শনিবার, এপ্রিল ২৮, ২০০৭

প্রসংগঃ সামহোয়্যারইনব্লগ- আরিল যেটা করতে পারেন-

তিনি সামহোয়্যার ইন ব্লগের সার্ভারের সুইচ বন্ধ করে বাড়ি গিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুম দিতে পারেন।



গত কদিনের ব্লগ ঘুরে গেলে, এর চেয়ে শান্তিময় আর কোন উপায় আছে বলে মনে হচ্ছে না আমার।
ইস্যুটা স্পষ্ট, এই ব্লগে জামাতী আর স্বাধীনতা বিরোধীদের দৌরাত্ম দেখে রীতিমতন চমকে ওঠার জোগাঢ়! নিজামী-গো আ-সাঈদীর গুণগান করে পোষ্ট হচ্ছে, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী ভাইয়েরা তাদের সংগী হবার আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন, এই ব্যাপারগুলো সহ্য করা মুশকিল।
কিন্তু এর প্রতিকার কি হতে পারে? তাদেরকে ব্যান করা? অথবা ঐ পোষ্টগুলোকে সামনের পাতায় আসতে না দেয়াটা?
ব্যাপারটি সম্ভব নয়। করতে হলে প্রায় সারাক্ষণই কর্তৃপক্ষের কাউকে ব্লগ মনিটর করতে হবে, এবং সেই সাথে মডারেট করতে হবে। এটা তারা পারবেন না, তখন সমাধান দেয়া হবে ব্লগারদের মধ্য থেকেই কাউকে মডারেটর বানানো, কিন্তু সেটাও সমর্থনযোগ্য হবে না।
আমরা তাহলে কি করবো, ব্লগটা রাজাকারদের দালালে ভর্তি হয়ে গেছে এরকমটা ভেবে ব্লগ ছেড়ে চলে যাব?
সেটাও বুদ্ধিমানসুলভ আচরণ হবে না।
প্রত্যেকের নিজেদের জন্যে কাস্টমাইজড ফ্রন্ট পেজের একটা অপশনের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু এ ব্যাপারটিও আমার খুব একটা 'জুইতের' মনে হচ্ছে না। সামহোয়্যারের মূল মজাটাই হলো এই ফ্রন্ট পেজ। ব্লগিং তো ব্লগস্পটেও করা যায়, কিন্তু ফ্রন্টপেজের মজাটা সেখানে নেই। তাই কাস্টমাইজড ফ্রন্টপেজ ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হলেও সম্ভবত আমি সেটা গ্রহণ করবো না।
বর্তমান অবস্থাতেই আমি বরং অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ ও নিরাপদ বোধ করি। রাজাকার-পুত্র ও অন্যান্য দালালরা আমার চোখের সামনেই যা লিখবার লিখছে, আমি জানতে ও বুঝতে পারছি তাদের চিন্তা ধারা এখন কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছে- এ ব্যাপারটিই বরং অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক মনে হয়।
শত্রুকে চিনে নেয়া ভাল, বিপদের সম্ভাবনা কমে তাতে।

স্কুল ব্লগিং শুরু হলে বাচ্চা কাচ্চারা অথবা অন্য নতুন ব্লগাররা এসব পোস্ট দেখলে খুব বেশি প্রভাবিত হবে, আমার সেরকমও মনে হয় না। কারণ আমরা তো পোস্টানো বন্ধ করে দিচ্ছি না, আমরা বরাবরের মতই আমাদের দেশের জন্মযুদ্ধের কথা লিখে চলব, দেশকে ভালবাসার কথা লিখতে থাকবো। নতুন ব্লগাররা তখন তথ্য-প্রমাণের মুখোমুখি হবে, প্রকৃত ইতিহাসের মুখোমুখি হবে তারা এবং দেশের জন্মলগ্নে যারা তার বিরোধীতা করেছিল এবং এখনো সেই ঘৃণ্য কর্মের সাফাই গেয়েই চলছে, তাদেরকে ঘৃণা করতে শিখবে।

আরিল অথবা সামহোয়্যারইনব্লগের অন্যান্যদের কাছে আমার তাই ব্লগের কন্টেন্ট সম্পর্কিত কোন অনুরোধ নেই। আমাদের মতপ্রকাশের জন্যে আপনারা খুব সুন্দর একটি জায়গা করে দিয়েছেন, অগণিত ধন্যবাদ জানাই সে কারণে। কি করে সাইটটিকে আরো বেশি দৃষ্টিনন্দন করা যায়, অথবা আর কি কি সুবিধা বাড়ানো যায়, আসুন সেই নিয়ে আমরা আলাপ করি।

