার মত টেলিভিশন ফুটেজ আছড়ে পড়তে লাগল চোখে ও মাথায়৷ অপটিক নার্ভ , কায়াজমা , অপটিক ট্র্যাক্ট হয়ে মাথার পেছনদিককার অক্সিপিটাল কর্টেক্সে রক্ত এসে লাগতে থাকল, লিটার লিটার রক্ত, মানুষের রক্ত-মেয়েমানুষের রক্ত, পুরুষমানুষের রক্ত, বাচ্চা-বুড়ো-পাগল-মুনিষ-মাইন্দর-নকশাল-তৃনমূল-সিপিএম-পুলিশের রক্ত৷ যতটা রক্ত বেরোলে পরে মানুষ অনিবার্য হাইপোভোলেমিক শকে চলে যায়, ফেরে না আর কিছুতেই, হদৃযন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়, অবসন্ন৷
যতটা রক্ত বেরোলে পরে মাথার ভেতরে নিও-কর্টিক্যাল এরিয়াতে সিগন্যালেরা সব ঘুলিয়ে যায় পথহারা, বুদ্ধিশুদ্ধি ঠিক তেমনি হাড়গোড়ভাঙা দ হয়ে যায়, যেমন হয়ে রয়েছে পুলিশে খোবলানো নন্দীগ্রামের মানুষেরা, তাদের ভাঙা কলার বোন, হাত-পা ও পাঁজর নিয়ে৷
ভাঙা বুকের পাঁজর দিয়া নয়া বাংলা গড়বো? না:, বুদ্ধবাবু, এই গান আর উঠে আসেনা,এ গান একদা আপনিও গুণগুণিয়ে গাইতেন কিনা সে প্রশ্নও উঠে আসেনা আর ৷
শুধু ক্রোধ, পাশবিক; শুধু ঘৃণা, তাল তাল ও জমাট- বাঁধা- কালো, যতটা কালো হতে পারে জমাট বাঁধা রক্ত, মানুষের রক্ত৷ নকশালী রক্ত? তৃণমূলী রক্ত? আপনি ভাল জানবেন, হে সংস্কৃতিবান পুলিশমন্ত্রী; আরো ভাল জানবেন আপনার প্রিয় বয়স্য, সখা, কৃষকসভা নেতা বিনয় কোঙার, যিনি বলেছেন- পুলিশ কি ফুলের পাপড়ি ছুঁড়বে?
প্রমোদ দাশগুপ্ত একদা বলেছিলেন-পুলিশের বুলেটে কি নিরোধ লাগানো আছে, নকশালরা মরে না কেন? হরেকৃষ্ঞ কোঙার নির্দোষ প্রশ্ন করেছিলেন-পুলিশ কি তবে রসগোল্লা ছুঁড়বে? আর কারা যেন একদা কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় শ্লোগানে শ্লোগানে ভরিয়ে দিয়েছিল-পুলিশ, তুমি যতই মারো/মাইনে তোমার একশ' বারো৷
হা:, রঙ্গপ্রিয় ইতিহাস!

খবরে প্রকাশ , মৃত অন্তত: চোদ্দ, আহতের সংখ্যা পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই৷ হতাহতদের প্রাথমিকভাবে নন্দীগ্রাম প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ আমি নিশ্চিত্ জানি, যাঁরা বেঁচে ছিলেন, তাঁদের যথাযোগ্য চিকিত্সা ঐ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অবশ্যই হয়েছিল, কেননা পশ্চিমবঙ্গের যে কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতই নন্দীগ্রামেও কি আর যথেষ্ট পরিমাণ হজমের ওষুধ, কৃমি ও আমাশার বড়ি এব ংগর্ভনিরোধক পিল (তেমন তেমন হলে চাই কি এক-আধখানা স্টেথোস্কোপ-ও !)ছিল না !

বিভাস চক্রবর্তী বললেন- বুদ্ধবাবুর সাদা পাঞ্জাবীতে কিন্তু রক্তের ছিটে লেগেছে, এব ংলেডী ম্যাকবেথের মত( "আমি নাটকের ভাষাই ব্যবহার করছি'-উনি বললেন) উনিও ওঁর হাতে লেগে থাকা রক্তের দাগ তুলবার চেষ্টায় প্রাণান্ত হয়ে যাবেন, কিন্তু পারবেন না৷
লেডী ম্যাকবেথ? বুদ্ধবাবু? কল্পনা করবার চেষ্টা করলাম বুদ্ধবাবুর র ংও রুজ মাখানো গাল , স্বর্ণাভ উইগ ও মানানসই অ্যাটায়ার-রক্তাক্ত হাত নিয়ে তীব্র বেগুনী আঁধারে তীক্ষ্ণ চীত্কার করে প্রাসাদ অলিন্দ দিয়ে ছুটে যাচ্ছেন৷ হাসি পেয়ে গেল৷
কেননা আমরা তো নাটক দেখিনা সে আজ বহুকাল৷ বাচ্চাটা হওয়ার পর ওকে নিয়ে নাটক দেখতে যাওয়া যায় না, তাছাড়াও ওর পেছনে সময় দেওয়া, আমার হাসপাতাল, আরো পড়াশুনো, সঙ্গীতার অফিস৷ কফি উইদ অর উইদাউট করণ৷ সিটি সেন্টার, কাফিলা;তার ডেকর পেশওয়ারী, তার দেয়ালে ঝোলানো সাজানো বন্দুক, হায় কি অসহায় নির্বিষ !

হাসি ছাড়া তাই কিছু আর নেই আমাদের৷ চিনিহীন কালো কফির মত তেতো হাসি, ঈষত্ বাঁকা, মুখটেপা ও কাষ্ঠ-কিন্তু কোনমতেই হা হা নয়-এমন হাসি৷ এই হাসি মেখে আমরা ট্রামে-বাসে চড়ি , সিট নিয়ে মানুষের সঙ্গে ঝগড়া করি, বিকেলে বিষণ্ন হই,সকালে কোষ্ঠসাফ ও রাতে সঙ্গম করি, শিশুকে আদর করি, বসকে হ্যা-হ্যা বলি ৷ আর গর্তে ঢুকি৷ মেট্রোরেলের, রাজারহাটের,ওপেল অ্যাস্ট্রার
.....

প্রসঙ্গত:, বিভাসবাবু সহ আরো বেশ কয়েকজন নাট্যব্যক্তিত্ব-কৌশিক সেন, সুমন মুখোপাধ্যায়, ব্রাত্য বসু এব ংসম্ভবত: মনোজ মিত্র ও অশোক মুখোপাধ্যায়ও -নাট্য একাডেমির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন৷
বিভাসবাবু আরো বললেন- শঙ্খদার(কবি শঙ্খ ঘোষ) সঙ্গে একদিন দেখা হল, উনি বললেন- বুদ্ধবাবু যে বলেছিলেন, এইসব নিয়ে একদিন কথা বলবেন, কই , বললেন না তো !
বুদ্ধবাবু হাজারো কাজের মানুষ, সবার সঙ্গে কথা বলার সময় না-ও থাকতে পারে৷ ভুলে যেতেই পারেন নন্দীগ্রামের মানুষজনের সঙ্গে কথা বলার কথা,
SEZ -এর আওতায় তাঁদের গ্রামটিকেও ঢোকানো নিয়ে নোটিশ পড়বার আগে৷ ভুলে যেতে পারেন নন্দীগ্রামে পুলিশ ঢোকানোর আগে এলাকার সিপিআই বিধায়ককে অবহিত করবার কথা৷ আর, এমনই বা কে মাথার দিব্যি দিয়েছে যে ভুলে যাওয়া যাবেনা- বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নামের একজন মানুষ একদা একটি দল করতেন , যার নাম মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টি , ট্রামভাড়া ন্যূনতম বাড়লে যারা কলকাতা অচল করে দিয়েছিল, খাদ্য আন্দোলন আর শিক্ষক আন্দোলনের সামনে তারাই ছিল, হ্যা হ্যা, সেইসব মানুষেরা যারা পুলিশকে ইঁট-পাটকেল ছুঁড়তে পিছপা হয় নি, দরকারে বোমা ও পাইপগান৷ এব , ংআমি বিশ্বাস করি, তারা ভুল কিছু করেনি৷ বুদ্ধবাবু, আপনি?
তবে , ভুলে যাওয়া কিছু বুদ্ধদেবের একচেটিয়া নয়৷ পৃথিবী জুড়ে অ্যামনেশিয়া-ডিমেনশিয়ার বাড়বাড়ন্ত, মানুষ-সব মানুষ সব কিছুই ভুলে যায়, সালভাদর আলেন্দে ও পিনোশে, গুলাগ ও হিরোশিমা, লুমুম্বা ও গেভারা, তেভাগা-তেলেঙ্গানা ও মরিচঝাঁপি৷ করন্দার কথা তো লোকে কব্বে ভুলে বসে আছে৷ নন্দীগ্রাম? মাসখানেক সময় দেবেন তো মশায়! তাছাড়া সামনে যখন ইলেকশন নেই ও ব্রান্ড বুদ্ধ যখন সেলি ংলাইক হট কচুরিজ, হ্যা, এখনো, এই আতান্তরেও,জাতীয় নিউজ চ্যানেলের
sms পোলে৷
তাছাড়া , আমরা ই কি চাইনি, গোপনে ও প্রকাশ্যে কত মজলিশে-এদেশের বুকে আর্মি আসুক নেমে !

