মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০০৮

ঈদ মুবারক

ঈদের কথা মাথায় এলেই একসাথে তিন-চারটে ছবি ফ্ল্যাশব্যাকের মত করে মনে পড়ে যায়।
এক। দৈনিক পত্রিকা। প্রায় সবগুলোর হেডিং হয়- আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ। একদম ছেলেবেলা থেকে এখন পর্যন্ত প্রতি বছর একই কাহিনি, কোন ব্যাতিক্রম পাইনি। কালকের পত্রিকা খুললেই আশা করি প্রমাণ মিলবে।
দুই। বিটিভি। সার বেঁধে দাড়িয়ে থাকা বাচ্চা কাচ্চা। শরীর আর ঘাড় বিপরীত দিকে প্রায় ১২০ ডিগ্রী ঘুরিয়ে চিৎকার করে গাইছে- ঘুরে ফিরে, বারে বারে ( এইখানে শরীর বাঁকানোর সাথে সাথে মাথায়ও একটা সেইরকম ঝাঁকি হবে), ঈদ আসে ঈদ চলে যায়.....
তিন। এইখানেও সার বাঁধা মানুষ, তবে বাচ্চা নয়, বড়ো। এরা গাইছেন, ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশীর ঈদ।
চার। টিভি চ্যানেলের উপস্থাপিকা বা সংবাদ পাঠিকাদের প্রায় ডুমুরের ফুলের মতন মাথায় লেগে থাকা একটু খানি ঘোমটা এই দিনে পুরোপুরি গায়েব হয়ে যায়! চান রাতের খুশীতে তারা পরিপুর্ণ চাঁদ বদন নিয়ে টিভি পর্দায় হাজির হন!

*
ঈদের সালামীর কথাও ভুলবার নয় কিছুতেই। সালামী পেতে মারাত্মক ভাল লাগতো। ঈদের আগে আগে সেবা প্রকাশনীর ক্যাটালগ দেখে দেখে বেছে রাখতাম কোন কোন বই কিনবো। ঈদ শেষে সালামীর টাকা পকেটে নিয়ে সোজা বইয়ের দোকানে হাজির।
আমার জীবনের স‌ব‌চেয়ে দুঃখের স্মৃতি হ‌লো - সালামী-গ্র‌হিতার গ্রুপ থেকে সালামী-দাতার গ্রুপে চ‌লে যাওয়াটা। ক্র‌ম‌শ‌ লেজ খ‌সে গিয়ে মানষে বিব‌র্তিত‌ হ‌য়ে বান‌র‌ও ম‌নে হ‌য় এত‌ দুঃখ‌ পায় নাই, য‌ত‌টা আমি পেয়েছিলাম আমার এই গ্রুপ বিব‌র্ত‌নের কার‌ণে। মন খারাপ

*
ঈদগুলো বড় হতে হতে কেন যেন ছোটবেলার জৌলুশ হারিয়ে ফেলতো।
কলেজে পড়বার সময় শেষের দিকে মোটামুটি বোরিং ঈদ কাটাতাম। বন্ধুরা সবাই মিলে একসাথে ঘোরা, শহরের নতুন সুন্দরীদের হাল-হকিকত জানা, এইই ছিলো বিনোদন।
এক ঈদের কথা মনে আছে, আহমেদের গাড়িতে সবাই ঘুরতে গেছি কুমিল্লার বিশ্বরোড। সাথে ক্যাসেট নিয়ে গেছি গান শুনবো বলে। কিন্তু কিছুদুর গিয়ে টের পাওয়া গেলো গাড়ির প্লেয়ারটা বিগড়ে আছে, গান শুনবার উপায় নেই। কি মুশকিল। পরে সবাই মিলে ক্যাসেটের খাপ দেখে দেখে নিজেরাই গান গাইতে লাগলাম। একদম সিরিয়ালি, প্রথমে সাইড এ, পরে সাইড বি। মাঝে অপছন্দ হলে মুখ দিয়েই কিম্ভুত শব্দ করে ফাস্ট ফরয়ার্ড করে দেয়া হলো গান। এইভাবে পুরো ক্যাসেট শেষ!

