সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১০

আলকাতরা এবং প্রাডো

taxfree

মাগনা পেলে বাঙালী নাকি আলকাতরা-ও খায়।
তো এই বাঙালী সকলের মহামান্য প্রতিনিধি যারা, তাহারা প্রাডো কিংবা ল্যান্ড ক্রুজারও খাইবেন, ইহাতে আর নতুন কী?

সোমবার, আগস্ট ২৩, ২০১০

পুলিশের দশ দিন, আর...

 ... রিপোর্টারের এক দিন?
police

policefinal

হাওয়াই মিঠাই ১৬: বাংলা লাইব্রেরী

library
একদম নীচের তাক থেকে বনফুলের রচনাসমগ্রের সবগুলো বই একেবারে লাস্যময়ী তরুণীর মত হাতছানি দিয়ে ডাকছে আমাকে। আমি বেশ দ্বিধায় পড়লাম। একসাথে সব কটাকে পাওয়া বেশ দুষ্কর, দেখা যায়, কোনটা না কোনটা আগেই কেউ ইস্যু করে নিয়ে যায়, আমি অন্য কোন একটা নিয়ে যাই ঠিকই, কিন্তু বনফুল একবারে সব পড়ে ফেলবো, বহুদিনের এরকম একটা ইচ্ছেকে কোনভাবেই পূরণ করা হচ্ছে না।  এবারে একদম মোক্ষম সুযোগ চলে এসেছে যাকে বলে, কিন্তু এবারে আসার সময় অন্য লেখকের চিন্তা মাথায় ছিলো, বনফুল নিয়ে যাবো সেরকমটা ভাবিনি। তাই, সে তরুণীদের ডাক উপেক্ষা করবো বলেই ঠিক করলাম।
মাউন্ট ওয়েভারলির এই বাংলা লাইব্রেরির খোঁজ আমাকে দিয়েছিলেন সুচেতাদি। প্রায় বছর পাঁচেক আগের কথা সেটা। দেশ ছেড়েছি তারও বছর ঘুরে গিয়েছিলো তখন, সাথে করে নিয়ে আসা আমার কাছে বই মোটে তিনটে। জীবন বাবুর কবিতাসমগ্র, সত্যজিতের গল্প ১০১ আর শীর্ষেন্দুর পারাপার। তিনটা বইই আমার প্রায় মুখস্থ হয়ে যাবার জোগাড়, বাংলা হরফ চেখে দেখার জন্যে অনলাইনে ঘুরে বেড়াই পাগলের মতন, সেই প্রবল জরুরি সময়ে এই লাইব্রেরিতে এসে আমি যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছিলাম!  অন্য অনেকগুলো ভাষার সাথে বাংলার জন্যেও তিন চারটে বড় বড় শেলফ বরাদ্দ করে রাখা, অভিবাসীদের জন্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যের সার্ভিস। একটা ড্রাইভারস লাইসেন্স দেখিয়ে মেম্বার হওয়া যায়, তারপরে মেরেকেটে তিনমাসের জন্যে তিরিশ খানা বই নিয়ে হাপিশ হয়ে যাও, যেটাকে যেমন ইচ্ছে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পড়ো, কোনটাকে বারবার পড়ো, কোনটাকে নাইবা পড়ো। এরকম আনন্দ বৈদেশে এসে পাবো তা ভাবিনি।
লোটা-কম্বল খুঁজছি অনেকদিন ধরে। কলেজে থাকাকালীন অল্প বিস্তর পড়েছিলাম, আবারও পড়ার ইচ্ছে হচ্ছিলো, কিন্তু পেলাম না কোথাও খুঁজে। বইটা আদতে এই লাইব্রেরিতে আছে কি না সেটাও জানার উপায় নেই। কারণ লাইব্রেরিয়ান বাংলা জানে না। লাইব্রেরির ডাটাবেইজে সার্চ করা যায় অবশ্য, আমি দুয়েকবার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু কাজ হয়নি। কোন এক বিচিত্রি কারণে এই লাইব্রেরির বাংলা বইগুলোর নিবন্ধন হয়েছে অদ্ভুত ইংরেজিতে। সহজবোধ্য ইংরেজির বদলে কিছু ব্যাতিক্রম ঘটানো হয়েছে, অ- এর জন্যে ব্যবহার করা হয়েছে a, সেই হিসেবে আ-কারের জন্যে ডাবল a, এটুকু ঠিক আছে, কিন্তু মুশকিল হয়েছে, বর্ণের শেষে যে লুকোনো অ- থাকে, সেটার জন্যে ব্যবহার করা হয়েছে মাথার উপরে টুপিওয়ালা একটা a। এবং এখানেই গন্ডগোল লেগে গেছে, সার্চ করার সময় ইংরেজি হরফে বাংলা নাম টাইপ করলে অনেক হিজিবিজি দেখায়, বেশির ভাগ শব্দই ভরা থাকে অদ্ভুত সব হরফে, যেমন @#& এরকম!
আনিসুল হকের ‘জিম্মি’ আছে দেখি। প্রচ্ছদে আবার সিনেমার কলাকুশলীদের ছবি, নিচে বড় করে জানিয়ে দেয়া যে এই গল্প অবলম্বনেই তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্র ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’। বেশ মজা পেলাম দেখে। প্রকাশকরা স্মার্ট হচ্ছেন, দেখে ভাল লাগলো। স্লামডগ মিলিয়নিয়ার ব্যাপক হিট হবার পরে বইয়ের দোকানে গিয়ে দেখি মূল বইয়ের প্রচ্ছদ বদলে সিনেমার পোস্টার দিয়ে বইয়ের কাভার বানিয়ে দেয়া হয়েছে, বইয়ের নামও পূর্বতন নাম Q &A বদলে স্লামডগ মিল্যনিয়ার করে দেয়া হয়েছে। অবশ্য নিচে, ওখানেও, ছোট করে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, এই বর্তমান স্লামডগ সাহেবই প্রাক্তন কিউ আন্ড এ।
