শনিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১২

বইদ্বীপ প্রকাশনীর সাইট-


বাংলা ইবই নিয়ে আলাদা একটা সাইট তৈরি করলাম। ঠিকানা এখানে- বইদ্বীপ প্রকাশনী। 
মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলায় ইবই প্রকাশনা সম্পর্কিত সুবিধা, অসুবিধা, জটিলতা ইত্যাদি বিষয়ে মতবিনিময় করা। কেউ ইবই প্রকাশ করতে চাইলে নিজেরাই নিজেদের সহযোগিতা করা যাবে এই ব্লগের মাধ্যমে।
বাংলায় প্রকাশিত ইবইগুলোর একটা তালিকামতন রাখাও আরেকটা উদ্দেশ্য। যদিও মনে করি, কদিন বাদে বাংলা ইবই-এর জোয়ারে তালিকা রাখা আর সম্ভবপর হবে না। :)
ইবই নিয়ে নিজেদের চিন্তা-ভাবনা, প্রশ্ন ইত্যাদি শেয়ারের জন্যে চলে আসুন বইদ্বীপ প্রকাশনীর  সাইটে

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ০৪, ২০১২

ইলিয়াসের ঘোড়া: আমার নতুন বই


বেশ কিছুদিন ধরেই সময় দিচ্ছিলাম এটার পেছনে। অবশেষে আজকে জিনিসটা ফাইনাল হলো। আমার নতুন বইটা প্রকাশিত হলো স্ম্যাশওয়ার্ডস থেকে। এটি পুরোপুরিই ইবুক। আপাতত প্রিন্টেড ভার্সানে যাবার কোন পরিকল্পনা নেই।
বইটি বিনামূল্যে নামানো যাবে নিচের লিংক থেকে। 
বইটি যারা পড়বেন, তাদের মতামত জানবার জন্যে অপেক্ষায় রইলাম। 

সহী দিননামা

৭১
একাত্তর নামে নতুন একটা চ্যানেল হয়েছে দেখছি।
এখানে বাংলা টিভি দেখা বেশ হ্যাপার কাজ। বিভিন্ন ওয়েবসাইটের নানা প্যাকেজ নিতাম একসময়, কিছু বিজ্ঞাপন আর স্প্যাম ভরা ফ্রি সাইট দিয়েও কাজ চলেছে একদা, আপাতত সব ঘুরে টুরে আইপিটিভি বাক্সে থিতু হয়েছি। বেশ ভালই সার্ভিস দিচ্ছে। যদিও সবগুলো বাংলা চ্যানেল আসে না। অনেকগুলো ভালো চ্যানেলই নেই, সময়, ইন্ডিপেন্ডেন্ট নেই, মাছরাঙাও নেই। কিন্তু একাত্তর কেমন করে যেন চলে এলো। এবং আসার পর থেকেই, ক্রিকেটের জন্যে যদি চ্যানেল নাইন খুলে বসে না থাকি, তাহলে যে চ্যানেলটা এখন বেশি দেখা হয়, তার নাম একাত্তর।

দেশের প্রথম ফুল হেইচডি চ্যানেল বলে দাবি করছে প্রায়শই, ছবির মানও আসলেই চমৎকার। ওদের দুটা ডকুমেন্টারি দেখলাম, দুটোই বেশ ভাল লেগেছে। ঘুরে ফিরে যদিও দেখাচ্ছে বারেবারেই। অনুষ্ঠান নির্মাণেও খানিকটা ভিন্নতা চোখে পড়ছে। হঠাৎ করে সেই একুশের সামিয়া জামান আর সামিয়া রহমানকে একসাথে আবার দেখতে পেয়েও ভাল লাগছে বেশ।

আমার শুধু একটা ব্যাপারেই খটকা, নামটা নিয়ে। একুশ চলে, বায়ান্নও, হয়তা বিজয় বা স্বাধীনতা-র মত শব্দগুলোও বহুব্যবহারে জৌলুশ হারিয়ে সর্বসাধারণের পকেটের রুমাল হয়ে গেছে। কিন্তু, আমার মনে হচ্ছে, একাত্তর নাম দিয়ে কাউকে অনুমোদন না দিলেই পারতো সরকার। আমাদের দেশেতো কোন কিছুই ধ্রুব নয়। এ টিভির মালিকপক্ষ কে বা কারা জানি না, ধরে নিলাম যোগ্য লোকেরাই মালিক এখন। কিন্তু সরকার বদলালে যে সেটাও বদলাবে না তার নিশ্চয়তা কী? অথবা, সময়ের সাথে সাথে মালিকের চরিত্রও বদলে যাবে না তারই বা গ্যারান্টি কী?

একাত্তর নামের চ্যানেল যদি একসময় জামাতপন্থী আচরণ শুরু করে সেটা মেনে নিতে খারাপই লাগবে।

টু ডু, টা ডা

অনেক কিছু করবো করবো বলে ভাবি। একটা লিস্ট ঝুলিয়ে রাখা আমার ঘরের নোটিশ বোর্ডে। মোবাইলেও নানা রকম লিস্ট। সপ্তায় অন্তত একটা ব্লগ লিখবো বলে ভাবি, হয় না। বেশ কিছু গল্প লেখা শুরু করে মাঝপথে আটকে আছে, শেষ করা হয়ে উঠছে না।

তবে হবে নিশ্চয়। সেদিন লিস্টের শেষে গোটা গোটা হরফে বড় করে লিখে দিলাম, ফিনিশ সামথিং!!

কিছু একটা তো শেষ কর বাপ!