*
এখন সেই রাম আর অযোধ্যা বহুদিন ধরেই নেই নেই। আমাদের ছেলেবেলাও কবেই ফুড়ুৎ। আজ বসে বসে নিজের মনেই লিস্টি মিলিয়ে স্মৃতির জাবর কাটছি, সাইড এ, সাইড বি। রান্নাঘর থেকে হাড়ি-পাতিলের খুটখাট আর বউয়ের রান্নার সুবাস ছেলেবেলার চাঁদ রাতের কথা মনে পড়িয়ে দিচ্ছে কেবলই।

আজ চাঁদ দেখা গেছে কি যায় নাই, জানা নাই, তবে কাল এখানে ঈদ।
সবাইকে জানাই ইদ মুবারক!

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০০৮

জুবায়ের ভাই...

অর্ধেকটা জীবন পেরিয়ে এসে আত্মীয়-অনাত্মীয় নানা জনের বিদায়ে শোকাহত হয়েছি, কিন্তু বন্ধু বিয়োগের ব্যথা এই প্রথম পেতে হলো। অনেক দিন বাদে আজ কারো বিদায়ে তীব্র কষ্ট হচ্ছে, হু হু কান্নায় ভরে যাচ্ছে চোখ।

সচলায়তনের পাতা উলটে পুরনো লেখায় চোখ বুলিয়ে যাচ্ছি, কেমন করে বিশ্বাস করি এত প্রাণবন্ত লেখাগুলোর পেছনের মানুষটা এখন আর নেই!
ব্যক্তিগত মেসেজে যেটুকু আলাপ, খুঁজে খুঁজে পড়ছি বারবার, আর চোখ ভিজে আসছে কেবলই।

সচলের পাতায় কার যেন কোন একটা গল্পে আদর করে ভুল ধরিয়ে দিয়েছিলেন কিছু। আমি একদম পেয়ে বসি তারপরে, বললাম, এই প্র্যাকটিসটা চালু রাখা দরকার, আপনি নিয়মিত করুন এই কাজটা। হেসে আমাকে মেসেজ দিলেন, আমি কি তবে কানাই মাস্টার? তবে কখনোই তাঁর কথায় মাস্টারি ছিলো না কোন কালে, এত বড় একটা মানুষ, তবু কি অদ্ভুতভাবে কেবলই একজন ভাল বন্ধুর মতন মন্তব্য করতেন প্রতিটি লেখায়।

সচলে আসা তার একটা উপন্যাসের খুব কড়া সমালোচনা করেছিলাম একবার। আর কেউ হলে ওরকম কঠিন করে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারতাম কি? মনে হয়, না। জুবায়ের ভাই বলেই পেরেছি। এবং শান্তি পেয়েছি তার প্রতিক্রিয়া পড়ে, তিনি ভীষণ খুশি এরকম সমালোচনায়- মন্তব্যে পাঁচ তারা দিতে চাইলেন!

আমাকে ফাঁকিবাজ বলেছেন বেশ কবার, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে। তাঁর অনেকগুলো সিরিজ লেখা পড়তে পড়তে মাঝপথে থেমে গেছি, মন্তব্য করবো বলে মেসেজে জানিয়ে আর করিনি, সময় পাইনি নানা কারণে। আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, আমি সময়ের দোহাই দিতেই প্রশ্রয় দিয়ে বলেছেন, ঠিকাছে। বেশ কদিন আগে আমার ঝুম্পা লাহিড়িকে নিয়ে লেখা পোস্টটায় জানালেন, ঝুম্পার গল্প নিয়ে কিছুমাত্র দ্বিমত নেই আপনার সাথে, আমার কথাগুলোও আপনি বলে দিয়েছেন। আমি তাঁকে ধরলাম এবার ফাঁকিবাজ বলে, বললাম, এ কথা বললে চলবে না, আপনার পোস্টও পড়তে চাই।
কিন্তু জুবায়ের ভাই এবার সত্যিই ফাঁকি দিয়ে গেলেন!