jimmi
প্রথম যখন এ লাইব্রেরীর সদস্য হই, তখনো খুব বেশি বাংলাদেশি লেখকদের বই ছিলো না এখানে। অল্প কিছু হুমায়ুন আহমেদ, তসলিমা নাসরিন আর জাফর ইকবালের বই ছিল, সাথে আরো দুয়েকজন সুপরিচিতের বই। ব্যাপারটা খুব চোখে লাগে তখন। আমি অত্যুৎসাহী হয়ে লাইব্রেরিরি ঠিকানায় ইমেইল পাঠিয়েছিলাম, বলেছিলাম বাংলাদেশি বইয়ের স্বল্পতার কথা, এবং বলেছিলাম, বাংলাদেশি বই সংগ্রহের কোন ইচ্ছা যদি এনাদের থাকে, তাহলে আমি স্বতস্ফূর্তভাবে সাহায্য করবো।
পাঁচ বছর বাদেও সেই মেইলের উত্তর পাইনি। এখানে এরকমটা হয় না সাধারণত, মেইল করলে প্রত্যুত্তরে একটা ভদ্রতাসূচক মেইল অন্তত পাওয়া যায়। পরে যখন শুনেছি, বাংলা সেকশানের দেখাশোনার ভার আসলে বাংলাভাষীরাই করে থাকেন, তখন আর অবাক হইনি।
অবশ্য মেইলের উত্তর না পেলেও কয়েক মাস পরে লাইব্রেরিতে গিয়ে বেশ বুঝতে পারি, আমার মেইলটা হয়তো জায়গামতনই পৌঁছেছিলো। কারণ, হুমায়ুন আহমেদ আর জাফর ইকবালের সাথে শেলফকে ধন্য করে দেখলাম বসে আছেন আনিসুল হক! মানে, একেবারে ঠিকঠাক বাজার বুঝেই বই আনানো হয়েছে।
এখন অবশ্য আরও অনেকেই যুক্ত হয়েছেন সেই তালিকায়, ইলিয়াস এবং সৈয়দ হকের আরও অনেক বই এসেছে। সব মিলিয়ে এখনকার চেহারাটাকে অনেক পরিপূর্ণই বলা চলে।
সৈয়দ মুজতবা আলী সমগ্রের একটা খন্ড বগলদাবা করে ফেললাম। সাথে সৈয়দ হকেরও একটা।
কিছু আনকোরা নাম-না-জানা বুদ্ধদেব গুহর বই গড়াগড়ি খাচ্ছে। কদিন আগে এনার একটা বই পড়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিশোর বয়সে ওনার বেশ কিছু বই খুব ভাল লেগেছিলো, মাঝে অনেকদিন পড়া হয়নি, সেদিন যে বইটা পড়বো বলে হাতে তুলে নিয়েছিলাম, তার নাম ‘সম’। পড়তে পড়তে হতাশ হতে হলো। জল-জঙ্গলের অনেক বেশি পুনরাবৃত্তি। অনেক আগে এক বড়ভাইয়ের কাছে বুদ্ধদেবের লেখা একটা চিঠি দেখার সৌভাগ্য হয়েছিলো। তখনো কোন লেখকের নিজের হাতে লেখা চিঠি দেখিনি জীবনে। আমি অতি আগ্রহে সে চিঠি খুলে দেখি, নিয়মমাফিক কেমনাছোভালো-র পরে ঢাকায় বুদ্ধদেবের বইয়ের অনেকগুলো পরিবেশকের নাম দেয়া লিস্টি করে, সেই সাথে তাদের প্রকাশিত বই, এবং তলানিতে ছোট করে সেই সব বই কিনে পড়ার ছোট্ট অনুরোধ। আমি বিস্মিত হয়েছিলাম এরকম অদ্ভুতুড়ে চিঠি দেখে। সেই বিস্ময়বোধ অনেকদিন বাদে আবারো ফিরে এলো, যখন দেখি, সম উপন্যাসের চরিত্ররা ঘুরে ফিরে মাধুকরীর পৃথু ঘোষের সংলাপের রেফারেন্স টানছে!! দুটি চরিত্র নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে কদিন আগেই পড়া ‘একটি.চমৎকার অন্যরকম উপন্যাস’ চাপরাশ নিয়ে!! রবীন্দ্রসংগীতশিল্পীর উদাহরণে বারে বারে ফিরে এলো ঋতু গুহের নাম। এবং এসবেরই ষোলকলা পূর্ণ হলো যখন দেখি, উপন্যাসের একটা চরিত্র আরেকটা চরিত্রকে উপদেশ দিচ্ছে কী করে কোলকাতা থেকে আনন্দ পাবলিশার্সের বই ভিপিপি যোগে দুর গঞ্জ গাঁয়ে বসে সংগ্রহ করা যায়!  এরপরে বইটা আর পুরোটা পড়বার কষ্ট নিজেকে দিতে চাইনি। যদিও  শহুরে মেয়ের প্রায় আদুল গায়ে জঙ্গলে স্নানের বর্ণনা আছে, আর মাত্র বছর বারো আগে হলেই এটা নির্ঘুম রাত কাটিয়ে দেবার জন্যে যথেষ্ঠ ছিলো। কিন্তু এবারে বুঝলাম, বুড়ো হয়ে গেছি আমি, হয়েছেন বুদ্ধদেব গুহও। সেই সাথে তিনি হয়ে গেছেন অনেক বেশি বাণিজ্যিক।
বুদ্ধদেব গুহ আর পড়বো না বলে ঠিক করেছি।