ব্লগের পোষ্টগুলো নিয়ে আপনাদের খুব বেশি মাথা ঘামাবার দরকার নেই। এই ব্যাপারটা আমাদের ব্লগারদের হাতেই ছেড়ে দিন বরং ।।

মানব জন্মের নামে কলংক হবে, এমন সুঃসময়ে আমি যদি মিছিলে না যাই... ।

রবিবার, এপ্রিল ২২, ২০০৭

অরাজনৈতিক রোজনামচা-

রাজনীতি আমার কাছে ঠিক যেন দস্যু বনহুর।
" তারপরে কি হইতে কি হইলো, নিমেষের মধ্যেই শত্রুর বন্দুক বনহুরের হাতে চলিয়া আসিলো। '' রাজনীতিকে ঠিক এরকমই ভোজবাজি মনে হয় আমার কাছে চিরকাল, যেখানে সদা সর্বদাই কি হইতে কি হইয়া যায়! আগে ভাগে কিছু বুঝে উঠতে পারাটা সব সময়েই যেখানে দুষ্কর।

রাজনীতিবিদদেরও আমার পছন্দ নয়। সেই ছোটবেলার কথা। কোন কেলাশে পড়তাম তাও ভুলে গেছি। কোন এক সুন্দর সকালে দাঁত মাজতে মাজতে বাসার বাইরে গিয়ে দেয়ালে তাকিয়ে দেখি, খুব বড় বড় করে সেখানে লেখা- " দ-খ-লে- কা-ল্লু- মিয়া- ''। আমি তো সেই দেখে আর্ত চীৎকার! বলে কি! আমাদের বাসা দখল করে নিয়েছে! হই হই চেঁচামেচি করে বাসার সবাইকে জড়ো করে ফেললাম, সবাই বলে কি হলো, কি হলো? আমি কোন এক ফাঁকে কাঁদো কাঁদো গলায় বললাম, তোমরা দেখতে পাওনা, কাল্লু মিয়া যে আমাদের বাড়ি দখল করে নিয়েছে??!!

তারপর সবার সে কি হাসি! অবুঝ আমাকে মাথায় হাত বুলিয়ে বুঝিয়ে দেয়া হলো, বাড়ি নয়- নির্বাচনী প্রচারের জন্যে দেয়ালে চিকা মারা হয়, সেটারই দখল নিয়ে রেখেছে কাল্লু মিয়ার কর্মীরা, ভয়ের কিছু নেই।
সেদিন 'বুঝ' পেয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু সেই যে মন বেঁকে বসলো রাজনীতিবিদদের উপর, সেটা আজ অবধি সোজা হয় নি।

দুই হাজার সাতের এই শীত শীত সকালে এসে আমি এখন আর সেই পুঁচকে ছোঁড়াটি নই। রাজনীতিক নন, সুতরাং এ কথাও জোর দিয়েই বলা যায় যে আমাদের উপদেষ্টারাও নিশ্চিত কাল্লু মিয়া নন। জরুরি অবস্থার শুরুতে একের পর এক যখন দূর্নীতিবাজেরা ধরা পড়ছিলো, খানিকটা হলেও আশা পাচ্ছিলাম, এবার বোধহয় বিচার হবে তাদের কৃতকর্মের। কিন্তু, তারপরে কি হইতে কি হইয়া গেল, দেখি চিত্রনাট্য নতুন করে লেখা হচ্ছে, ঘটনার নেপথ্যে দর কষাকষি চলছে, রাঘব বোয়ালেরাও টপাটপ দেশ ছাড়তে রাজি হয়ে যাচ্ছেন। চারপাশে ফিসফিস শুনছি, বাংলাদেশ নাকি হাঁটছে পাকিস্তানের দেখানো পথেই!!! তবে? সোনার বাংলার ভবিষ্যত কি তাহলে পেয়ারা পাকিস্তান??

জেগে জেগেই দুঃস্বপ্ন দেখছি এখন- আমাদের মানচিত্রের গায়ে খুব মেপে মেপে জলপাই রঙে লেখা হচ্ছে- ' দ- খ- লে- ... ... ''। বছর দশেকের সেই ছোট্ট ছেলেটা আজ আবার গাল ফুলিয়ে বলছে- আমাদের দেশ যে দখল হয়ে গেল, তোমরা দেখতে পাওনা??

আমরা কি দেখতে পাচ্ছি?