সচলায়তনের শুরুতে মনে আছে, কোন কোন বিষয়ে তর্ক হতো তখন। সে সময়গুলোয় জেনেছি তিনি বেশ একরোখাও আছেন। তারপরে দিন যেতে থাকলে, ক্রমশ সচলায়তনের সবচেয়ে শুভাকাঙ্ক্ষীদের একজন হয়ে যান তিনি। চাইলেই পরামর্শ পাওয়া যেত যে কোন বিষয়ে, নিজে থেকে খবর নিতেন কোথাও কোন সমস্যা হলেই। সবসময়ে বন্ধুর মত পাশে থেকেছেন।
আমার গল্পগুলো নিয়ে ব্যক্তিগত মেসেজে লিখেছিলেন অনেক কিছু। তাঁর মন্তব্যগুলোর কথা মনে পড়ে যাচ্ছে কেবল- সমান্তরাল নিয়ে বলেছিলেন, এই গল্পটি উপন্যাসের উপাদানে ঠাসা। ভেবে দেখবেন উপন্যাসের বিস্তৃতি দিতে চান কি না। অথবা পুরো গল্প থেকে একটা লাইন কোট করে মন্তব্য করেছিলেন, “বাবাকে সেদিন শীতের কুয়াশা কেটে কেটে নদীর ওপার থেকে ক্রমশ কাছে এগিয়ে আসা ডিঙি নৌকার মাঝির মত লাগছিল আমার কাছে - মনে আছে৷” – এই বর্ণনাটি অসাধারণ। - ভীষণ সম্মানিত বোধ করেছিলাম তখন।
লেখা পড়ে ভাল লাগলে জিজ্ঞেস করতেন, পত্রিকায় কেন পাঠাই না লেখা? আমি হেসে বলতাম, আমাকে দিয়ে হবে না। কিন্তু তিনি সাহস দিতেন, আবার পরামর্শও। বলেছেন ছদ্মনামে না লিখে আসল নামে লিখতে, গল্পলেখক হিসেব কনফুসিয়াস-এর বদলে নূরুল হাসানকে পাঠক বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করবে বলে আমার বিশ্বাস। এরকম সদয় মন্তব্য আর কার কাছ থেকে পাবো!

ব্লগের পাতায়, মেসেজের ভিড়ে এত এত আলাপের স্মৃতি আজ কেবলই দুর্বল করে দিচ্ছে বারে বারে। জুবায়ের ভাই নানা বিষয়েই বারে বারে চমকে দিয়েছেন আমাকে। নিজেকে কম্পুকানা প্রজন্মের প্রতিনিধি বলতেন, তবু ব্লগিং করতেন নিয়মিত। লেখা নিয়ে উচ্ছ্বাস বা পরামর্শ জানাতে চাইলে, বিব্রত যেন না হই, এই চিন্তায় মেসেজে টোকা দিয়ে জানাতেন। এইরকম স্বজনসুলভ ব্যবহার ব্লগে প্রথম ওনার কাছ থেকেই পেয়েছি।
হায়, আজ স্বজন হারাবার বেদনাও প্রথম পেতে হলো এই জুবায়ের ভাইয়ের কাছ থেকেই!