তালাশ
আমির খানের মুভি দেখা হয় নিয়মিত। রাং দে বাসান্তির পরে আমির খান কোন না কোন ভাবে জড়িত আছেন এরকম ছবি মিস না করার চেষ্টা করি। খুব একটা লস হয়নি এখন পর্যন্ত। এমনকি অফ ট্র্যাকের কিছু ছবি যেমন ডেলহি বেলি অথবা ধোবিঘাটও বেশ ভাল লেগেছে।
সম্প্রতি দেখলাম তালাশ।

আমার কাছে মনে হয়, ভুতের সিনেমার সবচেয়ে বড় মাইনাস পয়েন্ট হলো যে তারা ভুতের সিনেমা। এটুকু যদি মেনে নেয়া যায়, তাহলে তালাশ আসলে বেশ ভাল একটা ছবি। সাসপেন্স ছিল যেখানে যেটুকু দরকার, একদম ঠিক সময়ে রহস্যের জট খুলেছে। ছবির সবচেয়ে দুর্বল দিক হলো অতৃপ্ত আত্মা বিষয়ক লজিক এবং সেটুকু প্রতিষ্ঠা করার অংশটুকু। কিন্তু এখানেও ব্যাক টু স্কয়ার ওয়ান, মানে ওই যে, যদি আমরা এটা মেনে নিয়ে দেখা শুরু করি যে এটি আসলে একটি ভুতের সিনেমা...।

সবমিলিয়ে মন্দ লাগেনি।

গ্রিশাম
রাহাত খানের অমল ধবল চাকরি পড়া শেষ হলো। যে ভাললাগা নিয়ে শুরু করেছিলাম বইটা, শেষ করলাম সে পরিমাণ মুগ্ধতা নিয়েই। এমন কিছু আহামরি গল্প নয়, সেই সময়ের কয়েকজন যুবক যুবতীর প্রাত্যহিক জীবনের খন্ডচিত্র নিয়ে লেখা। কিন্তু মুগ্ধ হয়েছি ভাষার ব্যবহার দেখে, ঐ অল্প পরিসরেই লেখকের চিন্তার গভীরতা দেখেও চমকে উঠেছি বারকয়েক।

সমান্তরালে শেষ করলাম জন গ্রিশামের দি ফার্ম। পড়া শেষে খানিক ভেবেছি নানা বিষয়ে।
দেখলাম যে, বড় হয়ে আসলে খুব বেশি থ্রিলার পড়িনি। থ্রিলারের নব্বই-ভাগই পড়া হয়েছে কিশোর বয়সে, সেবা প্রকাশনীর বদৌলতে। সে সময়ে ঘটনার গলিঘুঁপচিতে হারিয়ে যেতাম থ্রিলার পড়তে পড়তে। নায়কের মৃত্যু আশঙ্কায় একেবারে জায়গামতন গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠতো তখন। লাস্যময়ী নায়িকার লাল টুকটুকে অধরের কল্পনায় কত রাত নির্ঘুম কেটে গেছে। পড়ার জগতের দরজা খুলে দিয়ে থ্রিলার ব্যাপারটা কেমন করে যেন মাঝে লম্বা সময় ডুব মেরে ছিলো।

সম্প্রতি আবার ফিরে এসেছে সে বিপুল বিক্রমে। জেফরি আর্চারের দুটা বই দুমাদুম পড়া হয়ে গেলো। এ প্রিজনার অব বার্থ এবং ফলস ইম্প্রেশান। পড়তে পড়তেই গল্পের গাঁজাখুরিত্ব নিয়ে বেদম হাসি পেয়েছে। এ প্রিজনার অব বার্থ এর মত এরকম হাস্যকর অবাস্তবতা এমনকি থ্রিলারেও দেখা যায় না। কিন্তু আশ্চর্য এই, এটা টের পাওয়ার পরেও বইটা শেষ না করে উঠতে পারিনি। পড়ছি আর লেখককে গাল মন্দ করছি, ধুর ব্যাটা কী সব লিখছে, কিন্তু রাতের খাবার পরে মাথার পাশে ল্যাম্প জ্বেলে পড়তে পড়তে রাত ভোর করে ফেলেছি। থ্রিলারের মজা আবার ফিরিয়ে আনলো এই আর্চার মশাই।

তুলনায় গ্রিশাম পড়ে আরও ভাল লাগলো। গ্রিশামের আরও কিছু বই টপাটপ পড়ে ফেলতে হবে।
লিস্টে আরও কিছু ভাল বইও আছে। আজ থেকে ধরলাম মঈনুল আহসান সাবের এর ঠাট্টা। মণিকা রশিদকে ক্রমাগত জ্বালাতন করে করে অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেশ কিছু বই পেলাম। ওগুলো পড়া ধরতে হবে। হিমু ভাই একেবারে আচমকাই আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন উদয়ন ঘোষের লেখার সাথে। আগে পড়িনি, এমনকি শুনিওনি। আপাতত তার ছোটগল্পের বইটির ভূমিকা পড়ে কাছা মেরে বসলাম।

ভ্রমণ আনন্দময় হবে সন্দেহ নেই।

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৫, ২০১২

ইদানিং বেশ কিছু নতুন বই পড়ছি

ইদানিং
---------


বছর-খানিক ধরেই খুঁজে পাচ্ছিলাম না ব্যাটাকে। অথচ খুঁজছিলাম, অনেকদিন ধরেই। আমার বুকশেলফের আড়ালে, বালিশের পাশে জমে থাকা অলস অন্ধকারে, অথবা কাজ শেষে বাড়ি ফিরে জমাটি করে বসে থাকা সোফার আরামে। কিন্তু বাস্তবিক প্রায় হারিয়েই ফেলেছিলাম তার খোঁজ। শেষমেষ একটা ষড়যন্ত্র করতে হলো। নিজের সাথে নিজেই চোখ রাঙাতে হলো। একদিন সকালে উঠে আয়নায় নিজেকে জোরসে ধমক লাগালাম, চোপ রাও বদমাশ, যা বলি তা-ই করো।