হাওয়াই মিঠাই ১৫: অস্ট্রেলিয়ায় নির্বাচন

কদিন আগে এখানে একটা মজা হলো। রাতে ঘুমুতে যাবার সময় জানতাম এখানকার প্রধানমন্ত্রীর নাম কেভিন রাড, সকালে উঠে শুনি, রাড নয়, এক রাতেই প্রধানমন্ত্রী পালটে গেছে, এখন প্রধানমন্ত্রী হলেন জুলিয়া গিলার্ড।
ব্যাপারটা হুট করে হজম হলো না যদিও, অনেকটা আমাদের উপমহাদেশীয় অঞ্চলের ক্যু-এর মত অবস্থা।
জুলিয়া গিলার্ড দু দিনের মাথাতেই ব্যাপক আলোচনায় চলে আসলেন। ভদ্রমহিলা, তার সময়ে, ব্যাপক সুন্দরী ছিলেন। গত বছর কোন একটা অনলাইন পোলে, অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে আবেদনময়ী (হলো না বোধহয়, ওয়ান আপ অন কজ সি-র সঠিক বাংলা কী হবে? ) রাজনীতিক নির্বাচিত হয়েছিলেন।
পত্রিকায় ছবি টবি দেখে কথাটা নির্বিবাদে মেনে নিলাম।
তারওপরে, মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবার সময়ে আরও তুলকালাম, সাফ জানিয়ে দিলেন তিনি ঈশ্বরে বিশ্বাসী নন, তাই ঐ বায়বীয় ভদ্রলোকের নামে শপথও নিতে পারবেন না।
এখানকার লোকে কেউ কেউ খুশী হলো, কেউ ভুরু কুঁচকে তাকালো, আমি ব্যাপক আমোদ পেলাম।
জুলিয়া এসেই অনিল কাপুর স্টাইলে, মানে, নায়ক সিনেমায় একদিনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হওয়া অনিল কাপুরের কথা বলছি, জুলিয়া ঠিক তার মতই ধুমধাম সব সমস্যা ঠিক করতে উঠে পড়ে লেগে গেলেন। প্রথমে খনি শ্রমিকদের উপর চেপে বসা ট্যাক্স কমিয়ে দিলেন। মন্দ লোকে বলে, কেভিনের সরে যাবার পেছনে নাকি ওদেরই হাত আছে।
খানিকটা সুস্থির হয়ে কদিন আগে তিনি নির্বাচনেরও ঘোষণা দিলেন।
অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচন নিয়ে আমি খুব একটা চিন্তিত নই অবশ্য। আগেও বলেছি, বেল গাছে আপাতত বাসা বেঁধেছি যদিও, তবু বেল পাকলে পরেও আমার পরিচয় কাক বৈ অন্য কিছু নয়।
তবু, আজ সকালে, পোস্ট বাক্স খুলে দেখি একটা চিঠি এসেছে। বর্তমান বিরোধী দলের মেলবোর্ন প্রার্থীর চিঠি। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ এগুলো, গড় হারে সবার বাক্সে দিয়ে যায়।