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০০৮

হাওয়াই মিঠাই ১১

কদিন আগে, সম্ভবত প্রায় বছর দশেক বাদে, মাঝরাতের শো শেষ করে সিনেমা দেখে ফিরতে ফিরতে এক্স ফাইলসের সুরটা শিস দিয়ে বাজালাম। এক নাগাড়ে অনেকক্ষণ, থেমে থেমে লম্বা সময়। দেখলাম, এত দিনের অনভ্যাসে ভুলিনি তবু, ভালই বাজাতে পারলাম।

সিনেমাটা খারাপ লাগেনি। অনেক আগে টিভি পর্দায় দেখা পর্বগুলোর সাথে তেমন কোন পার্থক্য নেই অবশ্য। আমার মনে হলো, শ্লথ গতির কারণে একদম নতুন দর্শকেরা হয়তো হতাশ হবে, কিন্তু আমাদের মত কিছু দর্শক, যারা পুরোনো স্মৃতি খুঁড়ে ভাললাগা জাগাতে চাইবে, তাদের খুব একটা খারাপ লাগবে না।
অবশ্য মুভিটা নয়, আমি ভাবছিলাম অন্য কথা।
ভাবছিলাম, টিভি পর্দায় যখন খুব উত্তেজনা নিয়ে এক্স ফাইলস দেখার জন্যে অপেক্ষা করতাম, সেটা সত্যিই কি দশ বছর আগের কথা?

বড় হয়ে যাচ্ছি, হতে হতে বুড়োর পথে যাচ্ছি, এইরকম একটা ভাবনা প্রতিনিয়তই আমাকে বিমর্ষ করে। আমার সত্যিই আর বড় হতে ইচ্ছে করে না, ঠিক এইখান থেকে যদি এবাউট টার্ণ নেয়া যেতো, নিয়ে নিতাম। ইতিমধ্যেই জীবনের এতটা পথ পেরিয়ে এসেছি যে, সেখান থেকে যখন তখন দশ বা বারো বছরের এক-একটা টুকরো তুলে নিয়ে পরে স্মৃতিচারণ করতে পারছি, এর চেয়ে কষ্টের আর কি হতে পারে?

এরকম করে ভাবতে চাই না, তবু বারবার এইরকম ভাবনাগুলোই ঘুরে ফিরে হাজির হয়।

আমার এক বাল্যবন্ধুর জন্মদিন গেল কদিন আগেই। রাত দুপুরে ফোন করেছি শুভেচ্ছা জানাতে, হাবিজাবি নানা কথা হতে লাগলো। বিয়ে করিস না ক্যান, বুড়ো হয়ে যাচ্ছিস- এইসব বলে খুব ক্ষ্যাপাতে লাগলাম, বন্ধুদের জন্মদিনগুলোয় উইশ করার এটাই এখন সবচেয়ে স্বাভাবিক পন্থা। তারপরে হঠাৎই জিগেস করলাম, আচ্ছা বয়েস কত হলো রে? উত্তর পেলাম, সাতাশ! শুনে চমকে উঠি! সাতাশ হয়ে গেছে আমাদের বয়েস! বছর ঘুরে যায়, কিন্তু কখনো আলাদা ক‌রে বয়েস হিসেব করি না, দরকার পড়ে না। তাই আচম্বিতে সঠিক সংখ্যাটার উচ্চারণ শুনে হজম হলো না। ইস, কেন সাতাশ হলো? এর চেয়ে পনেরো কত ভালো ছিলো, সেই সময়ের হঠাৎ ছোট হয়ে যাওয়া হাফপ্যান্টের মতই ছিলো বয়েসটা, এদিকে টানলে যেন ওদিকে কম পড়ে!
আর আঠারো? হায়, বুঝবার আগেই শালিক পাখির মত ফুড়ুৎ করে উড়ে গেল সেটা, টেরই পেলাম না।

ব্লগে বা ফেইসবুকে কলেজের ছোট ভাইদের যখন গুরুগম্ভীর আলাপ করতে দেখি, অথবা আমাদের বন্ধুরাই যখন মেসেজে জানায়, অমুক অফিসের বিরাট পোস্টে সদ্যই ঢুকলো আজ, বা অমুক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন ডে-র ছবিতে শিক্ষকের সারিতে যখন দেখি বন্ধুর মুখ, বা এইসবই বাদ দিলাম, এই আমিই যখন দশটা পাঁচটা কাজের শেষে পাক্কা সংসারীর মতন ভিয়েতনামিজ বাজারে গিয়ে পাকা টমেটোর কেজির দর জিজ্ঞেস করি, তখন সত্যিই মনে হয়, কি-বা দরকার ছিলো এসবের? এর চেয়ে কত ভাল ছিলো বছর শেষে পুরনো বই ফেলে দিয়ে নতুন বইয়ের গন্ধ নিতে নিতে অপেক্ষা করতে থাকা ছেলেবেলার সময়গুলো!