আজ সকালটাও শুরু হয়েছিল বড় অদ্ভুতভাবে৷ বিধাননগর স্টেশনে নেমে দেখি ভিড় ঠেলে ওভারব্রীজে ওঠা যাচ্ছে না, এত লোক ! সার বেঁধে দাঁড়িয়ে কি যেন দেখছে৷ নিশ্চয়ই কোনো অ্যাক্সিডেন্ট ৷ আমি তো ওসব দেখব না, ও বড় অশ্লীল, ভয়ুরিস্টিক, তাই মানুষ ঠেলে সটান এগিয়ে যাই৷ কিন্তু কোন বিড়ালই বা কবে বেঁচেছে কৌতুহলের কাছে ! তাই একটিবার তাকাই এব ংদেখতে পাই একটি মুন্ডহীন ধড়, আদ্যন্ত পরিষ্কার , তাতে রক্তের ছিটেফোঁটা লেগে নেই, শুধু হাত-পা- ক"টি শরীরের সঙ্গে অদ্ভুত কোণ রচনা করে মুচড়ে রয়েছে, যেন পিকাসোর বাউন্ডুলে কোনো ছবি৷ হনহনিয়ে এগিয়ে যাই,একেই যথেষ্ট দেরী হয়ে গেছে
... তাছাড়া ও তো মরেই গেছে, আমার মাঝখান থেকে গন্তব্যে পৌঁছতে দেরী হয়ে যাবে৷
রাতে টিভি দেখে মনে হল, নন্দীগ্রামের প্রতিবাদও ঐভাবেই মুখ মুচড়ে পড়ে রয়েছে, একদা সোনালী ডানার চিল ছিল হয়তো বা, যখন আমরা, আমাদের বাপ-দাদারা স্বপ্নে দেখত যৌথ খামার৷ অবিকল পিকাসোর বাউন্ডুলে কোনো ছবি৷ লেননের ফার-ফেচেড ইমাজিনেশন৷
কিন্তু সে আজিকে হল কত কাল৷ ওসব এক্কেবারে মরে গেছে, অত্যাধুনিক ইনস্যাস রাইফেলের ঠেলায় কি আর কেউ টেকে ! এতেও না শানালে সেনা ছিল, এ কে ৪৭/৫৬ ছিল
.. থাগগে৷ কেমিক্যাল হাবের সঙ্গে সঙ্গে হোটেলটোটেলও হলে পর, সালেম গ্রুপ যখন, একবার বর ংঘুরে আসা যাবে উইকএন্ডে,ছোট পরিবার, সুখী পরিবার৷

বারংবার হটে হটে হঠাত্ হটেনটট যোদ্ধা যেন ছুটে যায় সিংহের দিকে/ এরকমই স্বপ্নে ঘুমে বুকের ভেতরে যেন গুরগুর
... তুষার রায় একদা লিখেছিলেন৷
কিন্তু তুষার রায় তো এখন মৃত৷ আর মৃতেরা এ পৃথিবীতে ফেরে না কখনো৷ তাদের কবরের ওপর আর কেউ নয়, কিছু নয় শুধুই তুষার, শুধু ধূ ধূ প্রান্তরে বনে কেবলই তুষার ঝরে, শুধুই তুষার৷


আর, যারা ফেরে, তারা তো প্রেত৷ তুষার ঠেলে ঠেলে ছাই র ংমুন্ডহীন কবন্ধ, শুকনো মামড়ি-ওঠা ঠোঁট, কাটা হাত তুষারযোনি অশরীরী৷
দেশ যাদের কোনো মাতৃভাষা দেয় নি কখনো৷৷

--- ইন্দ্রনীল ঘোষ দস্তিদার।

---------

যায়যায়দিন ও ব্লগ বিষয়ক লেখা নিয়ে হাবিজাবি কথা-

এমনিতে যায়যায়দিন পত্রিকা পড়ি না। ওদের কার্যকলাপ পছন্দ নয়। আমার একজন প্রিয় ব্লগার, যার একটা বৃহৎ স্বপ্নের বাস্তবায়নে নিজের ক্ষুদ্্র অবদান রাখার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলাম, তিনি সে পত্রিকায় কাজ করেন জানতে পেরে আমি বেশ কদিন দ্বিধায় ভুগেছি এই ভেবে যে, আমাদের মতের মিল হবে তো?
ভাগ্য ভালো যে প্রাকৃতিক ভাবেই সেই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়েছিলাম।

যায়যায়দিনের ওপর নানা কারণে রাগ। ওদের বানানরীতি নিয়ে অনেক আপত্তি করা যায়, আনন্দবাজারের চেয়ে কোন অংশে কম যায় না তারা। তারচেয়ে বড় কথা, একটা দীর্ঘসময় ধরে যায়যায়দিন আমাকে বোকা বানিয়ে এসেছে! আওয়ামীলীগের ক্ষমতার পুরোটা সময়ে আমি মন্ত্রমুগ্ধের মত যায়যায়দিন পড়তাম। সে সময়ে সরকারের ধারালো সব সমালোচনা করতো পত্রিকাটি। নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো- এরকম ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে আমি ভাবতাম, কি দারুন সাহস এদের, সরকারকেও ছাড়ে না, কি দারুন দেশপ্রেম!
পরবর্তীতে বিএনপির আমল শুরু হলে মাসকয়েক যাবার পরেই আমি যায়যায়দিনের আসল চরিত্র বুঝতে পেরে সে পত্রিকা পড়া ছেড়ে দিলাম। এখন একেবারেই পড়ি না।

ব্লগ নিয়ে ইদানীং নানা পত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে। বেশ উৎসাহব্যাঞ্জক ব্যপার। আমাদের ব্লগের কৌশিক আহমেদ এরকম লেখকদের মধ্যে একজন। তাঁর সর্বশেষ লেখা- “ যেমন ইচ্ছে লেখার আমার ব্লগ-এর খাতা“ পড়বার জন্যেই সর্বশেষ যায়যায়দিনে ঢুঁ মারলাম।
বেশ ভালো লাগলো লেখাটি। কৌশিক আহমেদের আগের লেখাদুটিও পড়েছিলাম। নতুন একটা কিছুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হলে যে সহজবোধ্যতা দরকার, ঐ লেখাগুলোয় সেটার খুব অভাব ছিলো। এবারেরটাতে তা নেই। ইতিমধ্যেই সেই লেখা পড়ে বেশ কয়েকজন এই ব্লগ ঘুরে গেছেন, তার মানে হলো সেই লেখার কার্যকারিতাও প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে। এটাও বেশ আশাপ্রদ।
লেখাটি পড়ে আমিও অনেক নতুন তথ্য জানলাম। কোন কোন বিখ্যাত মানুষদের সাথে খুব শিঘ্রই আমাদের এই ব্লগে দেখা হবে, সে তালিকা পড়লে খানিকটা পুলকিত হতে হয়!
ব্লগার কনফুসিয়াসপ্রজাপতির বিয়ের খবরও আছে দেখলাম, এবং দেখে খানিকটা লজ্জিতও হলাম। এইখানে, কৌশিক আহমেদ এবং বাকি সব পাঠকের জন্যে খানিকটা তথ্য সংযোজন করা আবশ্যক বলে মনে হচ্ছে। লেখাটিতে বিয়ের খবরটি উপস্খাপনার “গুণে'' অথবা “দোষে'' মনে হতে পারে যে কনফুসিয়াস ও প্রজাপতির পরিচয় সম্ভবত এই ব্লগের সূত্র ধরেই। বাস্তবিক তা নয়। এই দুইজন মানুষ পরস্পরকে চিনেন গত সাত বছর ধরে। এই পরিচয়, বন্ধুত্ব ও প্রেম ইত্যাদি পর্যায়ের পর তার পরিনতিতেই তারা বিয়ে করেছেন। সামহোয়্যারইনব্লগ তাঁদের জীবনের একটা অংশ বটে, তবে ব্লগই তাঁদের জীবনের এত বড় একটি সিদ্ধান্তের প্রধানতম ক্যাটালিষ্ট নয়।
তথ্যের উপস্খাপনায় অবশ্য বড় কোন সমস্যা নেই। তবে কিছু স-হৃদয় রোমান্টিক পাঠক এই বেলা সামহোয়্যারইন ব্লগকে ঘটক পাখী ভাইয়ের ভুমিকায় দেখতে না চাইলেই হলো!
লেখককে ও বাকি সব বোদ্ধা পাঠককে শুভেচ্ছা।


বুধবার, মার্চ ১৪, ২০০৭

বাংলাদেশ নিয়ে হতাশা কেন?