সোমবার, এপ্রিল ০৯, ২০০৭

পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়-


ইস্টারের ছুটি চলছে এখন।
মাঝে শনি-রবির উইকেন্ড, তার আগে পিছে শুক্র ও সোমবার জুড়ে দিয়ে টানা চারদিনের 'লং হলিডে''। দেশে এরকম হলে নির্ঘাৎ পত্রিকার শিরোনাম হোত- " চারদিনের ছুটির ফাঁদে বাংলাদেশ।''
গরম চলে গিয়ে হাল্কা শীত পড়া শুরু করেছে, সারাদিনের আবহাওয়া চমৎকার। ঠিক 'এমন বসন্ত দিনে' আরেকটা দারুন খবরের কারণে মনটা বেজায় খুশি হয়ে আছে। সেটা হলো- বাংলাদেশ সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে জিতে গেছে!
কেমন করে কী হলো, সেটা গুছিয়ে ভাবার মত সুস্থির নেই মন। শুধু বুঝতে পারছি আনন্দে টগবগ করে ফুটছি!
আশরাফুল আবারো ৮৭ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলেছে। সেটার ওপর নির্ভর করেই বাংলাদেশ তুলেছে ২৫১ রান। কিছুদিন আগেই অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ রান তাড়া করে জিতে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা এই স্কোরে ধরাশায়ী হবে- এরকম স্বপ্ন দেখবার মতন দুঃসাহসী এখনো সব বাংলাদেশী হতে পারেন নি।
তবু, শুরু থেকেই বাংলাদেশী বোলাররা দারুন ফর্মে থেকে ঠেসে ধরেছিল আফ্রিকানদের। নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট পড়ছিল, সেই সাথে বাড়ছিল আস্কিং রান রেট। এবং প্রায় একই রকম দুলতে দুলতে, সম্ভবত এই প্রথম বারের মত একবারের জন্যেও বাংলাদেশ কোন রকম দুশ্চিন্তায় না পড়ে 'খুব সহজে' জিতে নিল এরকম বড় একটি ম্যাচ।
খেলার স্ক্রীন থেকে চোখ তুলে বাইরে তাকিয়ে দেখি, কেবলই ভোর হচ্ছে তখন। দুখী একটা দেশের মানুষদের আবারো আনন্দে ভেসে যেতে দেবার সুযোগ করে দেবার জন্যে আশরাফুল ও তার সহযোদ্ধাদের প্রতি ভীষন কৃতজ্ঞ বোধ করলাম।
এই বিজয়োৎসব দীর্ঘজীবি হোক।


শনিবার, এপ্রিল ০৭, ২০০৭

চ্যাম্পিয়ান হবে কে?


রিখটার স্কেলে তিন মাত্রার দুঃস্বপ্ন দেখবার জন্যে শ্রী লঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গার কোন তুলনা নেই। হাতটাকে যথেষ্ঠ রকমের অপ্রয়োজনীয় জায়গা থেকে ঘুরিয়ে এনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাবার মত বাজে জায়গা থেকে বল ছুড়বার সময়ে উইকেটে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাটসম্যানদের কার কথা মনে পড়ে জানি না, আমার মনে পড়ে যায় সেই ছোট্টবেলায় দেখা রামায়নের রাক্ষস-রাজ-রাবণের কথা। চুল ভুরু সবখানে রঙ মাখিয়ে তিনি যেই সাজটা দিয়েছেন, ভদ্রজনেরা সেইটাকে বলেন ইন্টারেস্টিং, আর আমি বলি "ভয় পাইসি''!! আর কারো না হলেও, আমার পিলে ঠিকই চমকায়!
তো, কাহিনি হলো, এই মালিঙ্গা মহাশয় শ্রীমান ভাস ও মুরালীর সাথে মিলে যেই একটা বোলিং এটাক বানিয়েছেন, এটার তুলনীয় আর কোন কম্বিনেশন এই বিশ্বকাপে এখনো খুঁজে পাচ্ছি না। জ্বী, পোলক-এনটিনি-ম্যাকগ্রা-টেইট-বন্ড, তেনাদের নাম-ধাম মাথায় রেখেই আগের লাইনটার পুনরাবৃত্তি করতে পারি নির্দ্ধিধায়।

খুব খুশি হবো যদি সাউথ আফ্রিকা চ্যাম্পিয়ন হয়, একেবারেই বেজার হবো অস্ট্রেলিয়া আবার কাপ নিলে। কিন্তু আশংকা করছি, খুশি বা বেজার কোনটা হবার সুযোগ এবার নাও পেতে পারি।