তো, করলাম। চুপচাপ। বাধ্য মানুষটির মতো ফেইসবুকের ডিএকটিভেট বাটন চেপে দিলাম। জুকারবার্গের নীল দৈত্য কঁকিয়ে উঠলো, কেন কেন?
বললাম, না হে, এটা সাময়িক বিচ্ছেদই কেবল, পাকাপাকি ছাড়াছাড়ি নয়, আবার আসিব ফিরে, সহসাই।


তারপর বুকশেলফের বইগুলোকে ওলট পালট করে ঝাড়াঝাড়ি করে নিলাম। একটা করে বই জায়গা করে নিলো আমার সবকটা চারণভূমিতে। গাড়িতে একটা, সোফার পাশে একটা, একটা ডাইনিং টেবিলে, বিছানায় বালিশের পাশে একটা, আঁকাআঁকির টেবিলে একটা।
ড্রপবক্সের একাউন্ট থেকেও ঝেড়ে মুছে বিদায় জানিয়ে দিলাম সব কটা অনাবশ্যক ফাইলকে। তার বদলে সেটা ভর্তি হয়ে গেলো হাজার-খানেক ই-বুকে।

এবং, তারপরে, সহসাই খুঁজে পেলাম তাকে। আমার হারিয়ে যাওয়া বই পড়ার তুমুল অবসরকে। ওহ, মাই প্রেশাস, এতদিন কোথায় ছিলে?

বেশ কিছু নতুন বই
------------------------


বছরে অন্তত একবার বই আনাবার একটা বদভ্যাস গড়ে উঠেছে আলগোছে। প্রবাসী হবার পর থেকেই। বইয়ের জন্যে আমি আর আমার বউ মনে মনে অল্প অল্প করে টাকা জমাই। আনানোর পরিমাণ নির্ভর করে কত জমাতে পারলাম তার উপরে। কোনবার নিজেদের ফাঁকি দিয়ে খানিক বেশি জমাতে পারলে বই আসে পঁচিশ কেজি। আর টানাটানির বছরে আসে মেরে কেটে দশ কেজি।
এই দশ আর পঁচিশের সীমানা আমাদের নিজেদের করা নয়। এটা ফেডেক্সের বদান্যতা। ওদের দুটা প্যাকেজে, হিসেবে করে দেখেছিলাম, পোস্ট অফিসের ইএমএসের খরচের চেয়ে খানিকটা বেশি লাগে। কিন্তু পাবার গ্যারান্টি আর দ্রুততার সাথে সেটুকু আপোষ করা চলে।
কিন্তু এবারে বই আনাতে গিয়ে ব্যাপক ধরা খেলাম। ফেডেক্সের খরচ বেড়ে গেছে প্রায় দ্বিগুণ। এটুকু আমাদের সাধ্যের বাইরে। ফেডেক্স দিয়ে হয়তো এই শেষবারের মত কিছু বই আনানো হলো, পরের বছর থেকে পোস্টাপিসের দুয়ারে গিয়ে হাজিরা দিতে হবে নিশ্চিত।

পড়ছি
---------------



একসাথে কয়েকটি বই পড়তে শুরু করা আমার স্বভাব। গত সপ্তা নাগাদ শেষ করে উঠলাম কিছু। মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘ও’ পড়া হলো। মোটামুটি লাগলো পড়ে। সব কটি গল্পের শুরুই চমৎকার, কিন্তু শেষটুকু আর সুন্দর থাকেনি কেন জানি। প্রথম দু’টি গল্প পড়ে আমার এমনও মনে হলো, হায়, শেষমেষ জাফর ইকবাল স্যারও বাজে গল্প ছাপাতে শুরু করলেন?

অতীন বন্ধ্যোপাধ্যায়ের পঞ্চাশটি গল্পের সংগ্রহ শুরু করেছিলাম, পড়ছি এখনও। এনার লেখা আগে পড়িনি। এখন পড়তে গিয়ে মনে হচ্ছে, লেখার ভঙ্গি রীতিমতন মনোমুগ্ধকর। ছেঁড়া পাজামা নামের গল্পটি পড়ে একদম শিউরে উঠলাম! একেবারে অন্তর ছুয়ে গেলো! গল্পের শেষ লাইন বা শেষ প্যারায় চমক দেয়ার একটা অভ্যাস খেয়াল করলাম লেখকের, কিন্তু এটা নিয়মিত কিনা সেটা আরো পড়ার পরে বলতে পারবো।

রাহাত খানের অমল ধবল চাকরি পড়ছি। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সদস্য হবার প্রথম দিকের কোন মাসে পড়েছিলাম তাঁর দিলুর গল্প। গল্পটা এখন আর সঠিক মনে নেই, কিন্তু সেই কিশোর বয়সে সাংঘাতিক ভাল লেগেছিলো এটুকু মনে আছে। অমল ধবল চাকরি পড়তে পড়তে লেখককে মনে মনে লম্বা সেলাম ঠুকলাম। এত স্মার্ট ভাষা, এত স্মার্ট ভাবনা সেই আদ্যিকালে কোন জাদুবলে যে আমাদের রাহাত খান আর মাহমুদুল হকেদের পকেটস্থ ছিলো কে জানে! বইটা শেষ করতে করতেই রাহাত খান যে আমার প্রিয় লেখকদের তালিকায় উঠে আসবেন সন্দেহ নেই।