বাঙালি আড্ডাগুলো আমার খুবই অপছন্দের। প্রায় একই ধরণের ঘ্যান ঘ্যানে ও ঘিন ঘিনে আলাপের চল সেখানে। শুরুতে দুয়েকটা আড্ডায় আগ্রহ ভরে গিয়েছিলাম, এবং তখনকার অভিজ্ঞতা থেকে মনে মনে কান ধরেছি, বাপু হে, আর নয়। এইবার ক্ষ্যান্ত দাও।

আড্ডাগুলোর যে ব্যাপারটা আমার সবচেয়ে অপছন্দ, বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এলেই দেখা যায় সবাই চরম হতাশাবাদী হয়ে উঠেছে। নাক কুচকে ভুরু বাঁকিয়ে কাঁধ নাড়িয়ে সবাই উদাস গলায় বলে, নাহ, এই দেশ দিয়ে কিছু হবে না।
আমি তখন গলা নরম করে জিজ্ঞেস করি, কেন হবে না বলুনতো, কি মনে হয় আপনার? কোথায় সমস্যা?
এরকম সরাসরি জিজ্ঞাসায় বক্তা সাধারণত একটু বিহবল হয়ে যান। এদিক ওদিক তাকিয়ে দুয়েকজন সমর্থক খোঁজার চেষ্টা করেন। কারণ সম্ভবত আর কোন আড্ডায় এরকম হতাশ দীর্ঘশ্বাসের পরে তাকে এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় নি। অন্য যারা দীর্ঘশ্বাস রেডি করেছিলেন, তারা সম্ভবত আমার আক্রমণাত্মক ভাবভঙ্গি দেখে সেগুলো আর বেরুতে দেন না, আটকে ফেলেন। আর মূল বক্তা তখন গলা খাঁকারি দিয়ে বলে ওঠেন, না, এই যে দেখেন, চারিদিকে সন্ত্রাস, দূর্নীতি জীবনের নিরাপত্তা নেই, এরকম হলে একটা দেশ কেমন করে উঠবে বলেন? দেখেন আমাদের পাশের দেশ সিঙাপুর, মালয়েশিয়া ওরা কত উন্নতি করে ফেললো তর তর করে...।

অন্য কোন দেশের সাথে তুলনা চলে এলেই আমার রাগ হয় খুব। সিঙাপুর বা মালয়েশিয়ার ইতিহাসের সাথে আমাদের মিল নেই। বাঙালি জাতিই একটা মিশ্র জাতি। যুগে যুগে নানাদেশের নানান রকম মানুষ সম্পদের লোভে এইখানে এসে বসতি গড়েছিলো, তখন থেকেই এই অঞ্চলের মানুষের রক্তে মিশ্রণ শুরু হয়ে গেছে। আজ এতদিন বাদে যদি তাকাই তো দেখি বাঙালি কারো সাথে কারো চেহারায় মিল নেই। একেকজনের চেহারার গঠন বা বৈশিষ্ঠ একেকরকম। এবং আমি নিশ্চিত যে বাইরের চেহারার সাথে সাথে তাদের মনের গঠনেও রয়েছে বিভিন্নতা ও বৈচিত্র! ঠিক এরকম একটা মিশ্র ইতিহাস সাথে করে নিয়ে একটা জাতিকে “এক'' হয়ে উঠতেই বিস্তর সময়ের প্রয়োজন। আমরা কি আদৌ সেই সময়টা পেয়েছি? আমার মনে হয় না।

খুব সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অবশ্য নানা রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ইস্যুতে আমরা একসাথে গর্জে উঠেছি ঠিক। ৫২, ৬৯, ৭১ বা ৯০- এ সবই সেসবের একেকটা বহি:প্রকাশ। এবং আমি মনে করি, ভেতর ও বাইরের এরকম বিভিন্নতা ভুলে কিছু সময়ের জন্যে এক হয়ে যাবার যে প্রবণতা- তার সুফলও আমরা হাতে নাতেই পেয়েছি- নিজেদের ভূখন্ডের স্বাধীনতা পেয়েছি আমরা, পেয়েছি নিজেদের ভাষার অধিকার। এসব ঘটনাই প্রমাণ করে না যে আমাদের “হবে''- বাংলাদেশের কিছুই হবে না নয়, বাংলাদেশের অনেক কিছুই হবে?

সঠিক নেতৃত্ব না আসার দূর্ভাগ্যও আমাদের উন্নতিতে দেরি হবার ( উন্নতি না হবার- কথাটা ভুল বলে মনে করি আমি ) পেছনের একটা বড় কারণ। আমাদের স্বভাবের মাঝেই অসততা বা দূর্ন ীতি ঢুকে বসে আছে- এরকম কোন ধারণাও ভুল। ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান সারা দেশের মানুষের সমর্থন পেয়েছে। দূর্ন ীতিবাজ রাজনৈতিক নেতাদের ঢালাও গ্রেফতারেও সাধারণ মানুষ খুশি। যে কোন ভালো উদ্যোগেই দেশের মানুষ নিজের সবটুকু শ্রম দেয়। অমিত নামের ছোট্ট ছেলেটির জন্যে সারা দেশের মানুষের নি:স্বার্থ ভালোবাসার কথা আমরা ভুলে যাই নি। ব্লগের এ ছোট্ট পরিসরেও যখন প্রাপ্তির কথা উঠলো, প্রায় সবাই তার সাধ্যমতোন চেষ্টা করেছে। প্রথম আলোর মঙ্গাপীড়িতদের জন্যে অথবা এসিডদগ্ধদের জন্যে যে তহবিল সেখানে প্রতিদিনই জমা হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। এবং দেখা যাচ্ছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই সেখানে বড় অংকের টাকা জমা দিচ্ছেন। যার মানে হলো, তাদের অনেকেই মন থেকে সেবা করার উদ্দেশ্যেই দান করছেন।
এসবই আমাদের মনের ভেতরকার ভালোত্বের প্রকাশ। যত দিন যাবে, ছোট ছোট ভালো গুণ মিলিয়ে আমরা আমাদের হৃদয়টাকে অনেক বড় করে তুলবো অবশ্যই, আমাদের বাঙালি হৃদয়ও তখন পরিচিত হবে সৎ ও দূর্ন ীতি বিরোধি হিসেবে।

কিছু সৎ নেতৃত্ব দরকার আমাদের, কিছু শক্ত আইন দরকার, সেই আইন রক্ষার জন্যে দরকার কিছু নিষ্ঠাবান প্রশাসক। এবং আমার ধারণা, এই চাওয়াগুলো আকাশকুসুম কোন কল্পনা নয়। এসবই সম্ভব। পঁয়ত্রিশ বছর গিয়েছে, জানি এটা অনেক সময়, আমরা হয়তো একটু লেট লতিফই হলাম। পঁয়ত্রিশে পারি নি, সত্তরে হোক!