আমি কী ভেবে চিঠিটা খুলে নিয়ে পড়লাম।
আমাদের দেশে নির্বাচনের আগে আগে বেশ হাড্ডাহাড্ডি অবস্থা দাঁড়ায়। কেউ কারে নাহি ছাড়ে, বরং পারে তো ডিশুম ডিশুম মারে। এই ভদ্রলোকের চিঠি দেখলাম বেশ সভ্য-ভব্য। আমি ভাবলাম অনুবাদ করে ফেলি।
প্রথম লাইনটা এরকম, “ডিয়ার ভোটার, দিস ফেডারেল ইলেকশান ইজ ক্রুশাল ফর দ্য ফিউচার অব আওয়ার নেশান।”
তো, আমি অনুবাদ করলাম, “প্রিয় ভোটার, সামনের নির্বাচন আমাদের জাতির ভবিষ্যতের জন্যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।”
এটুকু লিখেই মনে হলো, এক কাজ করলে কেমন হয়, বাংলাটা বদলে ফেলি। আমাদের দেশীয় নির্বাচনের আমেজে যদি এটার অনুবাদ করি!
তো শেষমেষ ব্যাপারটা এরকম দাঁড়ালো।
“ আমার প্রাণপ্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আসসালামুয়ালাইকুম। আপনারা জানেন, এবারের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন আমাদের এই অভাগা জাতির জন্যে এক মহা গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। দুনিয়া জুড়া এই যে পচুর গিয়াঞ্জাম, আর অস্ট্রেলিয়ার মাথার উপরে এই যে একশ বিলিয়ন ডলারের ঋণের বোঝা, এইসব নিয়া, আমরা আমাদের জীবনের এক ক্রান্তি লগ্নে আসিয়া দাঁড়াইছি।
গত তিন বছর ধরে ‘লেবার’ সরকারের একের পর এক ব্যর্থতার কারণে আমাদের মেরুদন্ড ভেঙে গেছে, আমরা দুর্বল হয়ে গেছি। এমনকি এই সরকার নিজেরাও স্বীকার করে নিয়েছে যে তারা পথ হারাইয়া ফেলিয়াছে।
ভাইসব, জিনিসপত্রের আকাশ ছোয়া দাম আর ব্যাংকের সুদের হার বাড়তে বাড়তে অনেক অস্ট্রেলিয়ান পরিবারকে এখন একেবারে খাদের কিনারে নিয়া গেছে এই সরকার। পাহাড়সমান ঋণের বোঝা, বাজেট ঘাটতি, ইশকুল আর বাড়িঘর উন্নয়ন প্রকল্পের জগাখিচুড়ি অবস্থা, এবং বহির্দেশ থেকে চোরাকারবারিরা একের পর এক আমাদের দুর্বল সীমান্ত দিয়া এ দেশে ঢুকে পড়তেছে। এই সরকার সেসবে ধ্যাণ না দিয়ে নতুন নতুন ট্যাক্স বসাইয়া আজকে চাকরি বাকরি আর পুঁজি বিনিয়োগকারীদের হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। সেই সাথে একটা ভাঙা খাটের পায়ার মতন নড়বড়ে অর্থনীতি আমাদের জনজীবনে আজকে দুর্যোগের ঘনঘটা বয়ে এনেছে।
এখন আবার লেবার পার্টি তার ভেতরের ক্ষমতাসীনদের গোপন কলকাঠি নাড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ান ভোটারদের অবজ্ঞা করে  মিনিটের মধ্যে একটা প্রধানমন্ত্রীকে হঠিয়ে দিয়ে আমাদেরকে আরও বেশি অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। তারা ভেবেছে, প্রধানমন্ত্রী বদলাইয়া তারা আমাদেরকে ধোঁকা দিতে পারবে। ভেবেছে, নেতা বদলাইলেই স-অ-ব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ভাইসব, আমরা বোকা না, আমরা বুঝি। নেতা চলে গেলেও এইটা সেই একই সরকার, একই সমস্যা দিয়ে দিয়ে তারা আরও বেশি দুর্ভোগ নিয়ে আসতেছে।
ভাই ও বোনেরা আমার, চোখ মেলে বাস্তবতা দেখেন, দেখেন এই সরকার কেমন করে সারা জীবন শুধু মুখে বড় বড় বুলিই ফুটাইয়া গেছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করে নাই।
কিন্তু, আমি, আজকে, এই আপনাদের সামনে দাঁড়াইয়া প্রতিজ্ঞা করতেছি, লিবারেল পার্টির একজন সদস্য হিসেবে আমি খালি কথায় চিড়া ভিজাবো না, কাজের মাধ্যমে আমি আমার কথার প্রমাণ দিবো।
আমাদের দলের কাজের ধারা দেখলেই আপনারা আমাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে বিশদ জানিতে পারবেন। যার মধ্যে আছে, সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই দেশের অর্থনীতির পিঠ সোজা করা, লেবার পার্টির করা বিশাল ঋণের বোঝা কমাইয়া আনা, এই সরকার যত টাকা অপচয় করেছে সব কিছু থামিয়ে দিয়ে বাজেট ঘাটতি থেকে উদ্ধৃততে নিয়ে যাওয়া। অস্ট্রেলিয়ার সীমান্ত আরও দুর্ভেদ্য করে তুলবো আমরা, শিক্ষার মান বাড়ানো হবে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অবহেলা না করে তাদেরকে সহায়তা দেয়া হবে, যেন অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি আরও বলবান হয়ে ওঠে।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আজ এই শুভ লগ্নে, আমি আপনাদের কাছে হাত জোড় করে ভোট চাইতে এসেছি। কথা নয়, সত্যিকারের কাজ করার এখুনি সময়, অস্ট্রলিয়াকে সঠিক পথে চালনার এখনই সময়।
আপনাদের বিশ্বস্ত,
সাইমন ওলসেন। “
আমি যা বুঝলাম, সব দেশের রাজনীতিকরা আসলে ঘুরে ফিরে একই কথা বলে, কেউ ভুলভাল বাংলায়, আর কেউ শুদ্ধ ইংরেজিতে। 