স্টিফেন কিং এর লেখা একটা নন-ফিকশান বই পড়লাম- ‘অন রাইটিং’।  
কিং মূলত হরর থ্রিলার লেখক। আমার পড়াপড়ির অভ্যেসের শুরু রূপকথা আর সেবার থ্রিলারগুলো দিয়েই। তাই এখনও চটপট চানাচুর-ভাজার মত থ্রিলার পড়ে ফেলতে বেশ পছন্দ করি। অন রাইটিং বইটা লেখালেখির উপরে। ক্রিয়েটিভ রাইটিং এর উপরে এর আগেও বেশ কিছু বই পড়েছি, কিন্তু সেসবের সাথে এই বইটার অনেক পার্থক্য রয়েছে। ঐ বই গুলো মূলত উপদেশে ভরপুর। এটা করা চাই, ওটা কিন্তু নয়। কিন্তু কিং এই বইটায় সেসব থেকে অনেক দূর দিয়ে হেঁটেছেন। বইটার প্রথম ভাগে তার নিজের লেখকজীবনের শুরুর কথা আছে। কেমন করে, এবং কোন পারিপার্শ্বিকতার ভেতর থেকে তার ভেতরের লেখক স্বত্তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো সেসবেরই বর্ণনা সেখানে। এটুকু বেশ আত্মজীবনীর মত করে পড়ে ফেলা যায়। বইয়ের শেষভাগে কিছু না-দিলেই-নয় উপদেশ রয়েছে। কিন্তু সেটাও এমনই আপন আপন স্টাইলে দেয়া যে পড়ে মনে হয় না লেখালেখির ক্লাস করছি। সবমিলিয়ে বেশ ভাল একটা বই।

অতীন আর রাহাত খানের সাথে ব্যালেন্স করার জন্যে কাল থেকে শুরু করেছি জন গ্রিশামের ‘দি ফার্ম’।

টানটান উত্তেজনা একেবারে যাকে বলে। আপাতত ৬২ পৃষ্ঠায় আছি। পড়ছিলামই খানিক আগেও, এর মাঝে হঠাৎই মনে হলো, যাই লোকজনদের খানিক বিরক্ত করে আসি গিয়ে।
অতঃপর আর কি, তাই হেতু এই জ্বালাতন-ধর্মী ব্লগের জন্মলাভ। :)

বুধবার, নভেম্বর ০৭, ২০১২

বাংলা ইবুক

বাংলা ইবুক নিয়ে নানারকম পরীক্ষা নিরিক্ষা চালিয়েই যাচ্ছি। হাতে অবশ্য গিনিপিগ আছে একটাই, আমার সবেধন নীলমণি কাঠের সেনাপতি
ইবুকের বাজারে বাংলা বই একসময় সদর্পে ঘুরে বেড়াবে, এরকমটাই প্রত্যাশা করি। এখনকার ইন্টারনেট আর টেকি যুগে ব্যাপারটা খুবই সহজ। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি পরবর্তীতে কখনও বই বের করলে প্রিন্টেড এডিশানের সাথে সাথে ইবুক এডিশানেও বই প্রকাশ করবো। 

আমি যেটা করেছি, সেটা একটু লিখে রাখি, উৎসাহী কারো কাজে লাগবে আশা করি।

কিন্ডল ফর আইপ্যাড
প্রথমেই স্ম্যাশওয়ার্ডস ডট কমে একটা একাউন্ট করে নিয়েছি। এটা ফ্রি। ওদের ওখান থেকে বই বিক্রি করলে কিছু কমিশন কেটে রাখে ওরা, এমনই সহজ শর্তে একাউন্ট খুলে ফেলা যায়। আমার কাছে খুবই ব্যবহার-বান্ধব লেগেছে সাইটটি। আরেকটা কারণ হলো, বইটা যদি ওদের প্রিমিয়াম ক্যাটালগে অন্তর্ভুক্ত হবার জন্যে কোয়ালিফাই করে তাহলে সেটা শুধু ওদের সাইটেই নয়, একই সাথে কিন্ডল, আইবুক বা ন্যুক এর স্টোরেও ওরা বইটা বিক্রির জন্যে পাঠিয়ে দেয়। কোয়ালিফাই করাটা অবশ্য কষ্টসাধ্য কিছু নয়, ওদের বলে দেয়া নিয়মগুলো মেনে বই প্রকাশ করলেই সাধারণত হয়ে যায়।

একাউন্ট খোলার পরে মূল বইটাকে এমএসওয়ার্ডের ডক ফাইলে কিছু ঘষামাজা করে নিতে হয়। বেস্ট আউটপুট যেন আসে, সেটা নিশ্চিত করতে ওদের নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু ফর্ম্যাটিং করে নিতে হয়। পুরো প্রক্রিয়াটায় ঘন্টাখানেকের বেশি দরকার হয় না। ফর্ম্যাটিং এর মূল বিষয়গুলোও একেবারেই সোজা।

 আমি খানিকটা লিখে রাখি-
১। ফন্ট- পুরো বইয়ের ফন্ট সাইজ একই করে নেয়া ভালো। 
২। প্যারাগ্রাফ স্টাইল- এটা যেন পুরো বইয়ে একই থাকে। প্রতি প্যারাগ্রাফের শুরুতে এন্টার কী- চেপে দেয়া স্পেসগুলো না রাখাই ভাল। বরং ওয়ার্ডের অপশানে গিয়ে প্যারাগ্রাফ স্টাইলে এটা ঠিক করে দিতে হয়।
৩। ছবি- কাভার বা আর কোন ছবি যোগ করতে চাইলে খেয়াল রাখতে হবে যেন এটা ফ্লোটিং ইমেজ না হয়। অর্থ্যাৎ, ছবি প্রোপার্টিজে গিয়ে এটাকে ইন লাইন উইথ টেক্সট হিসেবে সেট করে দিতে হবে। 
৪। পেইজ ব্রেক- এটা অবশ্য আমার নিজের বুদ্ধিতে করা। এক চ্যাপ্টারের শেষের সাথে পরের চ্যাপ্টারের শুরু গুলিয়ে ফেলতে না চাইলে ওয়ার্ডের পেইজ ব্রেক অপশান ব্যবহার করাই ভালো। এটা কাজে লাগে প্রিন্টার্স লাইন বা লেখক পরিচিতির পাতাটাকে আলাদা করার জন্যেও। 