আমি বরং খুব নিকট ভবিষ্যতে খুব সুন্দর একটি বাংলাদেশ দেখতে পাই। আমাদের বয়েসী যারা আছে, আমাদের সমমনা বন্ধুরা, আমি তাদের অনেকের মাঝেই দেশের জন্যে অপরিসীম ভালোবাসা দেখেছি। সৎ জীবন যাপনের অঙ্গীকার দেখেছি। আমি জানি, এরকম মানুষের সংখ্যা হয়তো এখনো অনেক কম, কিëতু সেটা একসময় বাড়বে নিশ্চয়। আমাদের এ আশাবাদী চিন্তাগুলো যদি আমরা ছড়িয়ে দিতে পারি সবার মধ্যে, যারা হতাশায় কেবলই মাথা নাড়েন, তাদের মাথাটাকে শক্ত করে চেপে ধরে যদি বলি, দেখুন, বাংলাদেশের উন্নতি হবে, খুব তাড়াতাড়িই হবে যদি আপনি মাথা নাড়ানো থামিয়ে দেশের জন্যে একটা ভালো কিছু করার সংকল্প করেন, তবেই সেটা সম্ভব।

হতাশাবাদীদের মুখে ঝাঁটার বাড়ি, আমি ভাই সারাজীবনই আমার দেশ নিয়ে আশাবাদীদের দলে। আপনি?

রবিবার, মার্চ ১১, ২০০৭

ওয়ান বেগম ডাউন-

দি ইকোনোমিষ্টে একটা লেখা পড়লাম। শিরোনাম বেশ মজার- "ওয়ান বেগম ডাউন''।
খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানকে গ্রেফতার করার পরে লেখা প্রতিবেদনটা। তারেক রহমানের সুপ্রচলিত ডাক নামটাও এখানে বলে দেয়া হয়েছে- মিষ্টার টেন পার্সেন্ট। তার মায়ের আমলে বাংলাদেশে যতগুলো বিজনেস ডিল হয়েছে তার সবগুলো থেকেই তারেক রহমান টেন পার্সেন্ট চাঁদা পেতেন- এরকমই শোনা যায়।
তারেক রহমানের চাঁদাবাজীর ব্যাপকতা নিয়ে অবশ্য আরো অনেক গল্প প্রচলিত আছে।
ইকোনোমিষ্টের প্রতিবেদনটা পড়ে ভাল লাগলো। ওখানে অবশ্য বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পেছনে সামরিক বাহিনির হাত থাকবার কথা একদম সরাসরি বলা হয়েছে। অবশ্য বলুক আর না বলুক, বুদ্ধিমান মাত্রই সেটা ধারণা করাটা খুব কঠিন কিছু না।
লেখাটিতে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে যে একজন বেগম ডাউন হয়েছেন, এখন বাকিজন গেলেই বাংলাদেশ আপাতত হাঁপ ছেড়ে বাঁচবে!
কোন বাংলাদেশী লিখেছেন কি-না রিপোর্টটা জানি না, তবে বলেছেন একদম আমাদের মনের কথা!

শুক্রবার, মার্চ ০৯, ২০০৭

শিমুল মুস্তাফার আবৃত্তিঃ মকবুল সমুদ্রে যাবে-

শিমুল মুস্তাফার প্রসঙ্গে কে যেন একবার বলেছিলেন, সম্ভবত লুৎফর রহমান রিটন, নাকি অন্য কেউ ভুলে গেছি, যে, এত ছোট্ট একটা শরীর থেকে এত জোরালো শব্দ কেমন করে বের হয় ভাবতেই অবাক লাগে!
গানের মতই আবৃত্তি বিষয়ক কোন জ্ঞান নাই আমার। শুনে শুনেই যতটুকু বুঝি সেটুকুই, মানে হলো, শোনার জন্যে তৈরি দু'খান কানের কল্যাণে বুঝবার জন্যে তৈরি একটা প্রাণ পেয়ে গেছি আমি, সেটাই ভরসা!
আবৃত্তির জন্যে পাগল আরো অনেক আগে থেকেই। আমি আর আমার পিঠাপিঠি ছোটমামা একসাথে বড় হয়েছি। আমি যখন সেভেন বা এইটে, ঐ সময় ওনার মনে অনুরাগের আবির্ভাব হয়েছিলো- তখন তিনি সারাদিন আবৃত্তি শুনতেন। মাহিদুল ইসলাম আর শমী কায়সারের বিনাশ ও বিন্যাসে শুনতে শুনতে প্রায় মুখস্খ হয়ে গেছিলো- আমার আবৃত্তি-প্রেমও আসলে তখন থেকেই।
পরবর্তিতে কার্জন হলের ছাত্র হবার সুবাদে টি.এস.সি যখন আমার সেকেন্ড হোম, তখন অনেকগুলো আবৃত্তি সংগঠনকে কাছ থেকে দেখেছি, অনেকগুলো প্রোগ্রামে গিয়েছি। ঐ সব আবৃত্তি সংগঠন গুলার প্র্যাকটিসে যাওয়াটা আমার কাছে ভীষন লোভনীয় লাগতো- নিজে যদিও কখনো আবৃত্তি করি নাই কিন্তু পাশে থেকে শুনেও শান্তি লাগতো!
তখুনি টের পেয়েছি যে প্রতিষ্ঠিত অনেক আবৃত্তিকারের চেয়েও আসলে ঐসব ক্ষুদ্্র সংগঠনের অনেক অখ্যাত ছেলে-মেয়ের আবৃত্তি অনেক বেশি বলিষ্ঠ্য।
বিপ্লব মজুমদার এরকমই একজন। এরকম অসাধারণ আবৃত্তি আমি আর কোথাও শুনি নি। তিনি অবশ্য বিখ্যাত ছিলেন তার প্যাঁচ নামক রম্য-আবৃত্তির জন্যে। অন্যজন হলেন জগজ্জীবন জয়। জীবনানন্দের কবিতা যেরকম অসাধারণ, তেমনি কঠিন হলো সেগুলোকে আবৃত্তিতে সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা, এই কাজটা জগজ্জীবন জয়কে খুব ভালোভাবে করতে দেখতাম।
ভালো লাগতো জাহিদ হাসানের আবৃত্তি, মাসুদ সেজান মোটামুটি। নুসরাত লাবণীও অসাধারণ।
ঐসব প্র্যাকটিসগুলোয় বিনা বাধায় থাকতে দিবে, শুধু এই লোভে রোদ বৃষ্টি ঝড় মাথায় করে নিয়ে কতবার যে ওদের নানা প্রোগ্রামের টিকেট বিক্রি করে দিয়েছি তার কোন হিসেব নেই!
একটা প্রোগ্রামের কথা মনে পড়ে, তখন অপারেশান ক্লিন হার্ট চলছিলো বোধহয়। রাতের বেলা আবৃত্তির প্রোগ্রামে আমরা সম্ভবত রাশান কালচারাল সেন্টারে। আহকামউল্লাহ এসে একটা অসাধারণ প্রতিবাদী কবিতা আবৃত্তি করে স্টেজ থেকে নামলেন, তার খানিকক্ষণ পর খবর পেলাম যৌথ বাহিনির হাতে তিনি গ্রেফতার হয়েছেন। ভীষন মন খারাপ নিয়ে হলে ফিরেছিলাম সেদিন।
টি.এস.সি তে মাঝে মাঝেই মুক্ত অনুষ্ঠান হতো আবৃত্তির। ঐ সব অনুষ্ঠানের কল্যাণেই জেনেছি, বিনাশ ও বিন্যাসেই আসলে মাহিদুল ইসলামের শ্রেষ্ঠ আবৃত্তি নয়, তারচেয়েও হাজার গুণ বেশি ভালো আবৃত্তি তাঁর- আমার বন্ধু নিরঞ্জন অথবা নূরালদীন!