21072010150

পিটুনী দেয়া নিষেধ!

nonte fonte

অনেক ভেবে চিন্তে দেখলাম, স্যারের হাতে পিটুনী খেতে না হলে সবচেয়ে খুশি আসলে হবে নন্টে আর ফন্টেই! হাসি

সোমবার, আগস্ট ০৯, ২০১০

বইমেলা...

borshar boimela 001

borshar boimela


রঙ করা এখনো শিখতে পারি নাই, সময়ের টানাটানি। তাই, সুজন্দার কার্টুনটাকে এক পাশে রেখে রঙ করা নকল করলাম। তাও হচ্ছে না। মন খারাপ

হুররর হট্‌!

5th

5thsongshodhoni


সামনে কী আছে, সে তো আল্লা মালুম।
আপাতত আশা করতে দোষ কী?

শনিবার, জুলাই ৩১, ২০১০

তাহসিন হক

tahsin
তাহসিন, আমাদের ম্যাক্স ভাইয়ের পিচ্চি। বয়স ১১ মাস।

tahsin2
রঙ করা এখনও হয় না! শুধু প্র্যাকটিসে কাজ হবে না আসলে, সঠিক টেকনিকটাও জানা দরকার।

মঙ্গলবার, জুলাই ২০, ২০১০

জুনায়েদ কবীর

juna777777

finaljuna


স্কেচ কাগজে কলমে করে তারপরে স্ক্যান করে রঙ করা।
কম্প্যুতে নেয়ার পরে দেখি ভাল লাগছে না। অথচ আমার হাতে ধরা কাগজ, মানে যেটায় এঁকেছি, ওখানে দেখতে চমৎকার লাগছে। এই দুইরকম লাগার কারণ কী কে জানে!
রঙ করায় এখনো অনেক কাঁচা। ব্যাপক প্র্যাকটিস করতে হবে।

সোমবার, জুলাই ১৯, ২০১০

উমা'২০১০

finalbaba-chhele2

এইটা আমার করা তিন নম্বর কার্টুন।
রঙ করতে গিয়ে অনেক কিছু শিখছি।
আমার কাছে সবচেয়ে ভাল লাগছে সুজন্দার করা রঙ। প্রথমে একদম লাইট টোন দিয়ে পরে শেড দিয়ে দিয়ে ডার্ক করা। এরপরের বার এই বুদ্ধি প্রয়োগ করতে হবে।

মঙ্গলবার, জুলাই ০৬, ২০১০

জারণ-বিজারণ

কার্টুন আঁকার নেশায় পেয়েছে আমাকে!
কী বিষয়ে আঁকবো ভাবতে গিয়ে কামরুলের কাছ থেকে বহু আগে শোনা একটা গল্পের কথা মনে পড়লো। সেটাই কার্টুন বানিয়ে ফেললাম!

 ccbcharecter
প্রথম স্ক্যান

ccbdraft1
কম্পোজিশান

ccbfinal
ফাইনাল আউটপুট

সোমবার, জুলাই ০৫, ২০১০

তারা তিন-ভুজ

কার্টুন আঁকিবার একখান প্রাণান্তকর চেষ্টা।
পেন্সিলে আঁকিতে পারি, কিন্তু সেটারে কেমন করে রঙ করে, কেমন করে ঢং করে, এইসব নিয়া বেশ হেজিমনিতে দিন কাটাইতেছি।
পেন্সিলে পিটাইয়া, ট্যাবলেট দিয়া চাবাইয়া, ফটুস্যুপ-এ মাখাইয়া শেষমেষ ঘন্টা তিনেকের সুমো-কুস্তির পরে এইখান বাইরাইলো।
সচলে পোস্টাইয়া দিলাম। জাঝাকুল্লা খাইর।