আসলে যারা ইবুক প্রকাশ করতে চাইবেন তাঁদের উচিৎ পুরো ম্যানুয়ালটি একবার পড়ে ফেলা। 

আইবুক
ফর্ম্যাটিং এর পরে ফাইলটি প্রস্তুত হয়ে গেলে স্ম্যাশওয়ার্ডের একাউন্ট থেকে আপলোড করে দিলে ওটা নিজে থেকে বিভিন্ন ফর্ম্যাটে কনভার্ট হয়ে যায়। ইপাব, মোবি, পিডিএফ, আরটিএফ, টেক্সট, পামডক ইত্যাদি নানা ফর্ম্যাট, এমনকি অনলাইনের পড়ার উপযোগি ভার্সানেও। বইয়ের দাম নিজের ইচ্ছেমতো ঠিক করা যায়, এমনকি চাইলে ফ্রি-ও করে দেয়া যায়। সম্ভাব্য পাঠকেরা যেন বইটির কিছু পাতা স্যাম্পল হিসেবে নামিয়ে দেখতে পারেন, সেই সুবিধাও আছে সেখানে।

বাংলা ফন্ট নিয়ে সবসময়েই কিছু গোলমাল থেকে যায় অবশ্য। এখানেও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। আমার বইটার ইপাব ফর্ম্যাট খুবই চমৎকার এসেছে, কিন্তু স্ম্যাশওয়ার্ডের করা মোবি ফাইলটায় দেখি কিছু ফন্ট ভেঙ্গে গেছে। পরে অবশ্য এই সমস্যারও সমাধান করতে পেরেছি। ক্যালিব্রে সফটওয়্যার দিয়ে স্ম্যাশওয়ার্ডের করা ইপাব থেকে মোবি-তে কনভার্ট করতেই দেখি কী তামশা, সব ফকফকা! একদম চমৎকার ইবুক হয়ে দাঁড়িয়েছে বইটা। 

আমার কিন্ডল রিডার নেই অবশ্য, পড়াপড়ির সব কাজ আইপ্যাড দিয়েই চালিয়ে দিই।
দুটা স্ক্রিণশট দিলাম আইপ্যাড থেকে। 

পরিশেষে, বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার সকল লেখক ও প্রকাশকদের ইবুকের অপার সম্ভাবনাময় জগতটি ঘুরে ফিরে দেখার অনুরোধ জানাই। 

সোমবার, অক্টোবর ২৯, ২০১২

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৫, ২০১২

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়-এর লেখা আগে পড়িনি খুব একটা। শুনেছিলাম ঈশ্বরের বাগানের কথা। অলৌকিক জলযান কি ওনারই? সম্ভবত।
আপাতত ওনার ছোটগল্প পড়া শুরু করলাম, পড়তে অদ্ভুত ভাল লাগছে।

শুক্রবার, মে ০৪, ২০১২

কাঠের সেনাপতি'র ই-বুক ভার্সান

সুখবর! 'কাঠের সেনাপতি' বইটির ইবুক ভার্সানও এখন কিনতে পাওয়া যাচ্ছে।
তিন ফর্ম্যাটে বইটি পাওয়া যাচ্ছে- ইপাব, মোবি ও পিডিএফ।
যেসব ডিভাইসে বইটি টেস্ট করা হয়েছেঃ
১/ আইপ্যাড - আইবুক, কিন্ডল রিডার এপ।
২/ পিসি- উইন্ডোজ সেভেন- এডাবি, ফক্সিট ও কিন্ডল রিডার।
৩/ এন্ড্রয়েড ফোন (স্যামসাং গ্যালাক্সি এস টু, এস থ্রি)- এডাবি, কিন্ডল রিডার, পোলারিস অফিস।
৪/ আইফোন ৪- কিন্ডল রিডার এপ।

বইটির ই-ভার্সানের মূল্য রাখা হচ্ছে USD$ 1.99
পে-পাল বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করা যাবে।
বইটি কিনতে হলে ক্লিক করতে হবে এখানে-
অথবা নিচের লিংকে-
স্ম্যাশওয়ার্ডস ডট কম

এছাড়াও, আগের মতই, বইটির হার্ড-কপি পাওয়া যাচ্ছে নিচের দুটি ওয়েবসাইটে-
১/ রকমারি ডট কম
২/ বইমেলা ডট কম 
mobi version- Kindle for iPad


বইটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে ক্লিক করুন এখানে- কাঠের সেনাপতিঃ আমার প্রথম বই।





epub version- iBook for iPad
Test: Kindle for PC
Test: Kindle app for Android


এক বি-রা-ট সুসংবাদ :D


ছোটবেলায় সিনেমায় দেখেছিলাম নায়ক জসিম দৌড়ে দৌড়ে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ে বলছে, মা, মা, দেখো,আমি ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছি!