এরকমই একটা মুক্ত অনুষ্ঠানের গল্প করেছিলো আমার বন্ধু কামরুল। শুনে ভীষন মজা পেয়েছিলাম। মঞ্চে আবৃত্তি করছিলেন শিমুল মুস্তাফা। সম্ভবত কেউ কথা রাখেনি বা ওরকমই কোন কমন কবিতা। মজা হচ্ছে, সেই আবৃত্তির সাথে সাথে বাউন্ডারির বাইরে দাঁড়িয়ে একটা টোকাই হাত-পা ছুঁড়ে ভীষণ নাচছে। আবৃত্তির সাথে কোন সঙ্গতি নেই, বা আবৃত্তির সাথে মানুষ নাচে এরকম উদ্ভট ধারণাই বা সে কোথায় পেল কে জানে, কিন্তু তবু সে নাচছে। শিমুল আবৃত্তির ফাঁকে ফাঁকে সেটা খেয়াল করলেন। একসময় আব ৃত্তি শেষ হলো, পরবর্তি কবিতা আবৃত্তির শুরুতে হঠাৎ শিমুল সেই টোকাইয়ের দিকে তাকিয়ে মাইকে বলে উঠলেন, “ এটা কিন্তু নাচের কবিতা নয়। তুই এবার খবরদার নাচবি না!'' টোকাই ভীষন লজ্জা পেয়ে কাঁচুমাচু মুখ করে টিএসসি ছেড়ে দৌড়ে পালালো!
শিমুলের আবৃত্তি আমার বেশ ভালো লাগে। এর মাঝে দুএকটা ভীষন প্রিয়! সেরকমই একটা হলো- মকবুল সমুদ্রে যাবে। কবিতাটি কার জানা নেই, ভাবেসাবে মনে হয় সৈয়দ শামসুল হকের হবে বোধহয়, কিন্তু জাস্ট অসাধারন একটা কবিতা। গায়ে কাঁটা দিয়ে যখন শিমুল তাঁর উদাত্ত গলায় পাকিস্তানী সেনাদের নৌকার উদ্দেশ্য বলে ওঠেন, আল্লাহু আকবর,ডুবি যা ডুবি যা ডুবি যা, বদর বদর ক, গাজী গাজী ক, হালার পুত হালারা ডুবি যা ডুবি যা, বাইনচোত ডুবি যা!!
মার্চ মাসের আগুন ঝরা দিনে তাই সহব্লগারদের জন্যে তুলে দিলাম শিমুল মুস্তাফার আবৃত্তিতে- মকবুল সমুদ্রে যাবে!

mokbul somdre jaab...



-----------
লেখাটি সামহোয়্যারে পোষ্টানর পরে অমি রহমান পিয়াল জানালেন- কবিতাটি মণিভূষণ ভট্টাচার্য্যের লেখা, নাম সমুদ্রে যাবে।
ধন্যবয়াদ পিয়াল ভাইকে।


হোয়াট আ ডে!!!


রাতে ভালো ঘুম হয় নাই তাই সকালে যখন ক্লাসে যাবার জন্যে উঠতে হইলো মেজাজ গেলো বিলা হইয়া। বিলা হওয়া মেজাজে পি.সি.র সামনে বইসা দেখি বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডরে শোয়াইয়া ফালাইছে! মনটা খুশিতে আনচান কইরা উঠলো কিন্তু ক্লাশে গিয়া পাইতে লাগলো বেজায় ঘুম। যাওয়ার সময় হাউজমেটের গাড়িতে চইড়া গেছিলাম তাই সীটের মধ্যে আরাম কইরা চোখ বুইজা ছিলাম। কিন্তু আসার সময় ও আর আসবো না এদিকে আমার গাড়ি আনি নাই তাই বাসে যাইতে হইবো। বাসের লাইগা লাইনে দাঁড়াইয়া দেখি গত সাত বছরে এই প্রথম আমি মানিব্যাগ বাসায় ফেইলা বাইর হইছি! মানিব্যাগের মইধ্যে আমার ব্যাংক কার্ড বাসের টিকেট সব কিছু। এখন ঐসব বাদ দিয়া কেমন কইরা কি দিয়া টিকেট কাটুম বুঝতাছি না কিন্তু ভাগ্য ভালো যে আমার আরেক হাউজমেট একই বাসে কইরা সিটিতেই ল'ইয়ারের লগে দেখা করতে যাইবো। আমি ওর কাছ থেইকাই তিন টাকা ধার লইয়া আমার কাছ থেইকা ২০ সেন্ট দিয়া একটা দুই ঘন্টার টিকেট কাইটা বাসে চইড়া আমার সাবআর্বে হাজির হইলাম। ঐখানে গিয়া আবার বাস বদলাইতে হইবো কারন এই বাস আমার বাসার সামনে দিয়া যায় না কিন্তু ঐ বাস যাইবো। বাসের লাইগা গালে হাত দিয়া বইসাই আছি বইসাই আছি কিëতু বাস আর আসে না। যাক অবশেষে বাস আসিলো আমিও খুশি হইয়া তাতে চাইপা বসলাম এবং সুন্দরমতোন সোজা বাসার সামনে আইসা নামলাম। আজকে আবার বিকালে কাজ আছে তাই ভাবছিলাম বাসায় গিয়া আরাম কইরা একটু ঘুম দিমু কিন্তু ঘুম আর আসে না। অবশেষে নাকে মুখে বালিশ চাপা দিয়া জোর জবরদস্তি কইরা ঘুমটারে টাইনা চোখের উপরে নামাইয়া আনার সময় দেখি কাজে যাওনের আর মাত্র আধা ঘন্টা আছে! আধা ঘন্টাই সই টাইপ চিন্তা মাথায় নিয়াই চক্ষু বুইজা ঘুম দিলাম আর মনে হইলো ঠিক পাঁচ মিনিট বাদেই কানের পাশে মোবাইলের অ্যালার্ম বাইজা উঠলো! ধড়মড় কইরা উইঠা কোন মতে রেডি হইয়া পেটের মধ্যে ধুমধারাককা খিদা চাপাইয়া স্পিড লিমিটের বারোটা বাজাইয়া প্রায় উইড়া গিয়া কাজে হাজির হইলাম। ম্যানেজার আমার দিকে একবার তাকাইয়া নিজের ঘড়ির দিকে একবার চাইলো আর আমি সাথে সাথেই খুব মনোযোগ দিয়া আমার ডানপাশে 'কিছু একটা' খুটাইয়া খুটাইয়া দেখতে লাগলাম। কোলস এক্সপ্রেসের আমাগো স্টেশানতে সাধারণত মঙ্গলবারে ভিড় বেশি থাকে কারণ ঐদিন তেলের দাম থাকে সবচে কম। কিন্তু বুধবারেই আবার সেইটা সবচে বাইড়া যায় তাই পাবলিকও সেদিন আসেই না বলতে গেলে। কিন্তু আজকে স্টোরে ঢুইকাই লম্বা লাইন দেইখা মনটা চুপসাইয়া গেলো তখুনি বাইরে তাকাইয়া দেখি হালার তেলের দাম দেখি কালকের চেয়েও কম! কোনমতে কাউন্টারের পেছনে জাম্প মাইরা খাড়াইলাম আর শুরু হইলো গলাবাজি। ঘন্টাদুয়েকের মধ্যে প্রায় ৮০ জন কাস্টোমার সার্ভ কইরা আমার গলা যখন শুকাইয়া কাঠ আর পেট খিদায় চোঁ চোঁ, তখন দেখি একটা পাম্পের কাস্টমার হাওয়া হইয়া গেছে! মানে হইলো গিয়া ড্রাইভ অফ! অর্থাৎ ঐ হমুন্দির পুতে তেল লইয়া পয়সা না দিয়াই ফুটছে! মনটা দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতন বিলা হইয়া গেলো গা। পুলিশে কল কইরা হাজার রকমের কাগজপত্র ফিলাপ কইরা যখন কোমর সোজা কইরা খাড়াইলাম তখন আমার কলিগ আবার আরেকটা পাম্পের দিকে আঙুল তুইলা দেখাইয়া কইলো ঐটাও গায়েব! আমি মনের দু:খে বনে যামুগা কিনা এইটা যখন ভাবতাছি তখন দেখি কাউন্টারের সামনে আবার লম্বা লাইন। আমাগো স্টোরের পাশেই হাঙ্গরি জ্যাকসের দোকান তাই খিদা লাগলেই ঐখান থেইকা একখান বার্গার আর চিপসের হুপার মিল কিইন্যা খাইয়া ফালাই কিন্তু আজকে হালার কাস্টমারের জ্বালায় সেই চান্সই পাইলাম না! খিদার জ্বালায় চোঁ চোঁ করতে করতে আরো একটা মানে হইলো মোট তিনটা ড্রাইভ অফের ঠেলা সামলাইয়া রাত ১২ টায় আবার বাসার উদ্দেশ্যে উড়াল দিলাম। বাসার কাছের ব্রিজের উপর দিয়া প্রায় ৯৫ স্পিডে চালাইয়া আসতাছি যদিও ঐখানে লিমিট হইলো ৮০ তখুনি দেখি পাশের উলটা দিকের রাস্তার একটা গাড়ি হঠাৎ কইরা ঘুইরা গিয়া মাঝখানের ডিভাইডারের উপর দিয়া লককর ঝককর করতে করতে ঠিক আমার লেনে আইসা পড়লো! আমি ৯৫ স্পিডের মধ্যেই ব্রেকের উপর প্রায় খাড়াইয়া গিয়া দুই হাতে হর্ন দিতে লাগলাম আর ঐ ব্যাটা মনে হয় ঘুমাইতে ঘুমাইতে আস্তে কইরা আমার লেন ছাইরা পাশের লেনে চইলা গেলো। আমি ঐটার পাশ দিয়া আসতে আসতেও সমানে হর্ণ দিলাম, ঈমানে কইতাছি গত আড়াই বছরেও সব মিলাইয়া আমি এত হর্ণ দেই নাই আজকে একদিনেই ঐ শশুরের ছাওয়ালরে যত হর্ন দিছি! অবশেষে বাসার সামনে আইসা পার্কিংয়ে খাড়াইয়া গাড়ির স্টার্ট বন্ধ কইরা একটা লম্বা নি:শ্বাস ফালাইয়া কইলাম হোয়াট আ ডে!