nzm
ক্যারেক্টার স্টাডি ১

dlwr
ক্যারেক্টার স্টাডি ২

mzhd

ক্যারেক্টার স্টাডি ৩

rawpiece
ড্রাফট

tara3jonfinal
ফাইনাল আউটপুট

রবিবার, ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০১০

কাঠের সেনাপতিঃ আমার প্রথম বই



ই-বুক পাওয়া যাচ্ছে এখানেঃ
বইদ্বীপ ডট কম- 
গুগল প্লে স্টোর
গুগল বুকস
আইবুকস 

হার্ড-কপিঃ
রকমারি ডট কম
বইমেলা ডট কম

* ফেইসবুক পেইজঃ কাঠের সেনাপতি- তারেক নূরুল হাসানের প্রথম বই  

*কাঠের সেনাপতি সম্পর্কিত লেখাপত্তরঃ
১/ অমিত আহমেদ- যে বইগুলোর অপেক্ষায়
২/ রাশেদ (নিবিড়)- ক্যাডেট কলেজ ব্লগ- তারেক ভাই এবং তার কাঠের সেনাপতি
৩/ আনোয়ার সাদাত শিমুল- কাঠের সেনাপতির সন্ধানে
৪/ নজরুল ইসলাম- কাঠের সেনাপতি ও বইমেলায় আড্ডা ম্যালা
৫/ বোহেমিয়ান- পাঠ প্রতিক্রিয়া 
৬/ নুশেরা আপু -ব্লগারের বই, অটোগ্রাফ এবং ... 
৭/ দময়ন্তীদি, গুরুচন্ডা৯র টইপত্তরে- টুপটাপ শব্দ কুড়িয়ে তৈরি বই

আরও কিছু লিংক, পাঠপ্রতিক্রিয়া, সাক্ষাৎকারঃ
১/আলভী আহমেদ- "কনফুসিয়াস- হৃদয়ে ছুরি চালানো লেখক"
২/ কৌশিক- "কনফুসিয়াসের সাথে করি বাংলায় চিৎকার"



mobi version- Kindle for iPad


বইটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে ক্লিক করুন এখানে- কাঠের সেনাপতিঃ আমার প্রথম বই।