এতদিনকার খেলা দেখে মনে হলো, ব্যাটিং অর্ডারের এক বা দুজন ক্লিক করে গেলেই শ্রী লঙ্কা হেসে খেলে ২৫০ তুলে ফেলতে পারবে যে কোন দলের বিপক্ষে। আর ওদের বোলাররা, মানে, মালিঙ্গা-ভাস ও মুরালিধরণের ক্ষমতা আছে যে কোন টার্গেটে বিপক্ষকে আটকে দেবার।
তাই, নিতান্তই বাজে কোন দিনের কবলে না পড়লে এটা কি ধরে নেয়া যায় যে কাপটা শেষমেষ শ্রী লঙ্কায়ই যাচ্ছে?

ফাইনালের রাতে দশ-মাথা-রাবণ, থুক্কু, মালিঙ্গার রাক্ষুসে হাসির শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে যাবে, আগামী কটা দিন এই দুঃস্বপ্নেই কাটবে মনে হয়।

মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৩, ২০০৭

তবু মুখোমুখি এক আশাতীত ফুল আছে-

যে জীবন দোয়েলের ফড়িঙের , মানুষের সাথে তার হয় না কো দেখা...। হবেও না কখনো, জানি, তবু ইদানীং যখন প্রতিটা সকাল থেকে প্রতিটা দুপুর বা প্রতিটা বিকালকে আলাদা করতে পারি না, প্রায় একই রকমভাবে যখন সময়েরা আমাকে পাশ কাটিয়ে চলে যায়, যাচ্ছে, দু:স্বপ্নের মত করেই হঠাৎ আবিষ্কার করি আমার জীবনটা যেন ঢেঁকিতে পাড় দেয়ার মতন বড় বেশি নিয়মিত, বড় বেশি একসুরে বাঁধা পড়ে গেছে।
জীবনানন্দের কবিতা কখনোই শুধু মুখে পড়ে নিস্তার পাই নি, সে কবিতার আবেশ এরকমই তীব্র ছিলো যে বইয়ের পাতায় ছাপানো কালো অক্ষরগুলোয় আঙুল বুলিয়ে চলতাম পড়ার সময়, যেন ছুঁতে চাইতাম শব্দগুলোকে, শব্দের প্রানস্পন্দনকে। একেকটা দিন ছিলো, যখন, শুয়েছে ভোরের রোদ ধানের উপরে মাথা পেতে, আমার প্রিয়তম এই লাইনটি ঠিক কেমন করে লেখা হলো, কোন সেই তীব্র পার্থিব চোখ নিয়ে তাকিয়েছিলেন কবি যে এরকম একটি লাইন তার মাথায় চলে এলো- এই সব ভাবনা ভাবতে ভাবতে সারাটাদিন কাটিয়ে দিতে পারতাম, লিখে ফেলতে পারতাম হয়তো হাজার দশেক শব্দের চেয়েও দীর্ঘ কোন প্রবন্ধ।
সেইসব দিন গুলোকে আজকাল অনেক দূরের দেশ বলে মনে হয়। আয়নায় না তাকিয়েই ভয় পাই, সেখান থেকে যদি অন্য আমি বলে ওঠে, বুড়ো হয়ে গেছ তুমি বুড়ি পৃথিবীর মত! শিউরে উঠে ভাবি যদি আমাকেই উপহাস করে লক্ষীপ্যাঁচা বলে ওঠে, আজও চমৎকার!
বিশাল সৌরজগতে সূর্যের বিশালত্বের চেয়েও বরং তার একাকীত্বকে আমার বেশি করুণা হয়। দোয়েল অথবা শালিকের জীবনের সাথে কেন আমার দেখা হবে না, এরকম একটা তীব্র রাগে আমি একের পর এক পাতা উলটে চলি, আমরা যাইনি মরে আজও কেবলি দৃশ্যের জন্ম হয়, মহীনের ঘোড়াগুলো ঘাস খায় কার্তিকের জোছনার প্রান্তরে।
ফেলে আসা, প্রায় অবহেলায় ঠেলে দেয়া অনেক আগের সেই আমি হয়ে উঠতে আবার ইচ্ছে করে আমার। বুড়ি চাঁদেরা প্রতিদিন বেনো জলে ভেসে যায়, আমিও আমাকে কেবলই খুঁজে চলি।
কোথাও রয়েছ, জানি, তোমারে তবুও আমি ফেলেছি হারায়ে!