সোমবার, মার্চ ০৫, ২০০৭

বাংলাদেশ সম্পর্কিত মিথ্যা তথ্যের প্রতিবাদ-

গুরুচন্ডালির টইপত্তরে অরিজিৎদা বাংলা বর্ণমালা বিষয়ক একটি পোষ্ট দিয়েছেন।
অনেকদিন বাদে সেখানে গিয়ে জনৈক 'B'- এর সাথে বাংলাদেশ সম্পর্কিত ভুল তথ্যের ব্যপারে কিছু চিঠির আদান প্রদান হয়েছে।
এ ধরণের লেখাগুলো হারিয়ে যায় বিধায় সেগুলোকে এখানে তুলে রাখা দরকার বলে মনে হোল।

--------------
২ মার্চ, ২০০৭ ভারতীয় সময় সন্ধ্যে ৭টা ৩৬ এ 59.93.192.253 আইপি থেকে B লিখেছিলেন-

পুরোনো কচকচির পুনরাবৃত্তি :

বাংলাদেশে, আমার জ্ঞান অনুযায়ী, বিসর্গ এব ংচন্দ্রবিন্দুকে তাদের প্রয়োগ আর ব্যবহারের স্বল্পতার কারণে বাংলা বর্ণমালা থেকে লুপ্ত করা হয়েছে৷

আমার মতে সনাতন ধর্মের সংস্কৃতির পূজা পার্বণের মন্ত্রে এই দুই অক্ষরের প্রয়োগ এত বেশী, সেই কারণে এব ংসনাতন ধর্মের প্রয়াত ব্যক্তির নামের পূর্ব্বে চন্দ্রবিন্দুর ব্যবহারে সংখ্যলঘুদের পূর্ব্বজদের বা প্রয়াত ব্যক্তির কল্পিত ঈশ্বরলোকবাসের চিন্তাকে মাথায় রেখে সংখ্যালঘুদের উপরে আঘাত হানার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷

আমার বক্তব্য ছিলো, আজও আছে, যে ঐ একই কারণে, অনুস্বার-এর লোপ পাওয়া উচিত ছিলো, কিন্তু সেই কাজ করলে বাংলাদেশ রাষ্টের্র নাম লেখায় বিরাট অসুবিধে হোত৷

সেরকমই খণ্ড ৎ-ও তো লোপ পাওয়া উচিত ছিলো!! প্রয়োগ নিতান্ত কম, নেইই প্রায়৷ থাকলেই যে সৎ ব্যক্তি বাড়বে এরকম কোন কথা নেই যদিও, আবার না থাকলেও অসৎ ব্যক্তিরা বৃহৎ বৃহৎ কাণ্ড বেশী ঘটিয়ে দেশের অর্থনীতিকে চিৎপাত করিয়েই চলবেন
....

বিসর্গের ব্যবহারও অত্যন্ত কম৷ কিন্তু এ না থাকলেই কি দু:খ কমবে? এর অপসারণ নি:শব্দে ঘটালে এখানে পচ্চিম বাংলায় অবশ্য 'পটলবাবু ফিল্মস্টার' গল্পটাই মারা পড়তো, কিম্বা হয়তো সেই "একটু জল পাই কোথায় বলতে পারেন?" গল্পটা৷

কিন্তু চন্দ্রবিন্দুর অপসারণের কোন যৌক্তিক কারণ নেই৷ এই মূহুর্ত্তেই অন্তত: ১৫০-টি শব্দ লিখে দিতে পারবেন এ পাতার যে কেউ৷ একদম নিজের ধাঁচে লিখে, কাউকে ফাঁদে না ফেলে, না কেঁদেকেটে এই যে কথাগুলো বললাম, তা, আঁচ করছি, কাঁচের মত পল্কা লাগবে না ভালোমানুষদের৷ যুক্তিটা বাঁচবেও অনেকদিন হয়তো৷

(বাংলাদেশীরা দু:খ পেলে মাফ করবেন)

----------------------

পরদিন রাত ১১ টা ৫ এ, আমি জানতে চেয়েছিলাম-

B ,
আমার জানা ছিল না বাংলাদেশে বর্ণমালা থেকে বিসর্গ আর চন্দ্রবিন্দু বাদ দেয়া হয়েছে৷
এই সিদ্ধান্ত কারা নিলো? কবে থেকে কার্যকর করা হলো? একটু কষ্ট করে জানাবেন প্লীজ?
কোন তথ্যসূত্র উল্লেখ করলে সবচে' ভালো হয়৷

অবশ্য এইবার দেশে গিয়ে মামাতো বোনের জন্যে কেনা বর্ণমালার বইয়ে এই দুটো বর্ণকে "দেখি নি' বলে তো মনে পড়ছে না!
মনে হচ্ছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক খবরাখবরে বেশ পিছিয়ে আছি!

আপনাকে আগাম ধন্যবাদ জানিয়ে রাখলাম৷

-------------------------

তার উত্তরে ৪ মার্চ রাত ২ টা ৩ মিনিটে B লিখেছেন-

কনফু/তারেক

আশীর্বাদ করি তোমার বিবাহিত জীবন অপার সুখের হোক! বহুদিন পরে দেখা হোলো৷ তাও তুমি এখন "শাদিশুদা" তাই ওপরের নামে সে-এ-ই আদরের 'পিচ্ছি' ডাকটা লিখলাম না৷ যদিও সম্পর্কটা সেখানেই আছে৷

কাজের কথায় আসি৷ আমার লেখাতে আমি যেমন "আমার জ্ঞান অনুযায়ী" কথাটুকু লিখেছি, তোমার লেখাতেও তুমি তেমনই "দেখি নি" বলে মনে পড়ছে না-তে "দেখি নি" কথাটুকুকে চিহ্নিত করে রেখেছো৷ মনে হয়, আমার লেখায় 'আমার জ্ঞান অনুযায়ী' কথার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ নিশ্চিতভাবে তোমার মতামত দাও নি৷ সে যা হোক যখন প্রসঙ্গটার অবতারণা আমিই করেছি তখন আমার তরফে কিছু বলার দরকার৷

আমার প্রথম সূত্রটা লিখিত এব ংতা কোরিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের দ্বারা ২০০০ সালে প্রকাশিত বাংলা-কোরিয়া অভিধানে মুদ্রিত বাংলা বর্ণমালা, যাতে স্বরবর্ণের মধ্যে ৯ নেই, এব ংব্যাঞ্জনবর্ণের মধ্যে বিসর্গ এব ংচন্দ্রবিন্দু নেই৷ এটা দেখে আমি একটু বিস্মিত হই৷ ৯ নিয়ে নয়, কারণ "৯-কার যেন ডিগবাজি খায়" ছোটবেলাতেই তাকে ডিগবাজি খাইয়ে দিয়েছে৷ এর কারণ অনুধাবন করতে হাইকমিশনেও গিয়েছিলাম, খুব একটা সুবিধেজনক অভিজ্ঞতা হয় নি৷ সে অন্য প্রসঙ্গ৷ ওখানে বসবাসকারী বেশ কিছু বাংলাদেশী ব্যক্তির সাথে পরিচয় হয়েছিলো, যাঁদের মধ্যে শিক্ষিত বলে পরিচিত বেশ কিছু ব্যক্তি ছিলেন৷ তাঁরা কেউ বা ওখানে আওয়ামি লীগের শাখার কর্ণধার কেউ বি এন পি-র অথবা কেউ এরশাদের তৈরী পার্টির (জাতীয়তাবাদী দল কি? মনে পড়ছে না)৷ এঁদের প্রত্যেকের কাছে প্রশ্ন তুলতে আমি যে উত্তর পাই, তা এরকম " বাংলাদেশে ঢাকার বাংলা অ্যাকাডেমি' দ্বারা প্রকাশিত বইয়ে মূল বাংলা বর্ণমালাকে সর্বশেষ সংশোধিত/পরিমার্জিত করে যে বর্ণমালা প্রকাশিত হয়েছে, তাতেও চন্দ্রবিন্দু আর বিসর্গ নেই৷" তাঁদের নাম আমি এখানে প্রকাশ করতে পারলাম না বলে দু:খিত৷