epub version- iBook for iPad
Test: Kindle for PC
Test: Kindle app for Android

বুধবার, ফেব্রুয়ারী ০৩, ২০১০

দি নিউ ঢাকা অপেরা- ১


সকালে ঘুম ভাঙলে পত্রিকাটা হাতে নিয়ে ঠিক করে ফেললাম আজই যাবো বইমেলায়।
যখন ছোট ছিলাম, একবার এক বন্ধুর সাথে কী নিয়ে যেন মন কষাকষি হলো। তারপর দীর্ঘ দিনের আড়ি, কেউ কারো সাথে কথা বলি না, দেখা হলেও এড়িয়ে চলি। লম্বা সময় বাদে যখন আবার কথা বলা শুরু করলাম, দেখি এতদিনের অনভ্যাসের কারণে কেবলই অস্বস্তি আর দ্বিধা।
প্রায় ছয় বছর বাদে এবারে যখন বইমেলায় ঢুকছিলাম, ঠিক সেরকম একটা অনুভূতি হচ্ছিলো মনে। টিএসসির কাছে এসে সিএনজি ছেড়ে দিতে হলো, রাস্তা বন্ধ, এখান থেকে হেঁটে যেতে হবে। তো হাঁটতে হাঁটতে দূর থেকে মেলার ফটক চোখে পড়তেই মনে হলো, দীর্ঘদিন বাদে পুরনো প্রেয়সীদের কারো সাথে যেন দেখা করতে চলেছি। মনের মধ্যে সেরকমই একটা সংকোচ!
কিন্তু আশ্চর্য হলো, মেলায় ঢোকা মাত্রই সে সংকোচ কেটে গেলো একেবারে। নিরাপত্তাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে যখন বাংলা একাডেমিতে ঢুকে গেলাম, মনে হলো কে বলেছে ছয় বছর, আমি ঠিক গতকালই এই মেলা ঘুরে গেছি।
বইমেলার চেহারা বদলে গেছে অনেক। অনেক বেশি পরিকল্পিত মনে হলো সবকিছু, সে জন্যেই পরিপাটী ভাবটা প্রবল। বাংলা একাডেমির মূল মেলার বাইরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও একাডেমীর সীমানা প্রাচীরের গা ঘেঁষে কিছু স্টল বরাদ্দ করা হয়েছে। এই ব্যাপারটা নতুন লাগলো আমার কাছে, আগে দেখিনি। কিন্তু মন্দ লাগলো না, স্থান সঙ্কুলান না হলে এরকমই বিকল্প উপায় বের করতে হবে।
মেলার মাত্রই ২য় দিন, সে তুলনায় লোকসমাগম প্রবল। এটা দেখেও ভাল লাগলো। তবে এখনো বোধহয় সবাই বই কিনতে শুরু করেনি।
আমি আর তিথি মেলায় ঢুকেই দাঁড়িয়ে গেলাম খুব প্রিয় সেবা প্রকাশনীর স্টলে। বইমেলায় বই কেনার শুরুটা হলো এখান থেকেই। আগেই কথা হয়েছিলো নজরুল (ইসলাম) ভাইয়ের সঙ্গে। উনি মেলায় ঢুকতেই দেখা হলো। লোকজন ভালই, তবু মেলা প্রাঙ্গনে এখনো ধুলোবালি উড়তে শুরু করেনি তেমন। আমি ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম নানা স্টল। ঐতিহ্যের স্টলে গিয়ে পছন্দের কিছু বই পেয়ে গেলাম। মূলত অনুবাদ। চটপট কিনে ফেললাম কিছু বই।
এবারে ভেবেছি অনেক বই কিনে সাথে করে নিয়ে যাবো। তাই একদিনে সব বই কেনা সম্ভব হবে না আমাদের পক্ষে, চাপ পড়ে যাবে। এজন্যে যখুনি যাবো বইমেলায়, কিছু কিছু করে কিনে ফেলবো ভেবেছি।
ঐতিহ্যের স্টলের পাশেই দেখা হলো জাহাজী তীরন্দাজ (আনিস হক) ভাইয়ের সঙ্গে। আরও ছিলেন শেখ জলিল ও আবু রেজা। আনিস ভাই ওনার বইয়ের প্রকাশনা উৎসবের নিমন্ত্রণ পত্র দিলেন আমাদের। সেখান থেকে সবাই মিলে হাঁটতে হাঁটতে গেলাম শুদ্ধস্বরের স্টলে। এবারও দেখি শুদ্ধস্বরের কপালে বারান্দা জুটেছে! আড্ডার পুরনো জায়গা ফিরে পেয়ে নজরুল ভাই দেখলাম খুব খুশি হয়ে উঠলেন। আহমেদুর রশীদ টুটুল ভাইকে দেখি ক্যামেরা হাতে নিয়ে মুগ্ধ নয়নে নিজের স্টলের ছবি তুলছেন। তিথির ক্যামেরাও সচল ছিলো মেলার শুরু থেকেই!
উম্মাদের স্টলে আহসান হাবীবকে বসে থাকতে দেখলাম। দেশ টিভির ক্যামেরা ওনাকে দেখেই সে স্টলের সামনে খুঁটি গাড়লো।
ঘুরতে ঘুরতে চারুলিপির স্টলে আসতেই মনে পড়লো, তীরন্দাজ ভাই একটু আগেই মনে করিয়ে দিয়েছিলেন এখান থেকে গত বছর ওনার অনুবাদ সংকলন বেরিয়েছিলো "অন্য শরীর' নাম দিয়ে। একটু খুঁজতেই পেয়ে গেলাম বইটা। কিনে ফেললাম এক কপি, একটু পরেই লেখকের অটোগ্রাফও নেয়া যাবে এই ভেবে মজা লাগলো।