জীবনের প্রায় মাঝবরাবর এসে, আমি একসময়ের রবিউল থেকে শরীর-স্বাস্থ্যে মাশাল্লাহ জসিমে এসে দাঁড়িয়েছি। এই ‘সুবিশাল’ প্রাপ্তি উদযাপনেরই সম্ভবত একটা সুযোগ করে দিলো রকমারি ডট কম। তাদের কল্যাণে আমি জসিমের মতই আপ্রাণ দৌড়ে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ে বলতে পারছি, জনগণ দেখো দেখো, আমি সেকেন্ড হয়েছি। :D

অনেক ভূমিকা হলো, এবারে তাহলে আসল ব্যাপার বলেই ফেলি। ঘটনা হলো এই যে রকমারি ডট কমের আয়োজিত রিভিউ প্রতিযোগে আমি অংশগ্রহণ করেছিলাম, একটু আগেই তাঁরা ইমেইল মারফত জানালো যে আমার করা রিভিউগুলো তাঁদের বিবেচনায় দুই নম্বুরি প্রতীয়মান হয়েছে। থুক্কু, আই মিন, প্রতিযোগিতায় ২য় স্থান অর্জন করেছে। এই শুনে আনন্দে আত্মহারা হয়ে আমার মুখের হা বড় হতে হতে কপাটি লেগে গেছে!

রকমারি ডট কম সম্পর্কে একটুখানি বলি, ওয়েবসাইটটি খুব সম্প্রতিই আত্মপ্রকাশ করেছে। এবং এই রকমারির রকম-সকম দেখে আমি মোটামুটি বিমোহিত। বাংলাদেশের ভেতরে এরা ঘরে বসে বই পাবার চমৎকার সুযোগ করে দিচ্ছে। ক্রেডিট কার্ড বা অনলাইনে পে করার সুবিধা যেখানে অপ্রতুল, সেখানে তারা, বলা যায় বেশ অভিনব ও সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে, বইয়ের মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থা হিসেবে তারা রেখেছে ক্যাশ অন ডেলিভারি সিস্টেম। অর্থাৎ ফোনে অথবা অনলাইনে অর্ডার দিলে তাঁরা বাড়ির দোরগোড়ায় বই পৌঁছে দিয়ে যাবে, এবং বই হাতে পেলেই কেবল টাকা পরিশোধ করতে হবে।

এই চমৎকার সুবিধা দেখে আমি মনে মনে বেশ হা-পিত্যেশ করেছি। ছোটবেলার কথা বারবারই মনে পড়ে যাচ্ছিলো যখন আমি কুমিল্লায় থাকতাম এবং সারা বছর ধরে অপেক্ষা করতাম একুশের বইমেলার। বছরে একবারই ঢাকায় এসে মনের আনন্দে গাদা গাদা বই কিনে নিয়ে যেতাম। ভাবছিলাম এখন দেশে থাকলে বেশ হতো, ঘরে বসেই মনের ইচ্ছেমতো লিস্ট বানিয়ে রকমারি ডট কম মারফত অর্ডার দিতাম, আর যখন ইচ্ছে তখনই নিজের খুশিমতন বইমেলা বানিয়ে ফেলতাম।

এই জমানার বইপড়ুয়াদের সৌভাগ্যের জন্যে তাই রইলো একরাশ হিংসা, সেই সাথে রকমারি ডট কম-কে জানাই অনেক ধন্যবাদ ও শুভকামনা। তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। 

রবিবার, এপ্রিল ১৫, ২০১২

প্রবাসে নববর্ষ ১৪১৯

আই হেইট ভেজিটেবলস,
লাল শাক, পুঁই শাক, বৈশাখ;
সবই ধুর, ইশ, বিস্বাদ!
তবু, থাক,
যারা ভালো পান, তাদের জন্যে গাই এ গান,
যা, যা তবে, দূর দেশে গিয়ে মর, হে বৈশাখ।

সোমবার, ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০১২

মেহেদী হক এর বই - কার্টুন আঁকিবার ক, খ, গ এবং ক্ষ


দেশে যাবার আগে আগে মেহেদী হক-কে জানালাম, দেশে আসছি, আপনার প্রকাশিত ‘কার্টুন আঁকিবার ক, খ, গ এবং ক্ষ’ বইটি সংগ্রহ করতে চাই। উপায় কী? তিনি জানালেন আপাতত কোন দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না। কাঠপেন্সিল মানে প্রকাশক, উন্মাদ পত্রিকার অফিসে অথবা খোদ লেখকের কাছ থেকেই সেটা সংগ্রহ করতে হবে। আমি বললাম, তা-ই সই। লেখা শেষ হবার আগেই ফুটনোট হিসেবে আমি এখানেই জানাতে চাই, মেহেদী হক-এর এ বইটি আমার জানামতে, বাংলাদেশের প্রথম কার্টুন আঁকা শেখার বই।

মেহেদী হক হচ্ছেন আমাদের এই প্রজন্মের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল কার্টুনিস্টদের একজন। নিয়মিত আঁকছেন সাপ্তাহিক বুধবার, নিউ এইজ এবং কার্টুন পত্রিকা উন্মাদে। যদিও একাডেমিক যোগ্যতায় তিনি নগর ও অঞ্চল বিষয়ক প্রকৌশলী, কিন্তু আসলে তিনি একজন পুরোদস্তুর আঁকিয়ে।

কার্টুন বলতে ছোটবেলায় টিভিতে প্রচারিত এনিমেশানগুলোকেই বুঝতাম। সেসময় পড়া কমিকসগুলোও ছিলো আমাদের কাছে কার্টুন বই। আরেকটু বড় হলে, র’নবী-র টোকাই দিয়ে পরিচিত হয়েছি সত্যিকারের কার্টুনের সাথে। তারপরে কার্টুন দুনিয়ার একক কান্ডারী ছিল উন্মাদ পত্রিকা। আর এই মুহুর্তেতো বাংলাদেশে কার্টুনের বেশ জয়জয়কার। জাতীয় পত্রিকার সাপ্লিমেন্টগুলোয় মূলত কার্টুনই থাকে বেশি, এবং প্রথম পাতা-র ‘রাজনৈতিক কার্টুন’-এর ধারণাটিও প্রায় সব কটি জাতীয় পত্রিকায়ই বেশ জনপ্রিয়।