এই ব্যক্তিদের কাছে অনুরোধ করেও অবশ্য আমি ঢাকা বাংলা অ্যাকাডেমি-র সে বই পাই নি, তবে কোরিয়ান-বাংলা অভিধানটি, যেটিতে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী, তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী এব ংদূতাবাস-প্রধানের স্বাগতিক ভাষন মুদ্রিত আছে, আমার কাছে স্বীকৃত তথ্য বলেই মনে হয়েছে৷ "স্বীকৃত তথ্য" শব্দযুগল মোটা হরফে আর নীচে লালকালিতে দাগানো আছে বলে ধরে নিও৷

তুমি যদি চাও, আমি সে বই জোগাড় করে তোমায় দেখাতে পারি, যেদিন তোমার আমার সাক্ষাত্ হবে৷ সেটাই হোক না আমাদের সাক্ষাত্-এর একটা অলিখিত শর্ত৷

একটা অনুরোধ আছে৷ এই প্রসঙ্গে আগের আলোচনায় এই বইয়ের প্রসঙ্গ আসতেই তোমার বর্তমান প্রবাসের দেশের জনৈকা যথেষ্ট মৌলবাদী কথা অনাবশ্যক কারণে লিখেছিলেন, আর তাতে "হিন্দু"রা তাঁকে কেন "আপা" বলে না, ইত্যাদি বহু কথা বলেছিলেন৷ অনস্বীকার্য তার প্রত্যুত্তরও বেশ ক্ষারীয় পদার্থই ছিল৷ সে প্রসঙ্গে বেশ কিছু মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়েছিলো, হঠাত্ করে আড্ডায় কিছু অদৃশ্য বিভাজন রেখা উপলব্ধি করা যাচ্ছিলো৷ শেষমেশ কেউ এ কথাও জিজ্ঞেস করেছিলেন, বাংলাদেশের গল্পসাহিত্যে দেশভাগের যন্ত্রণা নিয়ে কোন বই বের হয় নি কেন, বা বের হয়েছে কি৷ প্রশ্নটা তোমাকেই করা হয়েছিলো৷

সেই দিনগুলোকে দয়া করে আর ফিরিয়ে এনো না, আমার অনুরোধ৷ আমি ওপার বাংলার ইশকুলের পাঠ্যে মূল লেখাকে পরিবর্তিত(বিকৃত?) করে অসংখ্য অনভিপ্রেত দু:খজনক মৌলবাদী সংশোধনের কথাগুলো এই গুরুর পাতায় আনতে চাই না৷ বা হয়ত ঐ অভিধানেই বাংলাদেশ হাইকমিশনের মুখবন্ধে বাংলা ভাষা বলা মানুষজনের সম্বন্ধে পরিসংখ্যানগত "ভুল"(মিথ্যা?) তথ্য পরিবেশনের দু:খজনক ঘটনাও৷ যা কিনা কোরিয়ান ভাষায় অনূদিত হয়ে তার পরেই বিরাজ করছে৷

ভালো থেকো৷

-----------------

এ চিঠির উত্তরে ৫ মার্চ দুপুর ১টা ৩০ এ আমি লিখেছি-

B ,
প্রথমেই একটা সোজাসাপ্টা ডিসক্লেইমার দিয়ে নিই- গত কয়েক মাসে গুরুচন্ডালিতে অনিয়মিত হয়ে পড়ায়,
B মানে যে বাপ্পাদা এ ব্যপারটি আমি বুঝতে পারি নি৷ যদি বুঝতাম, তাহলে আমার আগের লেখাটি লিখতাম না৷ লিখতাম না, কারণ, আগের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, আপনার সাথে আলাপ আমার ঠিক পোষায় না৷ পুরোনো এব ংবহু পুরোনো প্রসঙ্গ টেনে এনে প্রসঙ্গ থেকে প্রসঙ্গান্তরে গিয়ে আপনি যেরকম দুর্দান্ত মুন্সীয়ানার সাথে আলোচনা বা তর্ক জমিয়ে নেন, তার সাথে দৌড়ে পেরে উঠার মত দক্ষতা আমার নেই৷ এব ংতার চেয়ে বড় কথা, যে কোন আলোচনায়ই মূল বিষয়ের বাইরে বেশি সময় দেয়াটা আমার পছন্দ নয়৷

তারপরেও এই লেখাটি লিখছি কারণ, আগের লেখায় আমি কিছু তথ্য জানতে চেয়েছি, এব ংআপনি সৌজন্যতা করে তার উত্তর দিয়েছেন৷
আমার এই লেখাটার অর্ধেক তাই
B এর জন্যে, বাকি অর্ধেক বাপ্পাদা-র জন্যে৷

আপনি লিখেছেন, বাংলাদেশে বর্ণমালা থেকে বিসর্গ ও চন্দ্রবিন্দু বাদ দেয়া হয়েছে৷ কথাটি পুরোপুরি ভুল৷ ( এখানে ব্র্যাকেটে 'মিথ্যা' শব্দটি লিখতেও আমার বিন্দু মাত্র আপত্তি নেই৷)
বাংলা একাডেমি বা বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত কোথাও এমন কোন ঘোষনা দেন নি যে এই দুটি অক্ষরকে বর্ণমালা থেকে 'যে কোন কারণে' বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছে৷ ২০০০ সালেও নয়, তার আগে কিংবা পরে কখনৈ নয়৷
বাংলা বর্ণমালার ইতিহাস জানার জন্যে খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না৷ উইকিপিডিয়ার এই লিংকটিতে গেলেই একটা সারসংক্ষেপ জানা যায়৷
http://tinyurl.com/ywsnd7
তাতে বলা হয়েছে, বাংলা বর্ণমালায় সবচে' বড় পরিবর্তনটি করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর৷ স্বরবর্ণের সংখ্যা ষোল থেকে কমিয়ে তিনি বারোটি করেন এব ংস্বরবর্ণের অনুস্বার ও বিসর্গকে তিনি ব্যঞ্জনবর্ণের মাঝে স্থান দেন৷
সেই পরিবর্তনের পর বাংলা বর্ণমালায় একটিমাত্র সংস্কার ঘটেছে সেটা হলো স্বরবর্ণ থেকে ৯ অক্ষরটি বাদ গেছে৷ আর কোন পরিবর্তন এখনো হয় নি৷


ডিকশনারির ক্ষেত্রে যেটা হয়, ওখানে শব্দের শুরুর অক্ষর অনুযায়ি শব্দগুলো সোর্ট করা থাকে৷ বিসর্গ বা অনুস্বার বা চন্দ্রবিন্দু দিয়ে কোন শব্দ শুরু হয় বলে মনে করতে পারছি না৷ সে কারণেই হয়ত ডিক্শনারির সিরিয়ালে ঐ অক্ষরগুলোকে খুঁজে পান নি৷ আসলে, আপনি যে বাংলা-কোরিয়া ডিকশনারির কথা বললেন, তাতে কি দেখেছেন আমি নিশ্চিত নই৷ মানুষ আসলে সেরকমটাই দেখে যেরকমটা সে দেখতে চায়৷
কারণ, বাংলাদেশে এখন বাংলা একাডেমির যে ডিক্শনারিগুলো প্রচলিত রয়েছে সেখানে বর্ণমালার যে তালিকা রয়েছে তাতে বিসর্গ এব ংচন্দ্রবিন্দু মহাশয় - দু'জনেই বহাল তবিয়তে বেঁচেবর্তে আছেন৷ কারৈ এখন অবধি শিরোচ্ছেদ হয় নি৷
বাংলা একাডেমি হতে বা বাংলাদেশে প্রকাশিত যে কোন বই খুললেই তাতে বিসর্গ ও চন্দ্রবিন্দু সম্বলিত অন্তত হাজারখানেক শব্দ স্বাভাবিক নিয়মেই খুঁজে পাওয়া যাবে৷ এব ংএই সাধারণ ব্যপারটিই আপনার বক্তব্যের অসারতা প্রমাণের জন্যে যথেষ্ঠ৷