সচলায়তনেই মাঝে মাঝে পোল ছাড়া হয় নানা রকম, আমি উৎসাহভরে সেসবে ভোট দিই। কদিন আগেই এলো নতুন জরিপ, কোন বয়স-গ্রুপে আপনি? তো, আর কি, ওই পাতা খুলে চোখ বুজে "আঠারো থেকে পঁচিশ" গ্রুপে ক্লিক করতে যেতেই মনে পড়লো, নাহ, মেঘে মেঘে বেলা অনেক বেড়েছে হে বৎস, এইখানে তোমার আর প্রবেশাধিকার নাই! মন খারাপ করে পরেরটায় ক্লিক করলাম।

জীবনে জটিলতা বাড়ে শুধু। ভিনদেশে থাকি, নানান কাগজ পত্রের জোগান দিয়ে চলতে হয় সারাক্ষণ, মহাযজ্ঞসম ব্যাপার স্যাপার, মাঝে মাঝেই অস্থির লাগে এসবে। দেশে ফোন করলে টের পাই, বয়সের অংক শুধু বুড়োই করেনি আমাকে, নানা র‌ক‌ম দায়িত্বের প্যাকেট এনে তুলে দিয়েছে ঘাড়ে, গ‌ম্ভীর হ‌য়ে সেস‌ব নিয়ে মাথা ঘামাই। কাজের জায়‌গায় দায়িত্ব বাড়ে, প‌ড়াশোনাকে বিদায় জানাচ্ছি শিঘ্রী, তার‌প‌রে ন‌তুন জ‌ব নিয়ে ছুটোছুটি- এত‌স‌ব ঝামেলা না চাইলেও যেন আমাকে জোর ক‌রে আমার ব‌য়‌সের ক‌থা ম‌নে ক‌রিয়ে দেয়, কানের পাশে চেঁচিয়ে ব‌ল‌তে থাকে, বেলা বয়ে যায়!

এটা আজব একটা দুনিয়া। এর কাছ থেকে লুকোবারও কোন উপায় নেই। মাগনায় এর আলো-হাওয়া খেয়ে বেঁচে থাকছো, তার শোধ এইভাবেই তোলে এই পৃথিবী, পদে পদে তোমাকে মনে করিয়ে দেয় সময়ের কথা। আমি দরজা জানলা আটকে তাই ঘাড় গুঁজে বসে বই পড়ি। ব্যাটারি শেষ হয়ে ঘড়ির টিক টিক থেমে যায়, আমি তাতেই সময় আটকে দিয়েছি ভেবে উল্লাসে নেচে উঠি। পৃথিবীর যাবতীয় গোলমাল আমার ভাল লাগে না, সময় বয়ে যাওয়া ভাল লাগে না, বয়েস বেড়ে যাওয়াও ভাল লাগে না। উল্টো ঘুরে হাঁটা দিতে চাই, কিন্তু পারি না।
তারচেয়ে বরং সচলই ভাল। জরিপের ভোট তবু তো সে ফিরিয়ে নিতে দেয়। মাউস হাতে নিয়ে আমি ভোট ফিরিয়ে নিই, তারপরে চকচকে চোখে ক্লিক করে দিই "আঠারো থেকে পঁচিশ"-এর ঘরে, সচলায়তন রাগ করে না।

বাইরের ছুটে চলা দুনিয়াকে কাঁচকলা দেখিয়ে আমি এইভাবেই বয়স কমিয়ে যাই, কেউ টের পায় না।