মিডিয়ার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত নই বলে সঠিক পরিসংখ্যান আমার জানা নেই। কিন্তু আমার ধারণা, বাংলাদেশের অনেক তরুণ তরুণীই এখন কার্টুনের দিকে ঝুঁকছেন। এখন, যারা স্বভাবজাত কার্টুনিস্ট নন, বরং সেটা শিখে আয়ত্ব করতে চান, তাদের জন্যে বাংলাদেশে আসলে কার্টুন শেখাবার কোন প্রতিষ্ঠান নেই। মেহেদী হক-এর কারণেই জানতে পারলাম উন্মাদ-ই নাকি বছর কয়েক ধরে কার্টুন শেখার একটা ওয়ার্কশপ চালাচ্ছে। সুতরাং, আপাতত সেটিকেই বলা যায় হবু-কার্টুনিস্টদের জন্যে সবেধন নীলমণি। আর সেই সাথে নীলমণি হিসেবে যুক্ত হলো মেহেদী হক-এর এই বইটিও।

কুরিয়ারে করে বইটি হাতে পাওয়ার পরেই গোগ্রাসে পড়ে ফেললাম। যদিও এটি আসলে ঠিক পড়ার বই নয়, পড়তে পড়তে অনুশীলনের বই।

বইটির প্রচ্ছদ চমৎকার। হবু-কার্টুনিস্টরা দেখামাত্রই নিজেকে এই খালি চেয়ারটিতে কল্পনা করে নিতে উৎসাহী হবেন। সন্দেহ নেই।


একজন কার্টুনিস্টের রসবোধ সাধারণ মানুষদের তুলনায় খানিকটা বেশি হবে বলেই আশা করা যায়, মেহেদী হক সেই আশা মিটিয়েছেন শতভাগ। বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে আহসান হাবীবকে, অতঃপর নিচে টীকা-র মাধ্যমে মেহেদী লিখেছেন, “ আশা করি উন্মাদ ম্যাগাজিনের চাকুরী এইবেলা আরো পোক্ত হলো।”  এটুকু দেখে আমার মুখের হাসি আকর্ণ বিস্তৃত হলো, এবং তারপরে সেটা সেখানেই পাকাপাকি হলো যতক্ষণ না আঁকিয়ের লেখা ‘ভূমিকার টুমিকা” পড়ে শেষ করলাম। :)

উৎসর্গ পাতায় আমার জন্যে একটা ছবিও এঁকে দিয়েছেন তিনি, দেখে আপ্লুত হলাম।

বইটি মূলত দু’ভাগে ভাগ করা। একদম নবীনদের জন্যে “ক, খ, গ” অংশ। আর এডভান্সড লেভেলারদের জন্যে “ক্ষ” অংশ।

নবীনদের জন্যে তৈরি করা অংশটায় খুব চমৎকারভাবে ধাপে ধাপে কার্টুন কী করে আঁকতে হয়, তা শেখানো হয়েছে। পেন্সিল বা বলপেন নির্ভর সহজাত আঁকিয়েরা যখন কার্টুন আঁকবেন বলে মনস্থির করেন, তখন প্রথমেই যে সংশয়ে ভোগেন তা হলো ‘কী দিয়ে আঁকব”? মেহেদী ঠিক এই শিরোনামেই একটা চ্যাপ্টারে সেটা সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন।

তারপরের ধাপগুলো হচ্ছে বেসিক শেইপ, মানে চরিত্রের মাথা কেমন হবে, গোল লম্বা নাকি চারকোণা, অতঃপর চেহারা, মানে চোখ নাক মুখ। একের পর দুর্দান্ত সব ছবি ও তার সাথে সাথে মজার সব বর্ণনার মাধ্যমে সেসব তুলে এনেছেন মেহেদী।

আমি সূচীপত্রের একটা ছবি তুলে দিই বরং। আগ্রহীরা তাহলে এখনই একটা ধারণা পেয়ে যাবেন বইটা হাতে নিলে তারা কী কী শিখতে পারবেন।

নাক মুখ এবং মাথা বানানো শেখা হয়ে গেলে কার্টুনিং এর পরের ধাপ হচ্ছে সেগুলোকে একটা মানুষের ধড়ে বসিয়ে দেয়া। এই কাজটার শুরু হয় কাঠি মানুষদের দিয়ে। বইটিতে কাঠি-মানুষ এঁকে কার্টুন-মানবের বেসিক বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। তারপরে এসেছে সেই কার্টুনকে নানা রকম একশানে দেখানো, যেমন দৌড়, হাঁটা বা অন্য কোন শারিরীক ভঙ্গি।

বইটির আরও কিছু চমৎকার দিক হচ্ছে আলো ও ছায়ার ব্যাখ্যা। কার্টুন নিয়ে আরেকটু এগুতে চান যারা তাদের জন্যে ডায়লগ বাবল ও লেটারিং বিষয়ক খুঁটিনাটি।

ব্যাক্তিগত ভাবে আমার সবচেয়ে পছন্দ হয়েছে ড্রাপারি আর ফোরশর্টেনিং চ্যাপ্টার দুটো। যেখানে খুবই সহজ ভঙ্গিতে বলা হয়েছে জামা-কাপড়ের ভাঁজ কীভাবে আঁকতে হয় এবং কাগজের সমতলে কী করে সামনে-পেছনের অনুভুতি ফুটিয়ে তুলতে হয়।