তিথি একটা বই কিনতে চাইলো, মুহম্মদ জাফর ইকবালের ভুত সমগ্র। আমিও ব্যাপক উৎসাহ দিলাম। কিন্তু বই হাতে নিয়ে সূচীপত্র খুলে দেখি পুরনো বইয়েরই কালেকশান এটা, তাই আর কেনা হলো না। জয়নুল আবেদীন এর দুর্ভিক্ষের সময়কার আঁকা ছবিগুলো একসাথে করে ছাপিয়েছে দেখলাম একটা স্টলে। কামরুল হাসানের অনেক ছবিও। খুব ভাল প্রিন্ট, ঝকঝকে যাকে বলে, চমৎকার কাগজ এবং দারুণ বাঁধাই বইগুলোর। কিন্তু দাম আশ্চর্যজনকভাবে কম! আমার দু'হাতে জায়গা ছিলো না তেমন, তাই কিনতে পারলাম না, তবে পরেরবার যখন যাবো কিনবো অবশ্যই।
এবারে দেখি আনিসুল হক আর সুমন্ত আসলাম একেবারে ফাটিয়ে ফেলেছেন। একেকজনের প্রায় আট-দশটি করে বই আসছে মেলায়। এই দুই লেখককে 'উর্বরাশক্তির প্রতীক' উপাধীতে ভূষিত করা যায় কিনা ভাবছিলাম। স্পন্সর পেতে অসুবিধা হবে বলে মনে হয় না। নিরালা বল সাবানকে অনুরোধ করে দেখা যেতে পারে। ওদের একটা বিজ্ঞাপনে আছে, "কম খরচে বেশি কাচে কোন সাবান কোন সাবান?" আমরা স্লোগানটা একটু বদলে নিতে পারি, "কম সময়ে বেশি লেখে কোন লেখক কোন লেখক?"
একটা স্টলে গিয়ে দেখি জুলফিকার নিউটনের কিছু মোটা মোটা বই সাজিয়ে রাখা। আমার হঠাৎই মনে পড়লো, এই লোকের বিরুদ্ধেই না জালিয়াতির অভিযোগ এসেছিলো গতবছর? কার কার লেখা যেন নির্দ্ধিধায় মেরে দিয়ে নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন এই লেখক। সে বইয়ের ভুমিকা লিখেছেন আবার অধ্যাপক কবীর চৌধুরি! কোথায় পড়েছিলাম রিপোর্টটা কিছুতেই মনে করতে পারলাম না। বইমেলা কর্তৃপক্ষ কি জানেন এই কাহিনী? তা না হলে জানানো দরকার।
তাম্রলিপির স্টল বের করলাম খুঁজে। অটিজম নিয়ে লেখা নুশেরা তাজরীনের একটা বই বের হবে এবার এখান থেকে। সে বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন আমাদের সচল আলমগীর ভাই। খুঁজে বের করলাম "পাঠসূত্র'ও। হিমু ভাই, মাশীদ আপু, নজমুল আলবাব ভাই এবং আমার বইটার পরিবেশক এবারে পাঠসূত্রই। মেলায় ওদের স্টল নাম্বার ৭৩-৭৪। নজরুল মঞ্চের ঠিক পাশেই পড়েছে সেটা।
আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ছিলো ডাকসুর ক্যাফে। কয়েকজন বন্ধু অপেক্ষা করছিলো সেখানে আমাদের জন্যে। তাই বেরুবার তাড়াও ছিলো। তার আগে তীরন্দাজ ভাইয়ের অটোগ্রাফ নিতে আবারও গেলাম শুদ্ধস্বরে। কিন্তু ওনাকে পেলাম না সেখানে। অবশ্য গিয়ে দেখি সেখানে লীলেন ভাই বসে আছেন, আর খুব মনোযোগে ওনার প্রকাশিতব্য বইয়ের প্রুফ দেখছেন। আমি গিয়ে লম্বা সালাম দিলাম। উনি পরিচিতের হাসি দিয়ে সেটার উত্তর দিলেন।
এই কৌশলটা আমি জানি। কেউ খুব আগ্রহ নিয়ে কথা বলতে এলে না চিনতে পারাটা খুব অস্বস্তিকর, এটা এড়ানোর জন্যে মুখে একটা পরিচিতের হাসি ঝুলিয়ে কথা বলতে হয়। এই কাজটা আমিও করি প্রায়শই। লীলেন ভাই একই কাজ করেছেন দেখে আমি হেসে ফেললাম। তারপর চেপে ধরলাম ওনাকে, "খুব তো ভাব নিলেন চেনেন আমাকে, বলেন দেখি আমি কে?'
লীলেন ভাই অবশ্য দু'সেকেন্ডের বেশি সময় নিলেন না, বুঝে গেলেন আমার পরিচয়। টুটুল ভাই জানালেন, এটা আসলে বিয়ের গুণ। বিয়ের পর লীলেন ভাইয়ের এমনকি চশমার কাঁচও বদলাতে হয়েছে একবার, মানে কিনা, চোখের পাওয়ার বেড়েছে!
বিদায় নিয়ে বেরিয়ে এলাম আমি আর তিথি। অনেক ছোটবেলায় বাবার সাথে যখন আসতাম মেলায়, মনে পড়ে, একাডেমির ফটক থেকে একদম হাইকোর্টের মোড় পর্যন্ত বৈশাখী মেলার মত দোকান বসতো নানা জিনিসের। লোকে বই কিনতে এলে ফিরবার সময় সাথে করে ডাল-ঘুঁটুনীও কিনে নিয়ে যেতে পারতো। এখন আর সেরকম হাঙ্গামা নেই। এক দিক দিয়ে ভালই সেটা।
টিএসসি পর্যন্ত হেঁটে যেতে যেতে কিছু ভ্রাম্যমান খাবার দোকান চোখে পড়লো। পিঠা, ভুট্টা এবং চিংড়ির মাথা। লোকে আগ্রহ করে খাচ্ছে সেসব। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশ ঘেঁষে হেঁটে বেরিয়ে যাবার আগে আরেকবার পেছন ফিরে দেখলাম বইমেলাকে। প্রেয়সীর লাজ ভেঙে গেছে এতক্ষণে। ছয় বছর পরে নয়, হয়তো কালই আবার দেখা হবে আমাদের, এই ভেবে আমি আর বইমেলা দু'জনেই যেন পুলক অনুভব করলাম। হাসি