এরকম একটি ভুল বা মিথ্যে তথ্যের ভিত্তিতে আপনি বাংলাদেশ রাষ্টের্র নাম নিয়ে যে রসিকতাটি করার চেষ্টা করেছেন, সেটা আমার কাছে অত্যন্ত নির্লজ্জতার একটি জ্যান্ত উদাহরণ বলে মনে হয়েছে৷

আপনি ব্র্যাকেটে লিখেছেন বাংলাদেশিরা যেন দু:খ পেলে মাফ করেন৷
আমি একজন বাংলাদেশি হিসেবে আপনার এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত লেখাটি পড়ে দু:খ পেয়েছি, এব ংআমি দু:খিত যে, আমি আপনাকে মাফ করতে পারছি না৷


বাপ্পাদা, গুরু-তে যতবার আড্ডা দিতে এসেছি, কখনো কোন 'হিন্দু' দাদা-দিদির সাথে কথা বলবো ভেবে আসি নি, কোন ভারতীয়ের সাথেও না৷ প্রতিবারই এসেছি নিখাদ বাংলায় প্রাণ খুলে কথা কইতে৷ দেশ বা সম্প্রদায়ের সীমাবদ্ধতা মাথায় নিয়ে কথা বলি নি কখনো৷

কোন 'মহিলা' আপনাকে কবে কী বলছে সেই পাঁচালি শুনতে আমি আগ্রহী নই৷ আমি সেসব নিয়ে কথা বলতেও আগ্রহী নই৷ আপনার দেয়া তথ্য 'ভুল' মনে হওয়ায় আমি সে সম্পর্কে জানতে চেয়েছি শুধু, পুরোনো কোন প্রসঙ্গের অবতারণা করি নি৷ কী কী প্রসঙ্গ আমার তোলা উচিত্ নয়- এ অনুরোধ করে- মূলত সেই প্রসঙ্গ গুলোকেই টেনে আনাটাকে আমার হিপোক্রেসী মনে হয়েছে৷ পরবর্তীতে আপনার উত্তর পেয়ে নিশ্চিত হলাম যে আপনার দেয়া তথ্যটিও ভুল নয়, মিথ্যে৷

এই তথ্যটি 'কল্পনা' করে নিয়ে আপনি তার পেছনে যে যুক্তি খুঁজে পেয়েছেন, সেটা নিয়ে কি লিখব বুঝে উঠতে পারছি না৷ আপনি বলেছেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর আঘাত হানার জন্যেই বর্ণমালা থেকে বিসর্গ ও চন্দ্রবিন্দু বাদ দেয়া হয়েছে! সম্পূর্ণ কাল্পনিক একটি তথ্যকে সাথে নিয়ে যে এতদূর ভেবে ফেলা যায়, আমার সেটা জানা ছিলো না৷ আমার চেয়ে কম বয়েসী কেউ এরকম চিন্তা করলে বড়জোর তার মাথার পেছনে ছোট্ট একটা আদুরে চাপড় মেরে বলতাম, 'ব্যাটা বেকুব!'
কিন্তু মানুষটা যখন বয়সে অনেক বড়- তখন কি করব বুঝে পাই না৷ খানিকটা হতাশ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে কাঁধ ঝাকিয়ে হাসি দেয়া ছাড়া , এব ংএই চিন্তাধারাকে ভয়ানক একটি মানসিক ব্যাধি ভেবে একাধারে শিউরে উঠা ও করুণা বোধ করা ছাড়া আর তেমন কিছুই করার নেই৷

আপনার বোধহয় জানা নেই বাংলাদেশের মুসলমান ছেলেদের আশিভাগের নামের আগেই মোহাম্মদ যুক্ত আছে৷ এব ংতাদের প্রায় নব্বই ভাগই সেটা পুরোপুরি না লিখে সংক্ষেপে 'মো:' লিখে৷ এব ংহ্যা, সেটা ঐ বিসর্গ যুক্ত করেই!
ভাবতেই হাসি পাচ্ছে, কোন মুসলমান মৌলবাদী যদি আপনার মত করে চিন্তা করতো- তাহলে নিশ্চয় বিসর্গ বাদ দেয়ার পেছনে মুসলিম বিরোধী কোন ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেত!

কনফিডেন্টলি প্রলাপ বকা বলে একটি কথার সাথে সদ্য পরিচয় ঘটেছে আমার এই ইন্টারনেটেই৷ এই দূর্লভ গুণ যে সকলের মধ্যে থাকে না- আপনার লেখা আমাকে সে কথাই মনে করিয়ে দিলো আবার!
মুশকিল এই যে আমি দীর্ঘক্ষণ এরকম প্রলাপ সইতে পারি না, নার্ভে বেজায় চাপ পড়ে৷ তাই এই শেষবারের মতই আপনার সাথে আমার সর্বশেষ আলোচনার ইতি টানলাম৷

সকল বাংলাদেশীদের পক্ষ থেকে আপনার জন্যে শুভ কামনা রইলো৷
ধন্যবাদ৷

----

কনফু-



রবিবার, মার্চ ০৪, ২০০৭

মণি মুক্তো-

গত কয়েকবছরের মতন এবারেও বইমেলা মিস করলাম। এরকম আরো কতবার করতে হবে কে জানে?
বইমেলা নিয়ে সুন্দর একটি রিপোর্ট পেলাম আজ সাপ্তাহিক ২০০০ এ।
অনেকগুলো বইয়ের প্রচ্ছদসহ বেশ গুছানো একটি রিপোর্ট।
সেই সাথে আরেকটা প্রতিবেদন পাওয়া গেল- ছবি সহ, চেনাজানা অনেক কবি ও সাহিত্যিকদের নিয়ে-, এটাও চমৎকার!

শনিবার, মার্চ ০৩, ২০০৭

রোজনামচা-


সূর্যোদয়-
---------
আকাশ ভরা মেঘমালা। কালো কালো আর বাদামী। বৃষ্টি হতেও পারে, আবার নাও পারে। তবে আকাশের মেঘের একটা বিশাল অংশ মনের মাঝে গিয়ে ঢুকে বসে আছে।
বাইরে বৃষ্টি নেই, কিন্তু ভেতরে অঝোরে ঝরে যাচ্ছে কেবল- । মুষলধারে। টুপুর টাপুর, টাপুর টুপুর।

“আদরে সোহাগে প্রেমের পরশ দিয়া-
কবির বেদনা বহন করে কি প্রিয়া?''
কার কবিতা? ভুলে গেছি, ভুলেই যাই শুধু- নির্মলেন্দু কি? তাই হবে!

মধ্যাহ্ণ-
------
শিলাজিৎের গান শুনে চমকে গেছিলাম প্রথম। আজগুবি টাইপের ভাষা। তবে দূর্দান্ত হলো ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক! কোন একটা গানে, পেছনে খবর বাজতে থাকে, রেলের শব্দ, পাশেই কোন এক হকার, একটা সিনেমার দৃশ্য যেন, এবং তার মাঝ থেকেই হঠাৎ শিলাজিৎ গেয়ে ওঠে জটিল সব গান। এটা যেরকম: এক্স=প্রেম!
এই মূহুর্তে আরো একটা গান শুনছি- তুমি যা জিনিস গুরু আমি জানি আর কেউ জানে না।
মজার গানটা।

অপরাহ্ণ-
-------
ঘোষনা জিনিসটা আমাদের জীবনে খুব প্রয়োজনীয় হয়ে গেছে মনে হয়।
ছোটবেলায় মাইকে বেজে উঠতো- একটি ঘোষনা- সাথে সাথে কান পাততাম, আবার কার কী হলো? বেশিরভাগি দেখা যেত বিদ্যুত বা গ্যাস বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় কিছু।
কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা দেয়াটাও খুব আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাদিয়ানী নন, এরকম দুয়েকজনও আজকাল অমুসলিম খেতাব পেয়ে যাচ্ছেন অবশ্য।
বঙ্গবন্ধু-বেচারার সেই ঐতিহাসিক ঘোষনা নিয়ে টানাটানি তো আছেই।

এতসব ঘোষণার চাপাচাপিতে ভাবছি- তোমাকে আবার ভালোবাসবো, এবারে নতুন করে, একদম ঘোষনা-টোষনা দিয়ে।
হ্যা ভাই- আসিতেছে, মহাসমারোহে ....।

সূর্যাস্ত-
----------

কামরায় গাড়ি ভরা ঘুম,
রজনী নিঝুম।

এটা কার? ধুর, এটাও ভুলে গেছি!!


x=prem.mp3