আরেকটি অনুচ্ছেদের কথাও বিশেষভাবে বলতেই হয়, যেখানে দেশী-বিদেশী চেহারা কীভাবে আঁকে আর তাঁদের মূল বৈশিষ্ঠ্য বা পার্থক্যের নির্দেশনা দেয়া। আমার ধারণা, বিশেষ করে এই চ্যাপ্টারটি আমাদের দেশীয় কার্টুনিস্টদের খুবই উপকারে আসবে।

নবীনদের অংশের পরে এডভান্সড অংশ অর্থ্যাৎ ক্ষ-তে আরেকটু গভীরে আলোচনা করা হয়েছে মানবদেহের এনাটমি, এবং স্কেল আর অনুপাতের মত জটিল বিষয়গুলো, অবশ্যই অতি সহজ ভাষায়।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার পরে আমি বলবো, যে কোন বয়েসী বাংলাভাষী হবু-কার্টুনিস্টদের জন্যে এটি একটি অবশ্যপাঠ্য বই। ইংরেজিতে এরকম বই অনেক রয়েছে, কিন্তু বাংলায় এবং এত মজার ভঙ্গিতে কার্টুন শিখতে পারার সুযোগ মিস করা ঠিক নয়। আমি এই বইটি নিজের জন্যে কিনে নিয়ে এসেছি, এবং আরেকটা  উপহার দিয়ে এসেছি আমার দশ বছর বয়েসী ভাগ্নেকে।

ভাগ্নের জন্যে দেয়া বইটি আবার স্বয়ং মেহেদী হক এর হাত থেকে পাওয়া। সেই পিচ্চির জন্মদিন ছিলো পরদিনই, কুরিয়ারে পাঠালে একদিন দেরি হয়ে যাবে পৌঁছুতে, এ কারণে আমাকে রীতিমতন বিস্মিত করে দিয়ে তিনি বই নিয়ে নিজেই চলে এসেন বাসায়!

বইটি এই বই মেলায় পাওয়া যাচ্ছে উন্মাদ পত্রিকার স্টলে। চমৎকার ছাপা ও বাঁধাইয়ের বইটির গায়ের মূল্য ২৫০ টাকা। মেলায় বোধহয় কমিশন বাদে দাম দাঁড়াবে ২০০ টাকা। বই সংক্রান্ত এবং তাঁরচেয়ে বড় কথা কার্টুন সংক্রান্ত যে কোন রকম যোগাযোগ করা যাবে মেহেদী হকের ব্লগস্পটের ঠিকানায়

টীকা- একঃ কার্টুন শেখার জন্যে বাংলা ভাষার প্রথম এই চমৎকার বইটির এই দুর্বল রিভিউ লেখা হয়েছে মেহেদী হকের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে। তিনি মাইন্ড খাইলেও আমার কিস্যু করার নাই, আমি পাঠক-স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।

টীকা- দুইঃ বইয়ের স্ক্যান করা ছবিগুলোও এখানে দেয়া হয়েছে আঁকিয়ে মহাশয়ের বিনানুমতিক্রমে। অবশ্য এই ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যাকফুটে আছি, কপিরাইট মামলার হুমকি দেয়া হলে সাথে সাথে সেগুলো সরিয়ে নেয়া হবে, iPromise.

টীকা- তিনঃ বইয়ের ভেতরের প্রথম পাতায় মেহেদী হকের নিজের একটা ক্যারিকেচার দেয়া আছে। বইটি দিয়ে আমার বাসা থেকে চলে যাবার পর আমার বউ অবাক স্বরে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, ছেলেটা দেখতে এত সুন্দর কিন্তু নিজের ক্যারিকেচার এমন পঁচা করে এঁকেছে কেন?
সুতরাং আগ্রহী বালিকাদের জানাই নির্দ্বিধায় এই বইটি কিনতে পারেন, কারন বইটির আঁকিয়ে-লেখক সার্টিফায়েড সুদর্শন। :)

মঙ্গলবার, জানুয়ারী ০৩, ২০১২

এন্ড্রয়েড অথবা স্যামসাং গ্যালাক্সী এস২-তে বাংলা লেখার হাতুড়ে পদ্ধতি-


মোবাইলে বাংলা পড়ার জন্যে অপেরা মিনি-র কোন তুলনা নাই। কিন্তু বাংলা লেখার জন্যে ভাল কোন সমাধান এখনও পাওয়া যায়নি। আমি একটা জোড়াতালি-মার্কা উপায় বের করেছি, যেটা দিয়ে কোন মতে কাজ চলে। লেখা যায় ঠিকঠাক, পড়াও যায়, শুধু যুক্তাক্ষরগুলোতে একটু সমস্যা করে। এ জন্যেই এই পদ্ধতির নাম হাতুড়ে পদ্ধতি। :)
এই পদ্ধতির দুটা ধাপ-

১/ প্রথমে ফন্ট ইন্সটল। রুট করে ফন্ট ইন্সটলের একটা উপায় আছে, কিন্তু সেটা বেশ খানিকটা ভীতিকর, আমি তাই সে পথে পা মাড়াইনি। রুট করা ছাড়াই ফন্ট ইন্সটলের একটা সহজ উপায় আছে এখানে-
http://www.halalit.net/blog/archives/bangla-font-android

২/ ফন্ট ইন্সটল হয়ে গেলে এবার কী-বোর্ড। এটা সহজ। এন্ড্রয়েড মার্কেটে ‘Mayabi Keyboard’ লিখে সার্চ করলেই এপস্‌ চলে আসবে। ওটা ইন্সটল করে নিলেই হবে। 

তারপর আর কী, হ্যাপি বাংলা টাইপিং! :)